নগরীতে ফ্লাইওভারের উদ্বোধন আগস্টে !

আপডেট: জুন ১৮, ২০২২, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


আগামি আগস্ট মাসের মধ্যে শেষ হবে রাজশাহী নগরীর মেহেরচন্ডি এলাকার ফ্লাইওভারের কাজ। এতোমধ্যে ফ্লাইওভারটির ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ১৫ শতাংশ কাজ মাত্র দেড় মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাহলে উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকছে এই ফ্লাইওভারটি।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) মাঝ বরাবর রেল ক্রসিঙের উপরে নির্মিত ফ্লাইওভারটির শেষ পর্যায়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানায়, ‘দিন-রাত সমান তালে পুরোদমে কাজ চলছে। এখন কাজ শেষ পর্যায়ে।’

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) ওয়ার্র্ক অ্যাসিসটেন্ট ইসমাইল হোসেন বাবু জানান, ফ্লাইওভার ছাড়াও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ফ্লাইওভারের দু’পাশে রাস্তা হবে। সেই রাস্তার কার্পেটিঙের ২০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। ২০ শতাংশ বাকি আছে দু’পাশে ড্রেনের কাজ। এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ডে গ্যাসের লাইন, পানির লাইন, ইন্টারনেট, টেলিফোন ও ডিশের লাইন দেওয়া হবে। এই কাজের ৩০ শতাংশ বাকি রয়েছে। আর মূল ফ্লাইওভারের মাত্র ৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে স্লাাপ ঢালাই, রোড ব্যারিয়ার, ডিভাইডার ঢালাই।

তিনি আরো বলেন- যে কাজ আছে তা আগামি দেড় মাসের মধ্যে শেষ হবে। ধারণা করা হচ্ছে এর আগেই শেষ হবে। করোনাসহ বিভিন্ন কারণে কাজটি থেমেছিল। আবার পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হবে এই কাজ।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানান, ‘এই ফ্লাইওভারটি চালু হলে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতে সুবিধা বাড়বে। সেই সঙ্গে কমবে ভাড়াও। একসময় রাবি-রুয়েটের মাঝের এই রাস্তা চালু ছিল। তখন এই রাস্তা ধরে খড়খাড়ি, রামচন্দ্রপুর, কানপাড়া, হাট গোদাগাড়ীর মানুষ চলাচল করতো। তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে মানুষ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখন ফ্লাইওভার চালু হলে আবার এই রাস্তাটি চলাচলে স্বাভাবিক গতি ফিরে আসবে।’

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে কাজটি শুরু হয় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে। এর আগে ২০১৭ সালে রাজশাহীর কাটাখালীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রকল্পের নাম ‘নাটোর রোড রুয়েট হতে রাজশাহীর বাইপাস রোড পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’। প্রকল্পের মেয়াদ দেওয়া ছিল ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড।

নগরীর কাজলা এলাকা থেকে খড়খড়ি বাইপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৪.৮০ কিলোমিটার। এর মধ্যে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের দৈর্ঘ্য ৮০৫ মিটার। ফ্লাইওভারটি নির্মিত হচ্ছে রেললাইনের ওপর দিয়ে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) উত্তর-পূর্ব দিক থেকে শুরু হয়ে রেললাইন পার হয়ে মেহেরচন্ডি পর্যন্ত।

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকল্প পরিচালক আব্দুল্লাহ আল তারিক জানান, ফ্লাইওভারটির ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো অল্প সময়ের মধ্যে শেষ হবে। প্রতিদিন শ্রমিক কাজ করছে।