নগরীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্বাভাবিক

আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীর বাজারগুলোতে স্বাভাবিক রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। নতুন ভাবে কোন পণ্যের দাম হ্রাস-বৃদ্ধি হয় নি। তবে গত ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বৃদ্ধি পাওয়া চাল, চিনি ও গুড়া দুধ এবং তেলের দাম এখনও কমেনি। এতে ক্রেতাদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট এর জন্য দায়ী বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
তিন সপ্তা পূর্বে নগরীর বাজারগুলোতে চিকন স্বর্ণা ও আটাশ চালসহ সবধরনের চালের দাম প্রতিকেজিতে দুই টাকা থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে গুড়া দুধের দাম প্রতিটি পাঁচশ গ্রামের প্যাকেটে ৩০ টাকা করে বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে লিটারে ৫ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া স্বাভাবিক রয়েছে শাক-সবজি এবং মাছ-মাংশ ও ডিমসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।
গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়ার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গেল তিন সপ্তাহের ন্যায় চিকন স্বর্ণা চাল গতকালও বিক্রি হয় প্রতিকেজি ৩৬ টাকা দরে। প্রতিকেজি ৩৪ টাকা দরে গুটি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও আটাশ চাল প্রতিকেজিতে চার টাকা বেশি দরে প্রতিকেজি ৪৬ টাকায়, মিনিকেট চাল কেজিতে তিন টাকা বেশি দরে ৫০ টাকায়, বাসমতি ও চিনিগুড়া আতব চাল কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বেশি দরে ৬০ ও ৮০ টাকায় বিক্রি হয়। আটা প্রতিকেজি ২২ টাকা থেকে ২৩ টাকা দরে বিক্রি হয়।
টানা তিন সপ্তা ধরে বাজারে বেশি দামে চাল বিক্রির বিষয়ে বাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ধানের দাম বেশি। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটা অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি করেছে। সেই জন্য বেশি দামে বাজারে চাল বিক্রি হচ্ছে। তবে ধানের দাম কমলে চালের দাম কমতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন বিক্রেতারা।
সাহেববাজার মাস্টারপাড়ার সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ সপ্তাহে বাজারে ফুলকপি, আলু ও লেবুর দাম, কমেছে, শশা, টমেটো, কল্লা ও লাউ সহ সবধরণের শাক-সবজির দাম স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। আমদানি ভালো হওয়ায় দাম স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে বলেও জানান তারা।
মাস্টারপাড়ার সবজি ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন ও শাহিনুর ইসলাম শাহিন বলেন, বাজারে গত সপ্তার ন্যায় গতকালও ফুলকপি প্রতিকেজি ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা দরে, আলু প্রতিকেজি ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায়, লেবু রকমভেদে প্রতি হালি ১০ টাকা থেকে ১৬ টাকায়, শশা প্রতিকেজি ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকায়, টমেটো ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা দরে, করল্লা প্রতিকেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা দরে আর লাউ প্রতিপিচ ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হয়। তবে বাজারে নতুন পণ্য এসেছে সজনে ডাটা। সেটার দাম একটু বেশি। সজনে ডাটা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে।
মাস্টারপাড়ার সবজি ব্যবসায়ীরা আরো জানান, বাজারে প্রতিকেজি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকা থেকে ২০ টাকা, আদা ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা, রসুন ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা, গাজর ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, ছিম ২০ টাকা, বেগুন ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা এবং প্রতিপিস বাঁধা কপি ৫ টাকা থেকে ৬ টাকা আর চাল কুমড়া ৫০ টাকা। এছাড়াও লাল শাক ও সবুজ শাক প্রতিকেজি ১৫ টাকায়, পালং শাক প্রতিকেজি ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকায় আর কলমির শাক প্রতিকেজি বিক্রি হয় ২০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
এদিকে মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, তিন সপ্তা আগে বাজারে বৃদ্ধি পাওয়া গুড়া দুধ ও তেলের দাম এখনো কমেনি। বাজারে বর্তমানে প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকায়, পূর্বে যার দাম ছিল ৮৬ টাকা লিটার। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতিলিটার বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, পূর্বে যার দাম ছিল ৯৫ টাকা।
এছাড়াও বাজারে দেশি মটর ডাল প্রতিকেজি ১৮০ টাকা, মসুর ও মুগ ডাল ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা, বুটের ডাল অষ্ট্রেলিয়ান প্রতিকেজি ১০০ টাকা আর দেশি ১২০ টাকা, কালাই ডাল ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংশ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিকেজি গরুর মাংশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৪৪০ টাকায় আর খাশির মাংশ ৬৫০ টাকা থেকে ৭২০ টাকা দরে। এদিকে সোনালি মুরগি ২২০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ টাকা, দেশি মুরগি ৩০০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা আর লেয়ার মুরগি ১৬০ টাকা এবং কক মুরগি ২১০ টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হয়। এছাড়াও প্রতিহালি মুরগির সাদা ডিম ২৬ টাকা আর লাল ২৮ টাকা দরে বিক্রি হয়।
অন্যদিকে বাজারের মাছ বিক্রেতা সাহাবুর জানান, বাজারে গতকাল মিরকা মাছ ১৬০ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ১২০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা, রুই মাছ ১৮০ টাকা ১৯০ টাকা, কাতল মাছ ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা, ব্রিগেট মাছ ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা, বাসপাতা মাছ ৭৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, পাবদা মাছ ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা এবং ইলিশ মাছ ১২শ টাকা থেকে ১৬‘শ টাকা দরে প্রতিকেজি বিক্রি হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ