নগরীতে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ এক সদস্য গ্রেফতার ।। চুরির নানা সরঞ্জামসহ মাস্টার কি জব্দ

আপডেট: জুলাই ১৩, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


গ্রেফতারকৃত সেলিম রেজা ওরফে বাবু -সোনার দেশ

নগরীতে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া একটি মোটরসাইকেল এবং মোটরসাইকেল চুরির নানা সরঞ্জাম।
গ্রেফতারকৃত দুই চোর হলো, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাদনচক গ্রামের এনামুল হকের ছেলে সেলিম রেজা ওরফে বাবু (২৮) ও নগরীর বোয়ালিয়া থানার মেহেরচণ্ডি এলাকার আবদুল খলিলের ছেলে আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ (৩০)।
গতকাল বুধবার আরএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহানগর ডিবি পুলিশের একটি দল নগরীর আমচত্বর এলাকা সেলিম রেজাকে আটক করে। এ সময় তার পকেট থেকে মোটরসাইকেল চুরির জন্য ব্যবহৃত একটি ‘মাস্টার কি’ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, বিভিন্ন স্থান থেকে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তাকে কয়েকটি চুরির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকতে দেখা গেছে।
সেলিম রেজা নগরীর কুমারপাড়া চালপট্টি এলাকায় একটি মেসে থাকত। সেলিমকে আটকের পর তার মেসের কক্ষেও অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে আটটি মোটরসাইকেলের চাবি, একটি আধুনিক হাতুড়ি, একটি র‌্যাথ, একটি স্ক্রু ড্রাইভার ও চারটি অন্যান্য চাবি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সেলিম স্বীকার করেছে, সে তার গ্রুপ নিয়ে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০-১২টি মোটরসাইকেল চুরি করে পার্শ্ববর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানা এলাকায় বিক্রি করেছে। তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের আটক করে মোটরসাইকেলগুলোও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আর সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব হাসান জানান, গত মার্চ মাসে মেহেরচণ্ডি মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা মনসুর রহমানের বাড়ির সামনে থেকে তার একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ নিয়ে মনসুর রহমান বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ দেন। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করছিল ডিবি পুলিশ।
এ চুরির সঙ্গে আরিফের সংশ্লিষ্টতা আছে এ ধরনের সন্দেহে মঙ্গলবার রাতে তাকে আটক করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ মোটরসাইকেলটি চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। তবে সে পুলিশকে জানায়, মোটরসাইকেলটি চুরি করে বিক্রির জন্য নাটোর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু কাগজপত্র না থাকায় বাগাতিপাড়া থানা পুলিশ পথেই সেটি জব্দ করেছে। বর্তমানে মোটরসাইকেলটি বাগাতিপাড়া থানায় আছে। পরে আরিফকে নিয়ে সে থানায় যায় ডিবি পুলিশ। এরপর সেখান থেকে মোটরসাইকেলটি নিয়ে আসা হয়।
এসআই মাহবুব জানান, আরিফ নগরীর একজন কুখ্যাত চোর। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইকেল চুরির সময় সে ধরাও পড়েছিল। তখন লোকজন পিটিয়ে তার এক পা ভেঙে দিয়েছিল। তার নামে থানায় একাধিক মামলা আছে। নতুন করে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আর মোটরসাইকেলটি মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ