নগরীতে প্রশ্নপত্র জালিয়াতে সক্রিয় চক্র

আপডেট: অক্টোবর ১৫, ২০১৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নগরীতে অনুষ্ঠিত পাবলিক ও চাকরি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে বিভিন্ন চক্র সংগঠিত রয়েছে। এই চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, বডি বদল করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও ভর্তির সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে গ্রেফতার হলেও বন্ধ হচ্ছে না প্রশ্নপত্র জালিয়াতি। ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে প্রশ্নপত্র জালিয়াতির মূল হোতারা।
সম্প্রতি গত ৮ অক্টোবর মেডিকেল পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার দায়ে রাজশাহী ওয়াসার প্রকৌশলী ও রয়েল কোচিং সেন্টারের পরিচালক সোহেল রানা ডনসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তারা সবাই বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
প্রতিবছর প্রশ্নপত্র জালিয়াতের সঙ্গে যুক্তদের অনেকে গ্রেফতার হলেও বন্ধ হয়ে যায় নি প্রশ্নপত্র জালিয়াতি। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, প্রশ্নপত্র যাতে কোনো ধরনের জালিয়াতি না হতে পারে এইজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। তারা বিভিন্নভাবে প্রশ্নপত্রের জালিয়াতি চক্রের সঙ্গের যুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম বলেন, মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র সরবরাহের দায়ে ১১ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবসময় এই বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। প্রশ্নপত্র জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত যে কাউকে পেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামিতে ২৪ অক্টোবর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও ২৬ অক্টোবর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ক্যানডিডেট (প্রার্থী) খোঁজা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন মেসগুলোতে খুবই গোপনীয়তার সঙ্গে এই প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্র কাজ করছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি প্যাকেজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েটে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভর্তির ব্যবস্থা নিয়েছে জালিয়াতি চক্র। এদের মধ্যে আছে পরীক্ষার পূর্বের রাত্রে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র দেয়া, বডি বদল করে পরীক্ষা দেয়া, পাশাপাশি সিট নিয়ে পরীক্ষা দেয়া এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া। ক্ষেত্র বিশেষে প্রতি প্যাকেজ প্রতি একজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর নিশ্চয়তায় এক থেকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করা হচ্ছে।
প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র জালিয়াতির দায়ে আটক হয় জালিয়াতি চক্র। গতবছরও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার জালিয়াতির দায়ে বেশ কয়েকজন আটক হয়। এবছর যাতে এরকম কোনো ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
নগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও রুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র জালিয়াতির যাতে কোনো ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এইজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা কাজ করছি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য প্রফেসর ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, গতবছরের চেয়েও আমরা এই বছর শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছি। পরীক্ষায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল ইসলাম বেগ বলেন, রুয়েটের ৫২ বছরের ইতিহাসে এরকম ঘটনা কখনো ঘটে নি। ফলে আমাদের প্রস্তুতি সেরকম থাকে। এটা যেহেতু গোপনীয় বিষয় ফলে এটা আমরা ডিসক্লোজ করি না।

বুলবুল

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ