নগরীতে রাতে শীতার্তদের মাঝে বিভাগীয় কমিশনারের শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২২, ১০:১১ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী অঞ্চলে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রাতভর কুয়াশা ও বৃষ্টি। এই মানবেতন জীবনযাপন করছেন ছিন্নমূল শীতার্ত মানুষ। নগরীর ছিন্নমূল এসব মানুষদের খোঁজ খবর নিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ (এনডিসি)। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত নগরীর রেলস্টেশন ও বাসষ্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন তিনি।

এসময় বিভাগীয় কমিশনারের সাথে ছিলেন, , অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) এ,এন,এম মঈনুল ইসলাম, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হকসহ বিভাগীয় কমিশনার অফিস ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এদিন তিন শতাধিক শীতার্ত দরিদ্র ও অসহায়দের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ (এনডিসি) বলেন, চলতি শীত মৌসুমে রাজশাহী জেলার সকল উপজেলা ও ইউনিয়নে ৪৬০টি করে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও প্রায় সমপরিমাণ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এই শীতে যেন কেউ শীতবস্ত্রের অভাবে ঠান্ডায় কষ্ট না পায় সেদিকে প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য রয়েছে। দুস্থ শীতার্তদের কষ্টের কথা প্রাধান্য দিয়ে তাদেরকে কম্বল দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শীতার্ত ও অসহায়দের খুঁজে বের করে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান বিভাগীয় কমিশনার।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, এই শীতে আমাদের সবাইকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সর্তক থাকতে হবে। করোনার প্রকোপ যেন না বাড়ে সে জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা ও ঘরের বাইরে আসলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। কেউ শীতবস্ত্রের কারণে ঠান্ডায় থাকুক এটা প্রধানমন্ত্রী চায় না।

এসময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিন বলেন, রাজশাহীতে শীতের তীব্রতা বেড়ে চলছে। তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়েছেন ছিন্নমূল হতদরিদ্ররা। এ শীতে তাদের ভীষণ কষ্ট! যা স্বচক্ষে দেখতে পেলাম।

একটা কম্বলের আশায় তারা এখানে সেখানে ছুটে বেড়াচ্ছে। মূলত রাতের অন্ধকারে ছিন্নমূল মানুষের দেখা পাওয়া যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কম্বল নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষ থেকে প্রকৃত দুস্থ শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কম্বল বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

কম্বল পেয়ে এসব অসহায় মানুষেরা খুশি হয়েছেন। তাদের মধ্যে কম্বল পেয়ে নগরীর রেলস্টেশন এলাকার হাতের আলী নামে এক শীতার্ত বলেন, আজকে কম্বল পাওয়ার পর খুব ভালো লাগছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিভাগীয় কমিশনার স্যারকে আল্লাহ অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখবেন।

শরীরে একটি মাত্র পাতলা কাপড় জড়িয়ে নগরীর রেলগেট এলাকায় শুয়ে থাকা সুবিধাভোগী চম্পা বলেন, কোন মতে কাপড় জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করি। এখন বিভাগীয় কমিশনার স্যার যে কম্বল দিলেন, তাতে মোটামুটি শীত কাটবে।

গভীর রাতে বিভাগীয় কমিশনার স্যারের হাত থেকে কম্বল পেয়ে রেলগেট যাত্রী ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া সুবিধাভোগী হানিফ উদ্দিন বলেন, রাতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় বিভাগীয় কমিশনার স্যার কম্বল দেন তাতে আমি খুশি হয়েছি। আমার মত সকল শীতার্ত মানুষদের এভাবে কম্বল দিলে তাদের শীতের কষ্ট কিছুটা কমবে।