নগরীতে ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যে ঈদুল আযহা পালিত || দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে দোয়া

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৭, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সাবেক মেয়র এএএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন (বামে) এবং সাবেক সাংসদ মিজানুর রহমান মিনুর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বর্তমান সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা-সোনার দেশ

নগরীতে যথাযথ ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ। মুসল্লিরা ঈদের দিন সকালে নির্ধারিত ঈদের জামাতে অংশ নেন। নগরীতে ঈদুল আযহার প্রধান নামাযের জামাত সকাল ৮টায় হযরত শাহমখদুম (রহ) ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে নগরীর কাদিরগঞ্জ হাজী লাল মুহাম্মদ ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮টায় নামাজ আদায় করেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও নগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।
এছাড়া শাহমখদুম (রহ) ঈদগাহ ময়দানে নামাজ আদায় করেন, সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাসিকের মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর উর রহমান ও জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফসহ নগরীর গন্যমাণ্য ব্যক্তিরা।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন, হযরত শাহ্ মখদুম (রহ.) জামেয়া ইসলামীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ শাহাদাত আলী। এরপর তিনি দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর আগে বিশেষ বয়ানে তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য দেন। আহ্বান জানান মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে যাওয়ার এবং কোরবানির ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকিটা জীবন পরিচালনার।
নামাজের আগে-পরে নগরীর কোথাও বৃষ্টিপাত হয় নি। এছাড়া কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে নি। ফলে মুসল্লিরা নির্বিঘেœ ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরেছেন। নগরীতে বিভিন্ন স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকার ঈদগাহ মাঠ ভিজা ও স্যাঁতসেতে থাকার কারণে মসজিদের ঈদের নামাজ হয়। ঈদের নামাজের মোনাজাতের পর ঈদগাহ ময়দানে সবাই একে অপরের সাথে কোলাকুলি করে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা এবং কুশলাদি বিনিময় করেন। এরপর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় শুরু হয় পশু কোরবানি। প্রত্যেকটি ঈদ জামাতে মুসল্লিরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আ্লাহর কাছে বিশেষ দোয়া করেন।
নগরীতে এবার প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজশাহী প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে সকাল ৭টায়। এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় নওদাপাড়া আমচত্বর আহলে হাদীস মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের প্রায় এক হাজার ঈদগাহে সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সোয়া ৮টায় নগরীর টিকাপাড়ায় (মহানগর) ঈদগাহ। এছাড়া সকাল ৮টায় নগরীর সাহেববাজার বড় রাস্তা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বুলনপুর ঈদগাহ, মসজিদ-ই-নূর ঈদগাহ, কয়েরদাড়া ঈদগাহ, মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা, ডিঙ্গাডোবা ঈদগাহ মাঠ, কাশিয়াডাঙ্গা সিটি গেইট ঈদগাহ, কাশিয়াডাঙ্গা ঈদগাহ ও বালিয়াপুকুর জামে মসজিদ, রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়াম (তেরখাদিয়া) ঈদগাহ, শিরোইল সরকারি হাই স্কুল ঈদগাহ ইত্যাদি।
এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঈদ জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা তাদের নির্ধারিত গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া কুরবানি করেন।