নগরীতে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত

আপডেট: মার্চ ২৫, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



নগরীতে বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে ‘ঐক্যবদ্ধ হলে সবে, যক্ষ্মা মুক্ত দেশ হবে’ প্রতিপাদে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজশাহী সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী জেলায় জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রন কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে, পরিচালক (স্বাস্থ্য) রাজশাহী বিভাগ ও সিভিল সার্জন রাজশাহীর উদ্যোগে এ র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যান্ডপার্টি, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড শোভিত র‌্যালিটি সিভিল সার্জন কার্যালয় হতে শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে লক্ষ্মীপুর মোড়ে এসে শেষ হয়।
র‌্যালিতে পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর কার্যালয়, সিভিল সার্জন এর কার্যালয়, বক্ষব্যাধি হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক, রাজশাহী সিটি করপোরেশন, ব্র্যাক, ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন, চ্যালেঞ্জ টিবি, সায়াপস্, তিলোত্তমা, রিক, আপস, লাইট হাউস প্রভৃতি বেসরকারি সংগঠন কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এরপর র‌্যালি শেষে লক্ষ্মীপুর মোড়ে মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, ডা. আমীর হোসেন সুপারিনটেনডেন্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতাল রাজশাহী।  আলোচনা সভায় এনজিও সমূহের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন, ফারুক হোসেন, আরিফ ইফতেখার প্রকল্প পরিচালক ডেমিয়েন ফাউন্ডেশন,  আনোয়ার জাহিদ তিলোত্তমা, নাসির উদ্দিন বিভাগীয় ব্যবস্থাপক ব্র্যাক, মো. কায়কুজ্জামান চ্যালেঞ্জ টিবি প্রজেক্ট, খন্দকার মো. নুরুল গণি টেকনিক্যাল এড্ভাইজার সায়াপস্ প্রমুখ।
এছাড়া বক্তব্য দেন, ডা. প্রদীশ বিশ্বাস মেডিকেল অফিসার সিভিল সার্জন কার্যালয়, ডা. সাইফুল ইসলাম বিভাগীয় টিবি এক্সপার্ট, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি রাজশাহী প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, হিমাংশু কর্মকার ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর চ্যালেঞ্জ টিবি প্রকল্প।
আলোচনা সভায় বলা হয়, ১৮৮২ সনের ২৪ মার্চ বিজ্ঞানী রবার্ট কক্ যক্ষ্মা রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের শত বর্ষপূর্তিতে ১৯৮২  সালে ডঐঙ এবং ওহঃবৎহধঃরড়হধষ টহরড়হ অমধরহংঃ ঞঁনবৎপঁষড়ংরং ধহফ খঁহম উরংবধংবং (ওটঅঞখউ) এই দিনটিকে প্রথম ‘বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস’ হিসেবে উদ্যাপন করে। তার পর থেকে সারাবিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দিনটি পালিত হয়। বাংলাদেশে যক্ষ্মা একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার নতুন যক্ষ্মা রোগী সৃষ্টি হয় এবং ৭৩ হাজার লোক যক্ষ্মা রোগে মারা যায়।
বাংলাদেশ সরকার জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশের প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও নির্দিষ্ট এনজিও ক্লিনিকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থা সরকারের এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে। ২০০৭ সালে জাতীয়ভাবে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তারপরেও দেশে যক্ষ্মা রোগির সংখ্যা কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে ‘ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা’ বা ‘মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এমডিআর) যক্ষ্মা’ এর মারাত্মক ঝুঁকি। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত করতে বিলম্ব  হওয়ায় ও সঠিক নিয়ম মেনে চিকিৎসা গ্রহন না করার এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, বর্তমান যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর চ্যালেঞ্জ হচ্ছে প্রাথমিক অবস্থায় দ্রুততার সাথে রোগ সনাক্ত করা, উরৎবপঃষু ঙনংবৎাবফ ঞৎবধঃসবহঃ (উঙঞ) পদ্ধতিতে চিকিৎসা গ্রহণ এবং ‘ঔষধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা’  রোগের সহজ ও কার্যকরি সনাক্তকরণ ও এর চিকিৎসা ব্যবস্থা সারাদেশে চালু করা।
এই চ্যালেঞ্জ সঠিক ভাবে মোকাবেলা করতে পারলেই কেবল যক্ষ্মাকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। ইতমধ্যে রাজশাহী বক্ষ ব্যাধি হাসপাতালে ‘মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স (এমডিআর) যক্ষ্মা’ সনাক্ত করার সর্বাধুনিক পরীক্ষা ‘জীন এক্সপার্ট’ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। এই মেশিনের সাহায্যে মাত্র ২ ঘন্টায় এই জটিল রোগ সনাক্ত করা যায়। আলোচনা অনুষ্ঠানের সভাপতি ডা. আমীর হোসেন  যক্ষ্মা নিমূর্লে সকল স্তরের জনগনকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে ও সকল ভয়-ভীতি-কুসংস্কার কাটিয়ে যক্ষ্মারোগিকে চিকিৎসার অওতায় আনতে সচেষ্ট হওয়ার জোর আহ্বান জানান।