নগরীতে প্রবাসীর স্ত্রীর রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২২, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :


রাজশাহী নগরীতে এক সৌদি প্রবাসীর দ্বিতীয় স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ আগস্ট) বেলা ১০ টার দিকে নগরীর দাশপকুর ডিসির মোড়ে ভাড়া বাসা থেকে ওই নারীর রক্তাক্ত মরাদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে উদ্ধারকৃত লাশ হন্তান্তর করা হয়েছে।

মৃত রুপালি খাতুন (২৫) সৌদি প্রবাসী হারুন অর রশিদের স্ত্রী। রুপালি নগরীর দাশপকুর ডিসির মোড় এলাকায় মোসাদ্দেকুর রহমানের বাসার দ্বিতীয় তলায় একাই ভাড়া থাকতেন। স্বামী হারুন নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মির্জাপুর ভাবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। আর নিহত রুপালি বাগমারা উপজেলার বাজিয়াকোলা গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, রুপালি একাই ওই বাসায় থাকতেন। তার কোনো সন্তান নেই। শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে বাড়ির মালিকের বড় ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক ফজরের নামাজের জন্য অযু করতে গেলে সিঁড়িতে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়ির অন্যদের খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে বাড়ির মালিকের স্ত্রী লাভলী বেগম পুলিশ কে খবর দিলে রাজপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

বাড়ির মালিকের স্ত্রী লাভলী বেগম জানান, তার বড় ছেলে ফজরের সময় নামাজের জন্য অযু করতে গেল সিঁড়ির নিচে গেটের সামনে বিবস্ত্র অবস্থায় মরদেহ পড়ে ছিলো। লাশ দেখে সে তাদেরকে জানান। তারা বিবস্ত্র মরদেহটি ওড়না দিয়ে ঢেকে দিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ নিয়ে যায়।

লাভলী বেগম আরও জানান, তার স্বামী বিদেশে থাকায় মোবাইলে কথা বলতো সেটা তারাও শুনেতে পেতেন। বাইরের কেউ যাওয়া আসা করত না। তবে স্বামীর সাথে যোগাযোগ থাকলেও ঝগড়াঝাটি প্রায় হতো।

এদিকে নিহত রুপালি খাতুনের ভাই রফিকের অভিযোগ, তার ভগ্নিপতি দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে থাকে। তার বোনের সাথে ঝগড়াঝাটি লেগেই থাকতো। তার বোন হারুন অর রশিদের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাকে ভাত দিবে না বলে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাতো। রাজশাহীতে তার অন্য স্ত্রীর শ্যালকরা থাকে। তার প্রথম স্ত্রীও এই হত্যার সাথে জড়িত থাকতে পারে। তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে রাজপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, খবর পেয়েই তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। যেখানে সিঁড়িতে লাশ পড়ে ছিলো। পরে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এরপর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বাড়ির তিনতলা থেকে পড়ে গেছেন। আবার কেউ ফেলেও থাকতে পারেন। পুলিশ মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট না। তবে বাড়ির মালিকসহ ছেলেদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়াও চলমান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ