নগরীতে মাদরাসা ছাত্র নিখোঁজ

আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৭, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


মাদরাসা ছাত্র রায়হান (১০)

মাদরাসা ছাত্র রায়হান (১০)। রায়হান গত ৭ এপ্রিল নিখোঁজ হয়। এর পরে পরিবারকে না জানিয়ে সাত থেকে ৮ দিন পার করেছে নগরীর মালদা কলোনী বখতিয়াবাদ এলাকার দারুস সুন্নাহ ইসলামী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজ রায়হান তানোর উপজেলার গোকুল গ্রামের লিটনের ছেলে। গত ১৪ এপ্রিল পরিবারের স্বজনরা রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে এসে জানতে পারে গত ৭ এপ্রিল থেকেই নিখোঁজ।
বোয়ালিয়া থানার ওসি শাহাদত হোসেন খান বলেন, এ ঘটনায় রোববার শিশুটির মা নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রী (জিডি) করেছেন। নিখোঁজ শিশুটির খোঁজে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা করেছে। তাই তাদের শিশু হারিয়েছে।
রায়হানের চাচা হৃদয় জানান, নগরীর মালদা কলোনী বখতিয়ারবাদ এলাকার দারুস সুন্নাহ ইসলামী মাদরাসায় কিছুদিন আগে রায়হানকে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখানে রায়হান আবাসিক হিসেবে থাকতো। গত ৭ এপ্রিল রায়হানের সঙ্গে দেখা করার জন্য তার দাদি জাহানারা বেগম মাদরাসায় যান। মাদরাসার সামনে সেলুনে রায়হানের চুল কেটে দেন তার দাদি।
তিনি আরো বলেন, তিনি বিস্কুট, মুড়িসহ প্রয়োজনীয় খাবার কিনে দিয়ে রায়হানকে মাদরাসার গেটে ঢুকিয়ে দিয়ে আসেন। এর পর ১৪ এপ্রিল মা বেবি বেগম, দাদি জাহানারা বেগম ও ফুপু পারুল মিলে রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেই সময় তারা জানতে পারে গত ৭ এপ্রিল থেকেই শিশু রায়হান নিখোঁজ রয়েছে।
রায়হানের মা বেবি বেগম অভিযোগ করেন, রায়হান মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১০ দিন হতে চললো। কিন্তু মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাদের কিছুই জানায় নি। পহেলা বৈশাখ রায়হানকে দেখতে এসে তারা জানাতে পারেন মাদরাসায় রায়হান নেই। মাদরাসায় দায়িত্বরত শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলে তারা দেখছি, দেখবো বলে সময় পার করছেন বলে জানান তিনি।
মাদরাসা শিক্ষক মওলানা আবুল কাশেম জানান, ৭ এপ্রিল বিকেল তিনি মাদরাসার শিশুদের নিয়ে দোয়া অনুষ্ঠানে ছিলেন। সেখানে থেকে ফিরে এসে তিনি শোনেন যে দাদি ও ফুপু এসে রায়হানকে নিয়ে গেছেন। তারা মাদরাসার আইনও মানেন নি। রায়হানকে নিয়ে তারা ফিরেও আসেন নি বলেন তিনি।