নগরীতে বিহারীদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২১, ১০:৫০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


স্বাধানতার পূর্ববর্তী দীর্ঘ সময় ধরে রাজশাহীতে বসবাসকৃত বিহারীদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার চেয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে স্বারকলিপি দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। রোববার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে নগর ভবনে সিটি মেয়রের চেম্বারে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী বিহারীদের অভিযোগ, নগরীর সাগরপাড়া এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তি যার দাগ নং-৭৯ ও ১২৮ (একটা পুকুর ১৮.৫ কাঠা ও একটা ম্যাঠাল জমি ১৪.৫ কাঠা) মোট ৩৩ কাঠা জায়গা। যেটা তাদের দখলে নেই। দখলদাররা দখল নিতে আসতে চাইলেও বিহারীরা বারবার তা প্রতিহত করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে ধীরে ধীরে দখলদাররা রাতের অঁধারে পকুরটিতে ইট, বালু ও মাটি ফেলে ভরাট করে সেখানে বেশ কয়েকটি বাড়ি গড়ে তুলেছে।

অংশীদাররা অভিযোগ করে বলেন, পুকুরটি পাকিস্তান আমলে সমাজের সরদার ঘারা নিয়ন্ত্রিত হত। সে সময় মালিকরা পুকুরটিতে মাছ চাষ করে সমাজের আয়ের একটা উদ্যোগ নেন। সে সময় নগরীর রাজাহাটার বাসিন্দা মাছ ব্যবসায়ী মজিবর রহমানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। বছরে ১ হাজার ৫০০ টাকা ও যতবার মাছ ধরা হবে ততবার ১ থেকে দেড় কেজি করে মাছ চুক্তি অনুযায়ী ১৮ থেকে ২০ জনের পরিবারকে দেওয়া হতো। মৌখিক চুক্তিতেই মজিবরকে মাছে চাষের অনুমতি দেওয়া হয়। মজিবর রহমান পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত টাকা এবং মাছ বিহারীদের ১৮ থেকে ২০ জন মালিকের সরদার হানিফ সরদার এর নিকট বুঝিয়ে দিতেন।

কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিহারীদের বাড়ি ঘর লুট হয়। এরপর এসব বিহারীদের পরিবার অসহায় হয়ে পড়েন। এসুযোগে বিহারিদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নিজের নামে ভুয়া কাগজ তৈরি করে মজিবর রহমান। ভূয়া কাগজ করলেও বিহারীদের প্রতিবাদের মুখে তা দখল করতে পারে নি মুজিবর। কিন্তু বর্তমানে আবারও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে মজিবরের ছেলে সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইশবাল হোসেন দিলদার, ২১ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি নুরু জমি দখলের পায়তারা করছে। জাল দলিলের ভিত্তিতে পুকুরের দক্ষিণ, উত্তর ও পূর্ব পাশের জমি অন্যের কাছে বিক্রিও করছে।

ভুক্তভোগী বিহারীদের অভিযোগ, ৭১ এর যুদ্ধের সময় তাদের বাড়ির সঙ্গে কাগজও নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে আসল কাগজ বের করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ভুয়া কাগজ দেখিয়ে পুলিশকেউ ম্যানেজ করেছে ওরা। এ সময় নিজেদের মানবেতর জীবনচিত্র তুলে ধরে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে সমাধানের আশ^াস দিয়েছেন মেয়র।

স্মরকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী জাব্বার আলী, সাইদা, রিজিয়া খাতুন, ঈসা আলী, হালিমা বেওয়া, সাবেরা, হাসিনা, দুলারি, মফিজা বেওয়া, শাকিল হোসেন, সগরা, সাব্বির, কালু ও আক্তার আলী।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ