নগরীতে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



গতকাল ছিল ভালোবাসার দিন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর জন্য নির্দিষ্ট একটি দিন। নগরীতেও এই দিনকে ঘিরে আনন্দে মেতেছিল তরুণ-তরুণী। প্রিয়জনের একটু ছোঁয়া, স্পর্শে প্রিয় মুহূর্তগুলোকে আনন্দময় করে তুলেছিল তারা। বন্ধুবান্ধব-পরিজন নিয়ে কাটানোর মুহূর্তগুলোও ফেলনা ছিল না। দিনটি উপলক্ষে বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। ছিল গান, নৃত্য, কৌতুক। সোমবার ছিল পহেলা ফাল্গুন। বসন্ত বরণ। এর পরের দিন ভালোবাসা দিবস। পহেলা ফাল্গুনে ছিল হলুদের সমন্বয়। ভালোবাসা দিবস লাল রঙের। ওই দিন নারীরা লাল রঙের শাড়ি ও পুরুষরা পাঞ্জাবি পরেছিল। ঘুরিয়ে বেড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, রুয়েট ক্যাম্পাস, পদ্মার চরসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। উপচে পড়া ভিড় ছিল বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। এসব কেন্দ্রে তরুণ-তরুণীরা ভিড় করলেও বাদ ছিল না শিশু ও বৃদ্ধরা। তারা গানে, গল্পে ও আড্ডায় ব্যয় করে তাদের মুহূর্তগুলো। তুলে সেলফি।
ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নগরীর ফুলের দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফুলের দোকানদারও দাম বাড়িয়ে দেয়। ১০ টাকার গোলাপ ফুল হয়ে যায় পঁচিশ টাকা। কথা হয় তামিম সৈকতের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিশেষ দিনে বিশেষ মানুষকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে ভালো লাগে। তাই দাম বেশি হলেও ফুল কিনি।
শুধু ফুলের দোকানেই নয়, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে নগরীর দোকানগুলোতে ভিড় জমায় ক্রেতারা। কেনেন উপহারসামগ্রী। দোকানদাররাও জানান, গত দুই দিনে বেচাকেনা ভালো হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরাই বেশি কিনতে এসেছে বলে জানান তারা। গত দ্ইু দিনে শো পিস, চুড়ি, কানের দুল, রিং, গলার হার, আংটি, ব্রেসলেট, ঘড়ি, ভ্যালেন্টাইন কার্ড, বিভিন্ন ধরনের শো-পিস, টাই, পারফিউম, বডি স্প্রে, ডায়েরি, হ্যান্ডওয়াচ, ফটোফ্রেম ও কাপড়ের তৈরি পান্ডা বেশি বিক্রয় হয়েছে বলে জানান তারা।
পদ্মার চরে ঘুরতে আসা তরুণ-তরুণী সাঈদ ও মিলি বলেন, প্রতিটি দিনই ভালোবাসার দিন। তারপরও মনে হয় একটা দিন নির্দিষ্ট থাকুক। যেদিন সব প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের প্রিয় মানুষদের সঙ্গে প্রিয় মুহূর্তগুলো কাটাবে। তাই এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপন।
কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী  অনু ও মুক্তার সঙ্গে। তারা বলেন, ভালোবাসা দিবসে পছন্দের মানুষের সঙ্গে ঘুরাফেরা করার মজাই আলাদা। সারাটি দিন এক সঙ্গে ঘুরাফেরা, ভালো একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া, সেলফি তোলাÑএই তো জীবন, তাই না?
নগরীতে ধুমধামের সঙ্গে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উদযাপিত হলেও ১৪ ফেব্রুয়ারি দিনটি নিয়েই রয়েছে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতামত। নেট থেকে জানা যায়, শফিক রেহমানের চেষ্টায় ১৯৯৩ সালে প্রথম ভালোবাসা দিবস আমাদের দেশে চালু হয়। তারপর ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পায় দিবসটি। প্রধানত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিবসটি জনপ্রিয়তা পায়। তবে এই দিন স্বৈরাচার পতন দিবস হিসেবেও পালন হয়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বী বলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস। এরশাদের আমলে শিক্ষার দাবিতে আন্দোলনে শহিদ হন ছাত্ররা। তখন থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করত ছাত্ররা। ছাত্রদের অধিকার আদায়ের সেই আন্দোলনকে ভিন্নখাতে চালিত করার জন্য ভালোবাসা দিবস পালন করা হয় বলে জানালেন তিনি।
রাজশাহী প্রেসক্লাব : ‘পরিবারকে ভালোবাসুন, দেশকে ভালোবাসুন ও দেশের মানুষকে ভালোবাসুন’  স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহী প্রেসক্লাব ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় ভালোবাসাকে ক্ষুদ্রগ-ি থেকে বৃহত্তরের দিকে দেশ মাতৃকার সেবায় কাজে লাগানোর আহ্বান জানান বক্তারা। সভার শুরুতে ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গণবিরোধী শিক্ষা কমিশন বাতিল দাবির মিছিলে গুলিতে নিহত জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, দীপালি সাহা ও কাঞ্চনসহ নাম না জানা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এছাড়া দিনটি শিক্ষানগরী রাজশাহীর রূপকার জননেতা মাদার বখশ্-এর ১১০তম জন্মবার্ষিকী। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় রাজশাহী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্ব এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার ইকবাল বাদল, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী গিয়াস, নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল আওয়াল আনসারী, রাজশাহী প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি আবু সালেহ মো. ফাত্তাহ ও তার সহধর্মিণী মিসেস ফাত্তাহ, সহ-সভাপতি শ.ম সাজু, যুগ্মসম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবুল হোসেন, উত্তরজনপদ সম্পাদক রাজনীতিবিদ গোলাম মোস্তফা মামুন, মুক্তিযুদ্ধের তথ্য সংগ্রাহক ওয়ালিউর রহমান, সাংবাদিক কাজী রকিব উদ্দিন, আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
ইয়ুথ সান : ‘সুন্দর পৃথিবী স্বপ্নে বিভোর, এসো ভালোবাসার বন্ধন গড়ি বদলে দেই ওদের জীবন’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে আনন্দ আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নগরীর ভদ্রা রেলওয়ে মাঠে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সামাজিক সংগঠন ‘ইয়ুথ সান’রাজশাহী শাখা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ইয়ুথ সান রাজশাহী শাখার টিম লিডার শুভ হাসান। অতিথি ছিলেন, দূর্গাপুর ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক আবদুস সামাদ মন্টু, সিরোইল কলনী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আফরোজ খাতুন, ইউসেপ বাঁশের আড্ডা সিটি করপোরেশন স্কুলের শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান এবং রেডিও পদ্মা ৯৯.২ এফএম’র প্রযোজক ও উপস্থাপক ওয়ালিউর রহমান বাবু।
অনুষ্ঠানে শিশুরা বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নেয় এবং গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা শিশুদের মাঝে পুরুষ্কার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করেন।