নগরীতে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেই || দুর্ভোগে যানচলাচলকারীরা

আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীর ভদ্রা এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে নেই রাস্তা সংস্কার। এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন-সোনার দেশ

নগরীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গার সড়কগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় যানচলাচলে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার মাঝে মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। রাস্তার কোথাও কোথাও পিচ উঠে এবড়ো-থেবড়ো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তার মাঝে গর্ত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জমছে পানি। বৃষ্টির পানির গর্তে গাড়ির চাকা পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে।
এসব রাস্তার গর্তগুলোর কোথাও কোথাও সতর্কতা হিসেবে বাঁশ দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে লাল কাপড়ের নিশান। এ কাজটি করেছেন এলাকার স্থানীয়রা। রাস্তা-ঘাট ক্রমেই হয়ে উঠছে ভাঙ্গাচোরা ও খানাখন্দে ভরা। এতে বাড়ছে নাগরিক বিড়ম্বনা ও দুর্ভোগ। রাজশাহী হয়ে নাটোরমুখি সব যানবাহনই রাজশাহী  রেলস্টেশনের এই সড়কে যাতায়াত করে। সড়কটি খানাখন্দকে ভরে যাওয়ায় অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভোগান্তি চরমে উঠেছে পথচারী ও যানচলাচলকারীদেরও। দীর্ঘদিন ধরে এই বেহালদশা থাকলেও সিটি করপোরেশনের কোন উদ্যোগ নেই। এ কারণে ক্ষোভ বাড়ছে নাগরিকদের।
নগরীর সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে-রাজশাহী রেলস্টেশন, ভদ্রা-তালাইমারী, রাজশাহী কলেজিয়েট সংলগ্ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভদ্রা মোড় হয়ে পদ্মা আবাসিক এলাকার রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছন দিয়ে নওদাপাড়া সড়কের রাস্তা। এসব সড়কের বেহাল দশা।
নগরীর তালাইমারী হয়ে শিরোইল বাস টার্মিনাল ও সাহেববাজার দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। শহরের বাইরে থেকে ছোট-বড় বাস ট্রাক ও রোগীবাহী গাড়ি প্রতিনিয়ত চলাচল করে। সবারই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রাস্তা দিয়ে মনে হয় হাতের মুঠোই প্রাণটা নিয়ে চলাচল নিত্যদিনের সঙ্গী। এরপরেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত সড়কগুলো সংস্কারে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছনের সড়ক দিয়ে ও ভদ্রা আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নওদাপাড়া টার্মিনালে যাতায়াত করে অসংখ্য অটোরিকশা, বাস ও ট্রাক। এ বাসগুলো আন্তঃজেলা রুটে চলাচল করে। কিন্তু এই সড়ক খানা-খন্দকে ভরে গেছে। আবার ভদ্রা মোড়ের স্মৃতি অম্লান থেকে তালাইমারি মোড় পর্যন্ত সড়কেরও একই অবস্থা।
বেশ কয়েক মাস আগে নগরীর ভদ্রা পদ্মা আবাসিক এলাকার রেলওয়ে কোয়ার্টারের পেছনের সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। ফলে সেসময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে রেকার নিয়ে এসে বাসটি সরানো হয়।
রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের বাসচালকরা জানান, নগরীর মধ্যে তালাইমারি, ভদ্রা, নওদাপাড়া এলাকার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। অধিকাংশ স্থানে অসংখ্য বড় ও ছোট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। চালক একটু অসতর্ক হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া একটি যানবাহন আরেকটিকে ওভারটেক বা বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে স্পেস দিতে গিয়ে বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নগরীর তালাইমারি থেকে নর্দান ইউনিভার্সিটির মোড় পর্যন্ত রাস্তার মধ্যে এবং দুই পারের অংশ ভেঙ্গে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে গর্তের। আর বেশিরভাগ স্থানে পিচ উঠে গেছে। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে সড়কের পাথর ও ইট। ইতোমধ্যে নর্দানের মোড় থেকে তালাইমারী রাস্তার একপাশ বেহাল দশা থাকায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ওই রাস্তায় এখন বাস ও ট্রাকের স্ট্যান্ড রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে ভদ্রা স্মৃতি অম্লান চত্বরের রাস্তার ও রেললাইনের আশেপাশের রাস্তার বেহালদশা। সড়কে ওপরের অনেক জায়গাতেই উঠে গেছে পিচ। ফলে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ঢাকা বাস টার্মিনালের রাস্তা রেশম বোর্ড এলাকার সামনে পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
পথচারী জানান, নগরীতে চলাচলের জন্য অধিকাংশ সময় অটোরিকশায় উঠতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে। এসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক নগরীর তালাইমারী হয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। কিন্তু সড়কে খানাখন্দকের কারণে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে যানচলাচলে সময় বেশি লাগছে। যানবাহনেরও ক্ষতি হচ্ছে। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাদের চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিকে নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা মনিচত্বর ও রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সামনের রাস্তাটি এখন বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও জনসাধারণ প্রতিনিয়ত চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। এছাড়া এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সবজি ট্রাক ও ভ্যান চলাচল করে। লোক সমাগমে পরিপূর্ণ থাকে রাস্তাটি। কিন্তু বর্তমানে রাস্তাটির পিচ উঠে খানাখন্দে সৃষ্টি হয়েছে।  ফলে এখানে তিব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পথচারীদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না।।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির পিচ, ইট, সুরকি পাথর উঠে বেরিয়ে এসেছে নিচের বালি। যতদিন যাচ্ছে, সংস্কারের অভাবে ততই রাস্তার বেহাল দশা দেখা দিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, রাস্তাটি এমনিতেই ব্যস্ততম। তার উপর রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে আরো বেড়েছে যানজট। এতে ক্লাস ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে দেরি হয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে ভোগান্তি।  এদিকে কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীরা বলেন, স্কুলের প্রধান ফটকের সামনেই রাস্তাটি ভাঙা থাকার কারণে সেখানে যানজট লেগেই থাকে। আবার স্কুলের সামনেই মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। এতে শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কে থাকে।
এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে রাজশাহী জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর এমন বেহাল অবস্থা কল্পনা করা যায় না। মনে হচ্ছে শহরের কোনো মা-বাপ নেই। বছরের পর বছর ধরে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা পড়ে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক-বাসসহ অটোরিকশা চলাচল করে। কিন্তু সিটি করপোরেশনের কোন ভ্রƒক্ষেপই নেই। তিনি অবিলম্বে সড়কগুলো সংস্কারের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, দ্রুত সংস্কার করা না হলে গাড়ির স্প্রিং ও পাতি ভেঙে যাচ্ছে। গাড়ি উল্টে পড়ছে, গাড়ির সকাপজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর পদ্মা আবাসিক ভেতর দিয়ে রেলওয়ে কোয়ার্টারের পাশে রাস্তাটি আরডিএ’র। তারপরেও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মেরামতের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এমনকি রাস্তার পাশের পুকুর পাড়ের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ হয়ে গেলে যানচলাচলে স্বাভাবিক হবে। এছাড়া রেলস্টেশন, রেশম ভবন, তালাইমারি ও কলেজিয়েট স্কুলের রাস্তাসহ অন্য সড়কগুলো সংস্কারের ব্যাপারেও অতিদ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ