নগরীতে ‘তুর্কি চা’ ভিন্ন স্বাদে তুষ্ট ক্রেতা

আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২২, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

এস আলী দূর্জয় :


চায়ের প্রস্তুত প্রণালিতেই ফুটে উঠেছে ভিন্ন এক সৌন্দর্যের। সুক্ষ্ম নান্দনিক কারু কাজের পিতলের পাত্রে চা প্রস্তুতের যাবতীয় উপকরণ দিয়ে উত্তপ্ত বালুর মাঝে পাত্রটি নাড়ানো হচ্ছে। আর এভাবেই একসময় উত্তপ্ত হয়ে প্রস্তুত হচেছ ভিন্ন স্বাদের তুর্কি চা। যা এরইমধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই চা তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘন দুধ, পেস্তাবাদামসহ বিশেষ তুর্কি মসলার সংমিশ্রণ। মূলত বিশেষ এই মিশ্রণের ঘ্রাণ ও স্বাদ নিতেই ভিড় জমাচ্ছেন সৌখিন চা প্রেমিরা। বিশেষ এই চায়ের প্রতিকাপের দাম নেয়া হচ্ছে ৪০ টাকা।

শুধু চায়ের স্বাদেই নয়; দোকানের নাম করণেও ব্যবহার করা হয়েছে পারস্যের ছোঁয়া। তুর্কি এই চা দোকানের নাম ‘ট্যারফ’। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘আপ্যায়ন’। আর এই ধারণা থেকেই দোকানের নামকরণ দোকানের উদ্যোক্তারা।

নগরীর কাদিরগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে দোকানটির অবস্থান। ব্যতিক্রমি কিছুর করার ভাবনা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মালিহা আহমেদ ও পলিটেকনিকের শিক্ষার্থী মাহির আসিফ হাসান অক্ষর দুই বন্ধু মিলে এই চায়ের দোকান গড়ে তুলেছেন।

শুধু চা নয়; ছোট্ট দোকানটির সাজ-সজ্জাও বৈচিত্রময়। দেয়াল ও ছাদজুড়ে লাল, নীল, হলুদ, কমলা রঙে নকশা করা হয়েছে। এসব সজ্জার কোনো কিছুই পেশাদার কাউকে দিয়ে করানো হয় নি। নিজেরাই ইউটিউব থেকে টার্কিস রেস্টুরেন্টের ডিজাইন দেখে ধারণা নিয়ে গড়ে তুলেছেন তাদের স্বপ্নের ‘ট্যারফ’।

প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চায়ের পাশাপাশি এখানে শিঙাড়া, সমুচা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফুচকাসহ বিভিন্ন নাস্তা পাওয়া যায়। তবে শীতের জন্য ঠান্ডা পানীয় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। আর এসবের মধ্যে ক্রেতাদের চাহিদা বেশি ‘তুর্কি চা, তুর্কি দুধ চা’ এর।

বারিন্দ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী আসিফা আসরাফি চার বান্ধবী মিলে তুর্কি চা এর স্বাদ নিতে এসেছিলেন। তারা জানান, দোকনটি প্রথম উদ্বোধনের পর থেকেই তারা প্রায়শই এখানে আসেন। এখানকার চায়ের স্বাদটা অন্য জায়গার থেকে ভিন্ন মনে হয়।

তুর্কি চায়ের স্বাদ নিতে আসা আরেকজন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, রাজশাহীতে এর আগে কখনো এমন নামের বা স্বাদের চা দেখি নি। আর ভিন্ন স্বাদের চা পান করা তার একটি শখ। আর সেই শখের জায়গা থেকেই তিনি এমন চায়ের বিষয়ে জানতে পারলেই সেখানে যান। এখানে এসে তিনি হতাশ হন নি। খুবই ভালোলেগেছে এই চায়ের স্বাদ।

মাহির আসিফ হাসান অক্ষর বলেন, ব্যতিক্রমি কিছু করে সাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয় থেকেই এই দোকান গড়ে তোলা। তারা দুই বন্ধু মিলে আগে থেকে এটার পরিকল্পনা করেছিলেন। করোনা পরবর্তীতে গত জুনের দিকে এই গড়ে তুলেছি। এখন পর্যন্ত খুব ভালো সাড়া পেয়েছি।

মাহির আরও বলেন, আমাদের তুর্কি চা খেতে দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই আসছেন। শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী, বৃদ্ধসহ সকল বয়সের মানুষই এই চায়ের স্বাদ নিতে আসছেন। তবে সবচেয়ে বেশি কিশোর-কিশোরীরা আসেন। আর চায়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সিঙ্গারার চাহিদাও খুবই ভালো। অনেকেই আগে অর্ডার দিয়ে নিয়ে যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ