নগরীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত || ত্রিপুরায় উৎপন্ন ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৫

আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০১৭, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



ভারতের ত্রিপুরায় উৎপন্ন ৫ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সারাদেশের মতো রাজশাহী নগরীতেও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। বিকেল ৩টা ৯মিনিটে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব এবং আগরতলা থেকে ৭৬ কিলোমিটার পূর্বে।
এই ভূমিকম্পে নগরীজুড়েও সাময়িকভাবে বিরাজ করে আতঙ্ক। রাস্তায় বের হয়ে আসেন নগরবাসী। তবে মাত্রা কম হওয়ায় অনেকেই তেমনভাবে ভূমিকম্পের উত্তাপ বুঝতে পারেননি। ঘটেনি হতাহতের কোনো ঘটনাও। গতবছরও বেশ কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় দেশজুড়ে। তখন বড় ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিলে লোকজনের মাঝে।
ভূমিকম্পের মাত্রা খুব বেশি না হলেও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ‘ফেসবুকে’ ঠিকই উত্তাপ ছড়িয়েছে। নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিয়েছে প্রায় প্রত্যেকেই।
সাগরপাড়ার ইমরান হোসেন বলেন, কেবল দুপুরের খাবার খেয়ে বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি বিছানা মৃদু কাঁপছে। সঙ্গে চিৎকার-চেঁচামেচি। দোতলায় বাসা হওয়ায় খুব দ্রুত পরিবারের সবাইকে নিয়ে নিচে নেমে আসি।
সাহেববাজারে বাজার করতে এসেছেন তনিমা শানতা। তিনি বলেন, দোকানে দাঁড়িয়ে জিনিসপত্র দরদাম করছিলাম। হঠাৎ দেখি শরীর কাঁপছে। তখনই বুঝতে পারি ভূমিকম্প হচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার ঠিক হয়ে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত আর্থ অবজারভেটরির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৯মিনিটে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব এবং আগরতলা থেকে ৭৬ কিলোমিটার পূর্বে। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল ত্রিপুরার আম্বাসা এলাকায়, ভূপৃষ্ঠের ৩৬ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। বিকালে অফিস ছুটির ঘণ্টা দুই আগে রাজধানীর ভবনগুলো ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
পূর্ব ও দক্ষিণের সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম অঞ্চল ছাড়াও মধ্য ও উত্তরের অধিকাংশ জেলায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ত্রিপুরায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না সে তথ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রাথমিকভাবে জানাতে পারেনি।