নগরীতে বেপরোয়া কিশোর বাইকার

আপডেট: মে ৭, ২০২২, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


উৎসব এলেই যেন লাগামহীন হয়ে পড়ে উঠতি বয়সী কিছু কিশোর। আনন্দের নামে বেপরোয়া কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে এরা। এই কিশোরদের কাছে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন নারীরা। শুধু হেনস্তাই নয়; অপরিপক্ব হাতে ঝুঁকিপূর্ণ বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে নিজে যেমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন, তেমনি পথচারীদেরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।

অনিয়ন্ত্রিত এসব বাইকারদের কারণে নগর সড়কে জটলাও তৈরি হচ্ছে। নগর সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চালাচ্ছে গাড়ি। বিকট শব্দে অকারণ হর্ণ বাজিয়ে তিব্র শব্দ-দূষণের সৃষ্টি করছে। হিরোইজমে আক্রান্ত এই বেপরোয়া কিশোর বাইকাররা পথচারীদের কাছে আতঙ্কের নাম।

সোনার দেশ প্রতিবেদকের গত ১০ দিনের নগর সড়ক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নগরীতে সৃষ্ট যানজটের একটি বড় কারণ এসব উঠতি বয়সী বাইকারদের অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো। দল বেঁধে কিশোররা নগর সড়কের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে। এরা সড়কে তরুণি পথচারী দেখলে বাজে মন্তব্যসহ অশালীন আচরণ করছে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালানোর ভিডিও ধারণ করতে নেয়া হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থেকে বহরমপুর, আলুপট্টি থেকে তালাইমারি, বিমান চত্বর থেকে মেহেরচন্ডীসহ আধুনিক আলোকসজ্জিত সড়কগুলোতে টিকটকারদের দৌরাত্ম্যও বেড়েছে।

পবিত্র ইদুল ফিতরের পরপরই এই কিশোরদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও অশোভন আচরণ বেড়েছে। একসঙ্গে বেশকিছু বাইকার একত্রিত হয়ে গ্যাং তৈরি করে পুরো নগরজুড়ে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাতেও দেখা গেছে। এদের সঙ্গে বেশকিছু তরুণীকেও দেখা গেছে। এদের অনেকেই আবার ফাঁকা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ টিকটক ভিডিওতেও মাতছেন। শুধু নগর সড়ক নয়, জেলার বিভিন্ন সড়কেও কিশোরদের বেপরোয়া আচরণ লক্ষ্য করা যায়। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ও উষ্মা প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

সাধারণ যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, সড়ক নিরাপদ রাখতে সরকারের আইন আছে। কিন্তু শুধু আইন দিয়ে সবকিছু সম্ভব না। আইন ভাঙ্গতে পারলেই ওরা আনন্দিত হয়। আর যারা কিশোর তারা সড়কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম আছে তা ভালোভাবে জানেও না। আবার জানলেও উঠতি বয়সী ছেলেদের অনেকেই তা মানতে চায় না।

যেসকল কিশোর গাড়ি ভালোভাবে চালাতে জানে না তারাও গাড়ি চালায়। একারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। আবার কিছু উচ্ছৃঙ্খল কিশোর আছে যারা গ্যাং কালচার তৈরি করেছে। যারা কাউকে কিছু মনে করে না। যা মন চায় তাই করে বেড়ায়।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি অ্যাড. তৌফিক হাসান টিটু বলেন, করোনা পরবর্তীতে নগর সড়কে কিশোরদেও বাইক চালনায় বেপরোয়া মনোভব বেড়েছে। শুধু কিশোর নয়, নিজেকে শিক্ষিত দাবি করে এমন অনেকেই এখন বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। যারা গাড়ি চালানোর কোনো নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা করে না। কারণ আমাদের আইন আছে। কিন্তু আইন মেনে চলার সাংস্কৃতি তৈরি হয় নি।

তিনি আরও বলেন, একজন কিশোরের তার আনন্দের জন্য তার পরিবার থেকে হাইস্পিড গাড়ি তুলে দেওয়া হচ্ছে। এটা কখনোই কাম্য নয়। কিশোর অপরাধ দমাতে আগে পরিবারকে সচেতন হতে হবে। পারিবারিক সুশিক্ষার অভাবে এসব বিষয়গুলো তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, ১ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২১৯ জন। এরমধ্যে ১ মে ৩৪ জন, ২ মে ৪৮ জন, ৩ মে ৭২ জন, ৪ মে ৬৫ জনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অর্থোপেডিক্স ইউনিটে ভর্তি করা হয়। যাদের একটি বড় অংশ মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন।

এছাড়া একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যমতে, ইদযাত্রা ও ইদ পরবর্তী ১০ দিনে সারাদেশে ৯৭ জন মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫১ জনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এ বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আবু কালাম সিদ্দিক জানান, এখন ইদের ছুটি চলছে। ছেলে-মেয়েরা ঘুরছে। আর আমরা অভিযান চালিয়ে ইদের আনন্দ নিরানন্দ করতে পারি না। ইদের ছুটি শনিবার (৭ মে) শেষ হচ্ছে। এরপর আমরা তৎপরতা বাড়াবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ