নগরীতে যথেচ্ছ পোস্টার ব্যানার || রাজনৈতিক ও সামজিক উদ্যোগও চাই

আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৭, ১:০২ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন শহর। কিন্তু পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের বিষয় নয়Ñ এর জন্য নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতার প্রয়োজন। এরজন্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের অঙ্গীকারের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার পরিস্কার-পরিচ্ছনতদার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দিয়েছেন। রাজশাহী মহানগরীকে অব্যাহতভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁর এই আহবান গুরত্বের দাবি রাখে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করতে পারলে রাজশাহী প্রকৃতঅর্থেই স্বাস্থ্যসম্মত নগরীর মর্যদার ক্ষেত্র ত্বরান্বিত হতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতার এই সদিচ্ছা ভবিষ্যত পরিচ্ছন্ন রাজশাহীর জন্য পথ দেখাতে পারে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় দেয়ালে সাটানো পোস্টার অপসারণ করে নগরী পরিস্কারের উদ্বোধন করেন। পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো নিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান তিনি। এ সংক্রান্ত একটি খবর দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে।
রাজশাহী মহানগরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির স্থায়িত্বের জন্য অবশ্যই একটি নগর পরিকল্পনা দরকার। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। অভিজ্ঞতা বলে নগরীতে পোস্টার- ব্যানার কিংবা দেয়াল লিখনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়ম মানা হয় না। বা নিয়ম মেনে চলার জন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সেই অর্থে কোেেনা কর্মসূচিও লক্ষনীয় নয়। ফলে যার যেমন ইচ্ছে পোস্টার, ব্যানার, দেয়াল লিখন- এমনকী বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের প্রদর্শনও লক্ষ্য করা যায়। অপরিকল্পিত উপায়ে সাটানো পোস্টার, ব্যানার শহরকে অসুন্দর করে, নোংরা করে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর পোস্টার ব্যানারের সাথে পাল্লা দিয়ে কোচিং সেন্টারগুলোর পোস্টার- ব্যানার নগরীর আনাচে-কানাচে ছেয়ে আছে। অথচ এই যখেচ্ছারের কোনো প্রতিকার নেই। এগুলো নিয়ন্ত্রিত করার কোনো উদ্যোগও নেই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেই উদ্যোগের সূচনা করেছেন তা এগিয়ে নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনই মূল প্রতিষ্ঠান। পণ্যের প্রচার-প্রচারণা অধুনিক সমাজ ব্যবস্থারই একটি উপাদান। কিন্তু সেটি হতে হবে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্য দিয়ে। এর জন্য ফুটপাতের দোকানদার থেকে শুরু করে আধুনিক শপিংমল, মার্কেট, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কোচিং সেন্টারসহ রাজনৈতিক ও সামজিক সংগঠনগুলোর সদিচ্ছার খুবই প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগেই একটি আচরণবিধি থাকা দরকার- যা সকলকে মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। অবশ্যই এটি একটি নাগরিক উদ্যোগÑ যেখানে নগরীর রাজনৈতিক, সামজিক, সাংস্কৃতিক বলয়ের নেতৃত্ব ঐকমত্য হতে পারবে। যে উদ্যোগের মধ্য দিয়ে নগরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী প্রতিষ্ঠার উপায়-পরামর্শগুলো পথ দেখাবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ