নগরীতে রেলক্রসিং ব্যারিয়ার টপকানোর নিষেধ করায় নারী গেটকিপারকে মারধর, আটক ২

আপডেট: মে ১৯, ২০২২, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীর ভদ্রা রেলক্রসিং ব্যারিয়ার টপকিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করায় পশ্চিমা রেলে কর্মরত স্বামী ও স্ত্রীকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে বলে রাজশাহী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ রকিব-উল-হোসেন জানিয়েছেন। আটককৃতরা হল ভদ্রা জামালপুরের মৃত সাকিমের ছেলে আব্দুস সামাদ খোকন (৪১) এবং বাসার রোড রামচন্দ্রপুরের নূর মোহাম্মাদের ছেলে তুষার (২৭)।

বুধবার (১৮ মে) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চলের গেইটসমূহের ‘পুর্নবাসন ও মান উন্নয়ন শীর্ষক’ প্রকল্পের আওতাধীন কর্মরত গেইট কিপার তানজিলা (২৬) ও তার স্বামী জিমএম পশ্চিম দপ্তরের অফিস সহকারী ও কাম কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমানের (২৯) সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেলা ১২ টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ট্রেন আসার সংকেত পেয়ে ভদ্রা রেলক্রসিং-এ কর্তব্যরত তানজিলা ব্যারিয়ার নামিয়ে দেয়। সে সময় আব্দুস সামাদ খোকন নামের এক ব্যক্তি ব্যারিয়ার টপকিয়ে যায়।

তানজিলা তাকে নিষেধ করেন। তখন ঐ ব্যক্তি রাগান্বিত হয়ে তানজিলার স্বামী মিজানুর রহমানকে ফোন করে আসতে বলেন। বেলা সাড়ে ১২ টায় স্বামী ও স্ত্রী দুজনকেই মারধর করে খোকন ও তুষার। এ ঘটনায় তানজিলা ৯৯৯ এ কল দিয়ে সহায়তা চান। পরে রাজশাহী রেলওয়ে থানা পুলিশ দুইজনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী ২০১৮ সাল থেকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো দিন এমন ঘটনা ঘটেনি। রেলওয়ের কোনো গেইট কিপারের সাথে ঘটেছে বলে মনে হয় না।

গেইট কিপারেরা সব সময় চেষ্টা করে ট্রেন যাওয়া আসার সময় যেন কোনো প্রকার অঘটন না ঘটে। কিন্তু আমার স্ত্রী তাকে ব্যারিয়ার টপকিয়ে পার হতে নিষেধ করেছেন যা রেলওয়ের কোনো নির্দেশনায় নেই। খুব ব্যস্ততা থাকলে ট্রেনের দিকে খেয়াল করে ব্যারিয়ারের নিচ দিয়ে যেতে পারতো। আটককৃত ব্যক্তিদের এমন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হোক এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়।

ভুক্তভোগী তানজিলা জানান, ব্যারিয়ার নামানোর পরে তার টপকিয়ে যাওয়ার সময় সতর্ক করেছি। সেই সময় খোকন নামের ঐ লোক জোরে জোরে বলছিল ‘আমি তোকে চিনি। আজ তোকে না মেরে যাবো না’।

তিনি আরও বলেন, খোকন ও তার বন্ধু আমার স্বামীকে ফোন দিয়ে ডেকে আনে। কোনো কথা ছাড়া আমাকে ও আমার স্বামীকে লাত্থি, ঘুষি মারে।

অন্যদিকে রেলওয়ের গেটকিপারেরা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা তাদের কাজ করে থাকেন। এছাড়া প্রায় মানুষ জনের গালিগালাজ সহ শারীরিক, মানসিক ও দৈহিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ট্রেন আসার সময় সময়মত গেট বন্ধ করলে অপরাধ, দেরি হলেও অপরাধ। আমরা কি করবো!

তারা আরো জানান, গেটে ট্রেন ঢোকার ৫-৭ মিনিট আগে গেটবন্ধ করলে বলে, এই ব্যাটা এত আগে বন্ধ করলি কেন? গেট তোল। এছাড়া অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ মারধরও করে। কর্তব্য পালনের সময় আমদের কোন নিরাপত্তা করেছেন। একই চিত্র সকল রেলে গেটের।

গেটকিপারেররা তাদের নিরাপত্তার বিষয়টির জন্য রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ রকিব-উল-হোসেন বলেন, মারধরের অভিযোগ পেয়েছি। আমরা দুইজনকে আটক করেছি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।