নগরীতে শিক্ষার্থীদের গাজন পদ্ধতিতে ইথানল তৈরির প্রক্রিয়া উপস্থাপন

আপডেট: মার্চ ১৬, ২০১৭, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিদেক



নগরীতে যানবাহনের জ্বালানির সহায়ক হিসেবে গাজন (পচন) পদ্ধতিতে ইথানল তৈরির প্রক্রিয়া উপস্থাপন করল লক্ষ্মীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। বাড়ির বিভিন্ন শস্য কণা যেমন আলু, চাল, ভূট্টা, গম এবং শর্করা জাতীয় উদ্ভিদকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল তৈরির প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া রহমান মোহনা এই পদ্ধতি উপস্থাপনের সময় জানান, যানবাহনের জ্বালানি অফুরন্ত নয়। একসময় হয়তো এসব জ্বালানি আসতে আসতে কমে যাবে। আর এই জ্বালানির সহায়ক হিসেবে তাদের উপস্থাপন করা ইথানল ব্যবহার করে জ্বালানি সাশ্রয়ী করা যাবে।
তিনি আরো জানান, সরকারিভাবে এ প্রক্রিয়ায় ইথানল তৈরি করলে দেশের জ্বালানি ঘাটতি কমে আসবে। একই শ্রেণির তামিমা হায়দার, নিশাত তাসনিম চৌধুরী, সুমাইয়া জান্নাত ও সাদিয়া আফরিন এবং সে নিজেসহ পাঁচ জনের একটি টিম নিয়ে এ প্রক্রিয়া তৈরি করেছেন।
এছাড়া মহিষবাথান আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়েরা তৈরি করেছে ‘সর্ব দিকে তাপ দেয়’, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি চালানো এবং যান্ত্রিক শক্তি দ্বারা মোবাইল চার্জ পদ্ধতি তৈরি করেছে রাজশাহী দারুস সালাম কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা, রাজশাহী পুলিশ লাইনস স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা তৈরি করেছে ভূমিকম্প হওয়ার আগে অটোমেটিক বাড়ির বিদ্যুত ও গ্যাসের চুলা বন্ধের পদ্ধতি।
এছাড়া নগরীর আল হিকমা একাডেমি, মহিষবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেডিক্যাল ক্যাম্পাস উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি প্রযুক্তি উপস্থাপন করেন। গতকাল বুধবার ‘শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিখবে হাতে কলমে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নগরীর মাহিষবাথান মোহাম্মদ হাতেম ফাউন্ডেশন পাঠাগারের উদ্যোগে এবং আধুনিক বিজ্ঞান চর্চা কেন্দ্রের আয়োজনে বিজ্ঞান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে বিজ্ঞান উৎসবের উদ্বোধন করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন এবং নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য ড. আব্দুল খালেক। এসময় তিনি বলেন, আল্লাহ তাআয়ালা পবিত্র কোরআনকে বিজ্ঞানময় বলে অবহিত করেছেন। কিন্তু আমরা মুসলিমরা বিজ্ঞান চর্চায় পিছিয়ে আছি। অথচ অমুসলিমরা বিজ্ঞান চর্চায় এগিয়ে রয়েছে। আমাদের প্রায় চলার পেছনে তাদের আবিষ্কারের হাত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের মেধাবীদের ব্যবহার করে বিদেশিরা বিজ্ঞানে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা দেশের মেধাবীদের মূল্যায়ন করতে পারছি না। এই খুদে বিজ্ঞানীরা নিজেদের উদ্ভাবনী মেধা দিয়ে নিজেদের প্রযুক্তি উপস্থাপন করছে এই জন্য আমাদের সবার উচিৎ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগান। খুদে বিজ্ঞানীরা একদিন এই রাষ্ট্রকে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হাতেম। এসময় তিনি ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবুল কালাম আজাদের স্মরণ করে বলেন, স্বপ্ন সেটা যে স্বপ্ন মানুষ জেগে জেগে দেখে, ঘুমিয়ে না। স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে অবশ্যই জেগে জেগে দেখতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। কল্যাণমূলক সকল কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত থাকার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন তিনি। এ বিজ্ঞান উৎসবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ