নগরীতে ভালোবাসায় বসন্তবরণ

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রকৃতিতে আগুন রাঙা ফাগুন। ফুল ও মধুময় বসন্ত। যৌবনের উদ্দীপনায় বাসন্তী রঙে মেতেছে চারপাশ। বসন্তের সঙ্গে ভালোবাসার মিতালী। ভালোবাসার পরশে বসন্তের স্নিগ্ধতা নিয়ে ‘বাসন্তবরণ ও ভালোবাসা দিবস’ পালিত হয়েছে নগরীতে।

করোনা মহামারীতে ভালোবাসা দিবস উদযাপন ও বসন্তবরণে আনুষ্ঠানিক বড় কোনো আয়োজন না থাকলেও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত ছিলো পুরো নগরী। সকাল থেকেই নগরীর দর্শনীয় এলাকায় বাসন্তী সাজে তরুণ-তরুণীর সরব উপস্থিতি ছিলো।

‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে/তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে/কোরো না বিড়ম্বিত তারে/ আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো/ আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো- কবিগুরুর কবিতার চরণেই যেন বসন্তকে বরণ করে নিতে প্রকৃতির যেমন প্রস্তুতি ছিলো তেমনি তারুণ্যের আবেগের সরব উত্তেজনাও ছিলো। কয়েক দিন আগে থেকেই বসন্তের আগমনী বার্তা জানাচ্ছিলো বরেন্দ্র’র প্রকৃতি।

সকালের কুয়াশা ভেদ করে আকাশে উঁকি দিচ্ছিলো সূর্য। কখনও দেখা গেছে ঝকঝকে রোদ। চাদর মোড়া শীতকে বিদায় জানিয়ে এসেছে ফাগুন। সঙ্গে ভালোবাসা দিবসের উষ্ণ ছোঁয়া।

সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর দর্শনীয় এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাসন্তী রঙের শাড়ি পরেছেন নারীরা। নগরীর পদ্মাপাড়জুড়ে ছিলো তরুণ-তরুণী, যুবক-যবতীর পদচারণা। প্রত্যেকেই বসন্তের সাজে সেজেছিলেন। ফুলেল সৌরভে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশে মেতে উঠতে দেখা যায়।

পদ্মাপাড়ে বাসন্তী সাজে সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন রুকাইয়া-সাগর দম্পতি। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের অনুভূতি ব্যক্ত করে তারা বলেন, কয়েক বছর আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। কিন্তু বিয়েরপর থেকে করোনা মহামারী। যার কারণে তেমন ঘোরাঘুরি হয় নি। আজ একটি বিশেষ দিন। তাই সকাল থেকেই পদ্মাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় দু’জনে ঘুরেছি। ছবি তুলেছি। বসন্তের এই সুন্দর আবহের এই স্মৃতি সারাজীবনই মনে থাকবে।

শুধু পদ্মাপাড় নয়- ভ্রমণপিপাসু মানুষের সমাগম ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সাজানো-গুছানো ক্যাম্পাস রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজেও। এবার কলেজগুলোতে বিশেষ কোনো আয়োজন না থাকলেও তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীর সমাগম এই ক্যাম্পাসগুলোতে ভালোই ছিলো। আর ছোট্ট পরিসরে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনও করে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ।

রাজশাহী কলেজ পদ্মপুকুরের পাশের ফুলবাগানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও সেলফিতে মেতেছিলেন, তন্ময়, কামরুলসহ আরও ছয়-সাত জন যুবক-যুবতী। তারা বলেন, প্রতিবছর এই দিনে বন্ধু-বান্ধবীদের সঙ্গে নগরীর দর্শনীয় এলাকাগুলোতে ঘুরে বসন্তকে স্বাগত জানাই। রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্য, পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্যের মুগ্ধতা নিতে এদিন খুবই ভালোলাগে। তাই মিস করতে চাই না। ঘুরতে ভালোয় লাগছে।

এদিকে, ভালোবাসা আর বসন্তের সুবাসে নগরীর ফুলের দোকানগুলোতেও ছিলো ভিড়। দিবস কেন্দ্রীক বেড়েছিলো ফুলের দামও। গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা, রজনীগন্ধাসহ অন্য সকল ফুলের দাম চড়া নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া থাকলেও বিশেষ দিনটিকে সুন্দর করতে উভয়েই ছিলেন আন্তরিক। তাই বাড়তি দামেই ফুল কিনে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটাতে ক্রেতাদের তৎপরতা ছিলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ