নগরীতে দিনভর বৃষ্টি, বিঘ্নিত জনজীবন ফুলের ক্ষতি-ফসলের আর্শিবাদ বলছেন কৃষিবিদ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২২, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


মাঘের ঠান্ডার সঙ্গে ঝরছে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। মেঘলা আকাশে তেজি বাতাস। এতে দিনভর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকলেও শীতের অনুভূতিটা ছিলো বেশি।

 

বৃষ্টি-বাতাস আর তীব্র শীতের অনুভূতিতে শুক্রবার (৪ জানুয়ারি) জনজীবন গুটিয়ে যায়। হাট-বাজার, যানচলাচলে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু ফসলের জন্য এই দিনের আবহওয়াটা ছিলো আর্শিবাদ। যদিও ফুল ধরেছে এমন ফসলের জন্য কিছুটা ক্ষতি হওয়ার আশংকা করছেন কৃষিবিদরা।

‘যদি বর্ষে মাঘের শেষ, ধন্য রাজা পূর্ণ দেশ’ অর্থাৎ মাঘের শেষে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে অধিকাংশ ফসলের জন্য তা আর্শিবাদ হয়-খনার এই প্রবাদ তুলে ধরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরজমিন) সিরাজুল ইসলাম জানান, মাঘ মাসের মাঝামাঝির পরে যে বৃষ্টিটা দেখা যায় তা ফসলের জন্য উপকারী। তবে এই বৃষ্টি কয়েকদিন স্থায়িত্ব হলে তা ক্ষতির কারণ হবে।

আর রুক্ষ পরিবেশের মধ্যে রাজশাহীতে এরমধ্যে তো তেমন কোনো বৃষ্টি হয় নি। এই বৃষ্টি ফসলের সামন্য কিছু ক্ষতি করলেও অধিক ক্ষেত্রে তা উপকারী। এখন গাছে ফুল আছে এমন ফসলের জন্য সামান্য কিছু ক্ষতি হতে পারে। তবে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এটা তেমন কোনো ক্ষতির কারণ হবে না।

এদিকে, নগরীতে থেমে থেমে সারাদিনই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হতে দেখা যায়। বিকেলে কিছু সময়ের জন্য সূর্যকে উঁকি দিতেও দেখা যায়। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নি।

বৃহস্পতিবার দিবগত রাত সাড়ে ৩ টার দিকে এই বৃষ্টি শুরু হয়। এর আগের কয়েক ঘণ্টা শীতের অনুভূতি অনেকটাই কম ছিলো। তবে বৃষ্টি শুরু হলে শীতের অনুভূতি বাড়তে থাকে। রাত সাড়ে ৩ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত নগরীতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ১ দশমিক ২ মিলি মিটার। সকাল ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিন মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ২৪ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

বৃষ্টির সঙ্গে ছিলো দমকা হাওয়া। নগরীতে সকাল ও সন্ধ্যা ৬ টাই বাতাসের পরিমাণ একই ছিলো। সারাদিনই প্রায় ৯৬ শতাংশ বাতাদের আর্দ্রতার পরিমাণ রেকর্ড করেছে রাজশাহী আবহওয়া অফিস।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যৈষ্ঠ পর্যবেক্ষক এসএম গাউসুজ্জামান জানান, শুক্রবার নগরীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটা সকাল ৬ টার দিকে ছিলো। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ১৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিন তাপমাত্রা খুব বেশি কম না হলেও বাতাসের কারণে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আকাশে মেঘ ও বাতাস দুটোই আছে। মেঘ যদি কেটে যায় তাহলে আবহাওয়া শনিবার স্বাভাবিক থাকবে। অন্যথায় এদিনও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।

মাঘে আষাঢ়ের মতো থেমে থেমে এই বৃষ্টিতে বিপাকে পড়ে ছিন্নমূল, খেটে-খাওয়া মানুষ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তেমন কাউকে বাইরে বের হতে দেখা যায় নি। আর রাস্তায় যানবাহন কম থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

মোহনপুর:
মোহনপুর উপজেলার সকল মাঠেই এখন সরিষা পেকেছে। অনেক কৃষকরা ইতোমধ্যে সরিষা ঘরে তুলেছে। এখনও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জমির সরিষা খেতেই রয়েছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে তারা সময়িক ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন। আবার এই বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে আলু ও পান বরজে ছতাকের আক্রমনের শঙ্কায় আছেন চাষীরা। তবে বোরোধান, রসুন, করলা ও পেঁপে, পটল চাষীরা এমন বৃষ্টিতে খুশি।

মোহনপুর উপজেলার আমরাইল গ্রামের কৃষক মিলন হোসেন জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে মাটি তোলা পান বরজের ক্ষতি করতে পারে। খেতের পাকা সরিষারও ক্ষতি হবে। আমার বরজে গতকাল সেচ দেয়া হয়েছে।

আজকের বৃষ্টিতে পান গাছ মরে যাওয়ার সম্ভাবনাও আছে। হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক শফিকুল জানান, খেতে আমার রসুন রয়েছে। এখন রসুনের বাড়ন্ত সময়। এখন গোড়ায় পানি দিতে হয়। এজন্য এ বৃষ্টিতে রসুনের অনেক উপকার হবে।

মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রহিমা খাতুন বলেন, মাঘের বৃষ্টিতে ফুল-ফসলের ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি। উঠতি ফসলগুলোর কিছুটা ক্ষতি হলেও অধিকাংশ ফুল-ফসলের পাতার ময়লা পরিষ্কার ও জীবানু দুর হবে। এতে মৌসুমী ফসলের ফলন ভাল হবে।

নাটোর:
নাটোরেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি শুক্রবার প্রায় সারাদিনই অব্যাহত ছিলো। বৃষ্টির সাথে ছিল হিমেল বাতাস। দেখা মেলে নি সূর্যের। ঠান্ডায় জুবুথুবু ছিলো জনজীবন। তবে এই বৃষ্টিতে ফসলের উপকার হবে বলে জানান কৃষকরা। তারা বলছেন, বৃষ্টির পানিতে বিশেষ করে কলা, ভুট্টা ও পিঁয়াজসহ রবি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের বেশ উপকার হবে।

নাটোর উপর বাজারের অটো চালক আলম জানান, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও তীব্র শীত উপেক্ষা করে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। শহরে একটি যাত্রীও বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না। বৃষ্টি ও শীতের মধ্যে কাবু হয়ে পড়েছি। তাই গাড়ি বন্ধ করে বাড়িতে বসে আছি।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপÍরের উপ-পরিচালক মাহমুদুল ফারুক জানান, দীর্ঘদিন নাটোরে কোন বৃষ্টিপাত হয়নি। আজ যে বৃষ্টি হয়েছে তার পরিমাণ ১৫-২০ মিলি লিটার। এতে কৃষকের উপকার হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ