নগরীতে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

আপডেট: জুন ৫, ২০২১, ৯:৫২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (বালক) ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের (বালিকা) উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৫ জুন) সকাল ১০ টায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার), বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মহানগর আ’লীগের (সিনিয়র) সহসভাপতি শাহীন আকতার রেণী , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, জেলা শিক্ষা অফিসার মোহা. নাসির উদ্দিন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি ও মহানগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ডাবলু সরকার, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহেদুন নবী অনু প্রমুখ।
বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা খেলাধুলা পছন্দ করতেন। কারণ খেলাধুলা মনকে সতেজ রাখে এবং সকল কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা যোগায়। এছাড়াও খেলাধুলার ফলে শারীরিক শক্তি ও মনোবল বৃদ্ধি পায়, যা করোনা মোকাবিলায় সহায়ক ভূমি পালন করে থাকে।
তিনি আরও জানান, পৃথিবীতে বেশিরভাগ দেশেই ফুটবল একটি জনপ্রিয় খেলা হওয়া সত্ত্বেও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি বা প্রচারের অভাবে ফুটবল অনেক পিছিয়ে পড়েছে। তাই বর্তমান সরকার তৃণমূল থেকে শুরু করে এ ধরনের খেলা আয়োজন এর মাধ্যমে মৃতপ্রায় ফুটবল খেলা কে আবার জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। এছাড়াও তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের টুর্নামেন্ট এর মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করছেন। তিনি ফুটবল খেলার পৃষ্ঠপোষকতার পিছনে অর্থ ব্যয় করছেন এবং বাংলাদেশে ফুটবলের যে গৌরব ও ঐতিহ্য ছিল, সেটা ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছেন। আমরা সেই গৌরবের অংশীদার হতে চাই। তাই রাজশাহীতে যে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন হচ্ছে সেটা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. হুমায়ুন কবীর।
বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহীন আকতার রেণী জানান, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন ক্রীড়ামোদী মানুষ। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর স্মরণে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে এই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (অনূর্ধ্ব-১৭)। একদিন এই খেলোয়াড়রাই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলবে, দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনবে, সেদিন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সার্থক হবে।
এছাড়াও তিনি আরও জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার মতো একজন ক্রিয়া প্রেমী মানুষ। তাই তিনি বিভিন্ন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে ভালো ফুটবল খেলোয়াড়দের তুলে আনার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন। সেই লক্ষ্যে আজ ৫ জুন, শনিবার রাজশাহী জেলায় মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হলো আন্তঃ জেলা পর্যায়ের খেলাটি। এই টুর্নামেন্টের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, আমাদের জাতির সাথে, বিবেকের সাথে, আত্মার সাথে, দেশের চেতনার সাথে যে দুইটি নাম একেবারে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত তাঁরা হলেন বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য দেশের অতি মহামারী করোনার মধ্যেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত আকারে খেলাটির আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়াও তিনি আরও জানান, এই খেলাটি আগামী ৯ জুন পর্যন্ত চলবে এবং খেলাটিতে বালক-বালিকা সহ ১৩ টি দল অংশগ্রহণ করবে। উদ্বোধনী খেলায় মোহনপুর ও বাঘা উপজেলা অংশগ্রহণ করবে। প্রত্যেকটি খেলোয়ারকে করোনা সার্টিফিকেট নিয়ে খেলার অনুমতি দেয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেকটি খেলা পরিচালিত হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি মো. ডাবলু সরকার জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফুটবল প্রেমী মানুষ ছিলেন। তিনি যুবক বয়সে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। এছাড়াও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের প্রতিটি সদস্য ক্রিয়া প্রেমী ছিলেন। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুটবল খেলাকে অনেক ভালোবাসেন।
দুটি মহান ব্যক্তিত্বের নামে আজকে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। যাদের কারণে আজকে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তারা হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। আমি তাদের গভীর শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করছি ও টুর্নামেন্টটির সার্বিক সফলতা কামনা করছি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, উদ্বোধনী খেলায় মোহনপুর উপজেলাকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়লাভ করে বাঘা উপজেলা দল। রাজশাহী জেলার মোট ১৩টি দল অংশগ্রহণ করবে এবং ফাইনাল সহ মোট ২২ টি খেলা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার (৫ জুন) থেকে বুধবার (৯ জুন) পর্যন্ত দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্ট চলবে এবং ৯ জুন ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হবে।