নগরীতে তীব্র গরমে প্রশান্তি দিচ্ছে শরবত ও ডাব

আপডেট: মে ১৭, ২০২২, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রাণবন্ত নগরী রাজশাহী। আর এই নগরীতে জমেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ভিড়। সারাদিন কর্মব্যস্ত শ্রমিকেরা দুরন্ত গতিতে জীবিকার জন্য ছুটে চলেছেন। অনেককেই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে গাছের শীতল ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

এদিকে ভ্যাপসা গরমে ছুটে চলা মানুষদের প্রশান্তি দিচ্ছে বেল, ঘোল ও লেবুর শরবত। পাশাপাশি আখের রস ও ডাবের চাহিদাও লক্ষ্য করা গেছে।

সরেজমিনে সোমবার ( ১৬ মে) দুপুর থেকে বিকেল লক্ষ্মীপুর মোড়, সাহেববাজার, গণকপাড়া, ভদ্রা মোড়সহ কয়েকটি জনবহুল জায়গায় ডাবের পাশাপাশি শরবত পান করতে আসা লোকদের লম্বা সারি দেখা গেছে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, শ্রমিক, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শরবত পান করে তাদের তৃষ্ণা মিটাচ্ছেন।

এই গরমে তৃষ্ণা মেটাতে ঠান্ডা এক গ্লাস শরবতে যেন প্রাণ ফিরে পায়। কয়েকটি পানীয় ও ফল বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, গরমে শরবত ও রসের চাহিদা ব্যাপক।

বিকেল ৪ টায় গণকপাড়া মোড়ে বেলের শরবত বিক্রি করছিলেন ইদ্রিস আলী। তিনি জানান, ৭০ বছর জীবনে ৪৫ বছর ধরে শরবত বিক্রি করছেন। বিভিন্ন ধরনের ফলের মধ্যে কলা, বেল, তাতেলা, পেঁপে, রুহ আফজা ও এলোভেরা দিয়ে শরবত তৈরি করছেন। অন্যদিকে তিনি লাচ্চি তৈরি করেন।

প্রতি গ্লাস লাচ্চি ৪০ টাকা, পেঁপে, এলোভেরা, বেল ও কলার শরবত ৩০ টাকা, মিক্সড শরবত ২০ টাকা, ওলট কম্বল শরবত ১০ টাকা গ্লাস বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ গ্লাস শরবত বিক্রি করেন বলে তিনি জানান।
শরবত খেতে আসা কাউসার বলেন, শরীরকে ভালো রাখার জন্য ফলের শরবতের ওপর কিছু আছে বলে মনে করি না। তাই যখনই ক্লান্ত হই, শরবত পান করি।

কুমারপাড়া মোড়ের ঘোল বিক্রেতা গৌড় জানান, ঘোলের চাহিদা রোজার পরেও কমেনি। তবে শীতকালে কমে যাবে। প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৩০ গ্লাস ঘোল বিক্রি হচ্ছে। শ্রমিক শ্রেণি ও পথচারীরা বেশি ঘোল পান করছেন। প্রতি গ্লাস ১০ টাকা।

বিকেল ৩ টায় সাহেববাজারে লেবু শরবত বিক্রি করছিলেন সনি। তিনি জানান, লেবুর রসের শরবত তৈরিতে লেবু, ইস্পি, বিট লবণ, চিনি, গ্লুকোজ ও লবণের প্রয়োজন হয়। প্রতি গ্লাস লেবুর শরবতে ৪ টাকা করে লাভ হয়। প্রতিদিন ৯০ থেকে ৯৫ গ্লাস বিক্রি হয়। সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ পর্যন্ত টানা শরবত বিক্রি করেন।

সাব্বির নামের এক শিক্ষার্থী জানান, স্কুল ছুটি হলেই লেবুর শরবত পান করি। ইস্পি আর লেবুর সংমিশ্রণ আমার শরীরে অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসে। এক গ্লাস পান করলেই প্রশান্তি পাই।

শুধু শরবতই নয়, বিক্রি হচ্ছে ডাবও। চিকিৎসকদের মতে ডাব স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। ডাব বিক্রেতা জারমান আড়ানী থেকে নিয়ে আসা ডাব প্রতিদিন ৭০ টির বেশি বিক্রি করেন। অন্যদিকে, আখের রস বিক্রি করছেন রবিউল। তিনি বলেন, প্রতিদিন ২০০ গ্লাস আখের রস বিক্রি হয়। প্রতি গ্লাস রস ১০ টাকা।

প্রচ- ও শারীরিক প্রশান্তি দিতে বিনোদপুর, তালাইমারি, ভদ্রা মোড়, আলুপট্টি মোড়, এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বর, নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন জায়গার ফুটপাত ও মোড়গুলোতে ঠান্ডা শরবত, আখের রস ও ডাব দেদারসে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ