নগরীতে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু || ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া

আপডেট: মে ১৬, ২০১৭, ৩:২১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে শুরু হয়েছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রি। গতকাল সোমবার সকাল থেকে নগরীর পাঁচটি পয়েন্টে ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি চলছে। এছাড়া ডিলাররাও উত্তোলন করেছেন বরাদ্দকৃত পণ্য। আসছে রমজানে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সকাল থেকে নগরীর পয়েন্টগুলো থেকে সাধারণ ক্রেতাদের ট্রাক থেকে ক্রেতারা লাইন ধরে  টিসিবি’র পণ্য কিনেছেন। ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
টিসিবি বলছে, মাসব্যাপি পণ্য বিক্রি কার্যক্রম চলবে। নির্ধারিত পয়েন্টগুলোয় প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ট্রাকে পণ্য বিক্রি হবে। বিক্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। প্রতিট্রাকে ১ হাজার ৪৫০ কেজি পণ্য বিক্রি করা হবে।
নগরীর নওদাপাড়া এলাকা, রেলগেইট, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, লক্ষ্মীপুর মোড় এবং বিনোদপুর পয়েন্টে পণ্য নিয়ে ট্রাক নামানো হয়েছে। এর বাইরে নগরীতে থাকছে আরো ৮১জন ডিলার। দোকান থেকে পণ্য বিক্রি করবেন তারা। এছাড়া রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলায় দুটি করে ট্রাকে পণ্য বিক্রি চলছে। এর বাইরে বিভাগের উপজেলা পর্যায়ে সবমিলিয়ে ৩৭৭ জন ডিলারের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির কথা।
এতথ্য নিশ্চিত করে টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক অফিস প্রধান ও উপ উর্ধ্বতন কার্যনির্বাহী প্রতাপ কুমার জানিয়েছেন, ট্রাকে করে গতকাল সকাল থেকে পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রথম দিনই নির্ধারিত ডিলারদের ৪১ জন বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন করেছেন। আগামী দু’একদিনের মধ্য অন্যরাও পণ্য উত্তোলন করবেন। এ বছর পণ্যের মান অনেক ভালো জানিয়ে তিনি বলেন, এবছর খোলাবাজারে চিনি ৫৫ টাকা, প্রতি লিটার সয়াবিন ৮৫ টাকা, ছোলা কেজি প্রতি ৭০ টাকা, মশুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। একজন ভোক্তা সর্বোচ্চ ৩ কেজি চিনি, ৩ কেজি মসুর ডাল, ৫ কেজি ছোলা এবং ৫ কেজি সয়াবিন তেল ডিলারদের কাছ থেকে নিতে পারবেন। পণ্যমূল্য বাজার মূল্যের চেয়ে কম হওয়ায় প্রথম দিনেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। পণ্যের গুণগত মান ভালো হওয়ায় ডিলাররাও বরাদ্দকৃত পণ্য উত্তোলন করছেন।
পণ্য বিপণনে এখনো কোন অভিযোগ পাননি উল্লেখ করে প্রতাপ কুমার বলেন, পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম ঠেকাতে তারা প্রথম থেকেই তৎপর। টিসিবি কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম দেখভাল করছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসনেরও একটি টিম মাঠে রয়েছে। পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম পেলে জড়িতদের ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে গতকাল নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন ক্রেতারা। তবে সেখানে তেল বাদে সব পণ্য দুই কেজি করে বিক্রির কথা জানিয়েছেন তারা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাহিদামত পণ্য না পাওয়ায় হতাশ অনেকেই।
বিষয়টি স্বীকার করে টিসিবির উপউর্ধ্বতম কার্যনির্বাহী প্রতাপ কুমার বলেন, ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি  হওয়ায় সবার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতেই এমনটি হয়েছে। তবে আগামীতে এটি আর থাকবে না। চাইলে যে কেউ আবারো পণ্য কিনতে পারবেন। এবার পণ্য বিক্রিতে প্যাকেজ সিস্টেম নেই। যে কেউ যে কোন পণ্য নিতে পারবেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ