নগরীতে বেদে নারীদের চাঁদাবাজি || কর্মসংস্থানের উদ্যোগ চাই

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে নতুন উৎপাত। হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকদের উপদ্রবের সাথে যোগ হয়েছে বেদে সম্প্রদায়ের নারীদের উৎপাত। সোমবার দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বেদে নারীরা রাস্তায় রাস্তায় সাপ নিয়ে চাঁদা উত্তোলন করছেন। তারা দল বেঁধে বিভিন্ন জাতের সাপ নিয়ে বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে প্রদর্শন করছে। এতে ছোট বড় সব বয়সী মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠছে। সাপের ভয়ে অনেকে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বেদে নারীরা ৬ থেকে ৭ জনের দল বেঁধে চাঁদা তুলছে।
জনবহুল স্থান, বাজার ও স্কুল-কলেজ টার্গেট করে মানুষদের কাছে চাঁদার টাকার জন্য চেপে বসছে। নিজের গলায় জড়িয়ে রেখে আবার কাঠের ছোট বাক্সের মধ্য থেকে সাপের মাথা বের করে সবার সামনে এগিয়ে ধরছে সাপ। অমনি ভয়ে চমকে উঠছে পথচারীরা ও দোকানিরা। এরপর পথ আগলে দাবি করা হচ্ছে টাকা। চাহিদা মতো টাকা না দিলে ছেলেদের শার্ট আর মেয়েদের ওড়না টেনে ধরা হচ্ছে। ছোট কাঠের বাক্সে সাপ নিয়ে চাঁদাবাজি নতুন নয়, কিন্তু বর্তমানে তা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে নগরীতে। অনেক পথচারী সাপের ভয়ে বাঁচাতে চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছে।
কিছু মানুষ আছেন যারা জীবন-জীবিকার অবলম্বন হারাচ্ছে। এমন শ্রেণিপেশার মানুষ কম নয়। বংশপরম্পরার পেশায় টিকে থাকতে না পেরে পেশা বদলের বেদনাবিধুর কাহিনী আমাদের অনেকেরই জানা। কামার-কুমোর, জেলে, তাতী এমন অনেক পেশা সংশ্লিষ্টরা টিকে থাকতে পারছেন না। সমাজ বদলের সাথে সাথে মানুষের চাহিদা ও রুচির বিস্তর পরিবর্তন হচ্ছেÑ পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে পণ্যের গুনগত মানেও পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে সনাতন পণ্যসামগ্রির বাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। কিন্তু যারা তাদের সনাতনি পেশা ছেড়ে অন্য কাজে অভ্যস্থ হতে পারছে না তারা ভীষণভাবে জীবন-জীবিকার সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এমনই একটি সম্প্রদায় বেদে জনগোষ্ঠি। তারা তাদের পেশা হারিয়ে এখন যা করছে তা বেআইনি। প্রথমত তারা দেশের আইন অনুযায়ি সাপ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও তার ব্যবহার করতে পারে না। অথচ এটিই ছিল তাদের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। শহরে-গঞ্জে সাপের খেলা দেখিয়ে, ঝাড়-ফুঁক কিংবা জড়ি-বটি বিক্রি করে আয় করতো। আধুনিক মন-মানসিকতা ও শিক্ষার প্রসারের ফলে মানুষকে আর একগুলো তেমন আকর্ষণ করে না। ফলে বেদে সম্প্রদায় অন্যপেশার প্রতি মনোনিবেশ না করে এক ধরনের জোরজবরদস্তি কিংবা জিম্মি করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের মত অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এটি পথচারী মানুষের জন্য যেমন আতঙ্কের, তেমনি বিব্রতকর।
আমরা মনে করি, এটি একটি সামাজিক সমস্যা। উদ্ভুত সামাজিক কারণের মধ্যেই এর সমাধান নিহিত আছে নিশ্চয়। রাষ্ট্র ও সমাজের নেতৃত্বে যারা আছেন তাদেরকেই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। বেদে সম্প্রদায় যা করছে তা এক ধরনের অপরাধÑ আবার এটাও ঠিক যে, পেশা হারানো এসব মানুষকে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং দায়িত্বশীল কর্মপরিকল্পনা ও উদ্যোগই সামাজিক শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ