নগরীতে বাড়তি মাছ-মাংস-তেলের দাম

আপডেট: জানুয়ারি ২৮, ২০২২, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে শীতকালিন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কমেছে দাম। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ কম’র অজুহাতে বাড়তি মাছ-মাংসের দাম। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাংস কিনতে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। মাংসের স্বাদ নিতে নিম্নবিত্তদের বাজারে গিয়ে হাঁসফাঁস অবস্থা। শুধু মাংস না। রান্নার অন্যতম প্রধান উপকরণ তেলের দামও চড়া। প্রতি লিটারে প্রায় ৫ থেকে ৭ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টার পর নগরীর সাহেববাজার ও মাস্টারপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিক্রেতারা বলছেন, মাংসের দাম এখন বাড়তি। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সকল প্রকার মাংসের দামেই প্রভাব পড়েছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহে দাম কিছু না কিছু বাড়ছেই। গরুর মাংসের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। মাছের বাজারেও সরবরাহ কম থাকায় কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বাড়তি।

বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ টাকা ও খাঁসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে সাড়ে ৮০০ টাকা। সাহেববাজারের মাংস ব্যাবসায়ী সাইদুর রহমান জানান, হাটে গরুর দাম চড়া। তাই মাংসের দাম কমছে না। আর দাম কমার সম্ভাবনাও নেই।
ক্রেতা শামসুল হক জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এখন আমাদের নাগালের বাইরে। সপ্তাহে একদিন সবাই পরিবারের জন্য মাংস নিতে চায়। কিন্তু মাংসের দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। কমার কোনো বালাই নাই। আর প্রতি সপ্তাহেই দেখি দাম কিছু না কিছু বাড়ছেই।

মুরগির বাজারে দেশি মুরিগ বিক্রি হয়েছে ৩৯০ টাকা কেজি, সোনালী ২২০ টাকা কেজি, ব্রয়লার ১৫০ টাকা কেজি ও লেয়ার ২০০ টাকা কেজি।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ছোট বড় সকল মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকা। ছোট ইলিশ ৬০০-৮৫০ টাকা, মৃগেল ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, কাতলা ২৩০ থেকে ৩২০ টাকা, রুই মাছ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, সিলভার কার্প ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, বোয়াল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। নদী ও দেশি প্রজাতি শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গুচি মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, নদীর পিউলি মাছ ৮০০ টাকা, বাঁশপাতা এক হাজার, পাবদা ৭০০ টাকা, বড় আইড় ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা।

সাহেববাজারের মাছ বিক্রেতা শাহীন শাহ্ জানান, কিছু মাছের আমদানি কম। তাই দামটা একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল মাছের দাম আজ কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি।

মাছ ক্রেতা জাহানারা বেগম জানান, গত সপ্তাহে মাছের দাম বেশি ছিলো আজও বৃদ্ধি পেয়েছে। সকল মাছের দাম বেশি।
সবজিতে স্বস্তি ফিরেছে। বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৫ টাকা, পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, রসুন ৬০ টাকা, আদা ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪০ টাকা, শশা ৫০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, কলা প্রতি হালি ২০ টাকা, ব্রোকলি ২০ টাকা, টমেটো ৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা, শিম ৩০ টাকা, লাউ ৩০ টাকা।

সাহেববাজার এলাকার সবজি ব্যবসায়ী রমজান আলী জানান, রাজশাহীর আশেপাশের গ্রামের জমিগুলো থেকে বাজারে প্রচুর সবজি আমদানি হয়েছে তাই দাম কমেছে।

গত সপ্তাহের মত এ সপ্তাহে সকল মুদিপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। মুদির দোকানে গিয়ে দেখা যায়, সকল পণ্যের দাম স্থিতিশীল আছে। সাহেববাজারের শাহ আলম এন্ড সন্স স্টোরে গিয়ে দেয়া যায়, সাদা চিনি ৭৬ টাকা, দেশি চিনি ৮২ টাকা, মসুর ডাল ১২০ টাকা, সোনা মুগ ১৩৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকা লিটার। যা গত সপ্তাহে ছিলো ১৬০ টাকা। ৫ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ৭৮৫ থেকে ৭৯০ টাকা লিটার।

চালের বাজারে আঠাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৬ টাকা, মিনিকেট ৬২ টাকা, বাসমতি ৭২ টাকাসহ অন্যান্য চাল ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামে কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৩ টাকা হালি, সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা হালি।