নগরীতে ট্রাক চাপায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত ৩

আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ

 

 

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আজাহার আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজশাহীতে ট্রাক চাপায় গতকাল রোববার পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এবং অন্য দুইজন পুঠিয়াতে নিহত হন। পরবর্তীতে লাশগুলো নিকটাত্মীয়দের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। নগরীতে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম আজাহার আলী (৫৮)। পুঠিয়ায় ভ্যানচালক হোসেন আলী (৫৫) ও নীলিমা কর্মকার (৫৬) নামে ভ্যানের এক যাত্রী নিহন হন।
আজাহার আলী পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) একজন উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে তিনি নিহত হন। আর মাত্র এক বছর চাকরি ছিল তার। নিহত এসআই আজাহারের গ্রামের বাড়ি জেলার বাগমারা উপজেলার ভানচিপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত ওয়াহেদ আলী।
নগরীর রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, এসআই আজাহার আলী মোটরসাইকেল নিয়ে সকালে কাশিয়াডাঙা এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যান। এরপর ফেরার পথে ওই এলাকাতেই একটি ট্রাক (কুমিল্লা ট-১১-০০৭৩) তাকে পেছন থেকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা এসআই আজাহারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আর জানান, নিহত এসআইয়ের মরদেহ নিকটাত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর নগরীর শাহমখদুম থানা পুলিশ ঘাতক ট্রাক ও এর চালক সাঈদ হাসানকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত চালক সাঈদ নগরীর উপকণ্ঠ নবগঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিহত পুলিশ কর্মকর্তা দুই পুত্র সন্তানের জনক। তার ছেলে আবু রায়হান রনি নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং অপর ছেলে মাসুদ রানা জনি নগরীর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একই শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অপরদিকে, রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কে পুঠিয়া উপজেলায় ট্রাকে ধাক্কায় নিহত হোসেন আলী পুঠিয়ার জিউপাড়া এলাকার মৃত চয়ন সাহের ছেলে ও নীলিমা একই এলাকার টগর কর্মকারের স্ত্রী। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, একটি ট্রাক রাজশাহী থেকে নাটোর যাওয়ার পথে পুঠিয়ার সেনপাড়া নামক স্থানে পেছন থেকে ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে চালক হোসেন ও যাত্রী নীলিমা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহত হোসেন আলী ও নীলিমাকে উদ্ধার করে পুঠিয়া সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই নীলিমাও সেখানে চিকৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ মামলা দায়ের করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ