নগরীতে নারীদের আয়োজনে মাতৃছায়ার দুর্গোৎসব

আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৯, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর কুমারপাড়ায় নারীদের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে মাতৃছায়া দুর্গোৎসব সোনার দেশ

‘চার বছর আগে তার হাত ধরেই প্রথম পূজা উদযাপন হয় মাতৃছায়া ম-পে। ঘোড়ায় চড়িয়ে ঘটা করে তিনি প্রথম দেবী দুর্গাকে মাতৃছায়া ম-পে বরণ করেছিলেন। করেছিলেন মায়ের অকালবোধন। পূজা-অর্চনার মাধ্যমে মাকে করেছিলেন তুষ্ট। তারপর নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে বিজয়া দশমীতে ঘোড়ায় চড়িয়ে মায়ের বিসর্জন। তারপর আর মাকে বরণ করা হয়নি তার।
বলছি কুমারপাড়ার মিতা রাণী দাসের কথা। প্রথম পূজা উদযাপনের কিছু দিন পর হঠাৎ তিনদিনের জ¦রে মারা যান তিনি। এরপর পরবর্তী বছর পূজা উদযাপন শঙ্কার মুখে পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত পূজার আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়নি। তার অনুপ্রেরণায় একদল নারীর উদ্যোগে এবছরও আয়োজন করা হয়েছে দুর্গা উৎসবের। রঙিন আলোয় সেজেছে ম-প। ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল, সুগন্ধী, আগরবাতি আর ধুপের ধোঁয়ায় মুখরিত ম-প। আলোকসজ্জার মাঝে পঞ্চপ্রদীপের আলোয় দেবী দুর্গার রূপের ছটায় মুগ্ধ ভক্তরা।
মাতৃছায়া সংঘের আয়োজনে মাতৃছায়া ম-প প্রস্তুত করা হয়েছে। ২২ নারী সদস্যের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টায় তাদের এবারের আয়োজন। ‘মায়ের মতো ছায়া দিতে চাই’Ñ এমন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে মাতৃছায়া তাদের ধর্মীয় বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে। তবে এ উৎসব পালন হচ্ছে সার্বজনীনভাবেই। সকল ধর্মের মানুষের পদচারণা তাদের আয়োজনে। এবার তাদের আয়োজন করতে খরচ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ চব্বিশ হাজার টাকা।
গতকাল সোমবার নগরীতে নানা আনুষ্ঠানিতার মাধ্যমে মহানবমী উদযাপন করা হয়েছে। উচ্চ ভলিউমের বিভিন্ন গানে মুখরিত ছিলো ম-পের পরিবেশ। নগরীর অন্যান্য ম-পের চাইতে অন্য রকম আয়োজনে নারীদের মিলনমেলা বসে মাতৃছায়া ম-পে। নাচে-গানে মুখর ছিল ম-প। সকালের আয়োজনে ছিল আবাহন, দুপুরে ছিল দেবীর মধ্যাহ্ন ভোগ, সন্ধ্যায় আরতি। সকালে দেবীর ভোগ হিসেবে ছিল মিষ্টি, খির, ছানা, মাখনসহ বিভিন্ন ফলফলাদি। দুপুরে বিভিন্ন পদের অন্নপ্রসাদ। রাত্রে লুচি, সুজি ও বিভিন্ন পদের নাড়। এছাড়া আলোকসজ্জিত ম-পে ঢাকের তালে নারীদের ধুনচি নাচের আয়োজন মন কেড়েছে সবার।
মাতৃছায়ার সভাপতি বিজলী দাস বলেন, আমাদের নারীদের এমন আয়োজন প্রশংসার। আমরা এখানে বাইশজন নারী সদস্য আছি। এতগুলো নারীর সমন্বয়ে এমন আয়োজন উৎসবে অন্য মাত্রা তৈরি করে। আমরা সবাই মিলে আনন্দ করি, নাচি- এতে খুবই ভালো লাগে। আর এখানে আমরা কয়েক ঘর হিন্দু ধর্মাবলম্বী বসবাস করি। পাশে অন্যান্য ধর্মের মানুষ আছে। তাদের সহযোগিতা সত্যিই খুব ভালো। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একসাথে আমরা উৎসবে মেতে উঠেছি। প্রতিবছর আমরা নারীরা ঢাকের তালে নাচি, আনন্দ করি। তবে আগামী বছর আমরা নাচের প্রতিযোগিতার আয়োজন করবো। আমরা মিতা দেবীর স্মরণে চার বছর থেকে এখানে পূজার আয়োজন করি। মিতা দেবী আমাদের অনুপ্রেরণা।
মাতৃছায়ার সদস্য নিতা রাণী দাশ বলেন, এবারের আনন্দ আমাদের চাওয়ার চাইতে বেশি। মাকে আমাদের ম-পে বরণ করতে পেরে আমরা অনেক খুশি। আমরা অনেক আনন্দ করছি।
মাতৃছায়ার আরেক সদস্য রীতা দাসের স্বামী স্বপন দাস বলেন, মেয়েদের এমন আয়োজন ভালো লাগছে। আমরাও তাদের সহযোগিতা করছি, তবে সম্পূর্ণ ক্রেডিট মেয়েদের। তাদের আয়োজন কে আমরা সাধুবাদ জানাই।
প্রতিবেশী আব্দুস সালাম মোল্লা লিটন বলেন, আমরা তাদের আয়োজনে সহযোগিতা করি। তাদের উৎসবে আনন্দ করছি। সবমিলিয়ে সুন্দর পরিবেশে পূজা উদযাপন হচ্ছে।
মাতৃছায়া ম-পসহ সকল ম-পের নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন মাতৃছায়া সংঘের সদস্যরা। তারা জানান পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সব সময় ম-পে থাকছেন। আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর পরিবেশে আমরা দুর্গা উৎসব পালন করছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ