নগরীতে সহিংস উগ্রবাদ, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২২, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে সহিংস উগ্রবাাদ, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে নগরীর একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে জেলা মাল্টি স্টেকহোল্ডার কমিটি ও বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার আয়োজনে উক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক এ.কে.এম. মুজাহিদুল ইসলাম, যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মোসা. শামসুন্নাহার হেলভেটাস বাংলাদেশের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. শাহরিয়ার মান্নান, হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী প্রকল্প পরিচালক শ্রী দেবব্রত বর্মন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সোনার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত।
উক্ত প্রকল্প সম্পর্কিত ইভেন্টের উদ্দেশ্য আলোচনা করেন বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রকল্প ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম।

এছাড়াও ইসলাম ধর্ম গ্রন্থের আলোকে সহিংস উগ্রবাদ, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বিষয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে আলোচনা করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয় নবাব আবাদুল লতিফ হল মসজিদের ইমাম মাওলানা আইয়ুব আলী, হিন্দু ধর্মের রাজশাহী ধর্মসভা মন্দিরের পুরোহিত শ্রী শম্ভুনাথ শর্মা, খৃস্ট ধর্মের ডিংগাডোবা চার্চের ফাদার সুরেশ পিউরিফিকেশন।
এছাড়াও সংলাপ অনুষ্ঠানে নগরীর বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মিডিয়া প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ম গ্রন্থের আলোকে তাঁরা বলেন, ধর্ম আমাদের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ধর্মীয় শিক্ষা হতে হবে অন্তর্ভুক্তমূলক (ইনক্লুসিভ) যেখানে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। সঠিক ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি, সহিষ্ণুতা বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে সমাজে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এসময় উপস্থিত বক্তারা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি এখন বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার হচ্ছে। অনেক সময় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্মের একটা বিশাল ঐতিহ্য আছে। বিশাল জ্ঞান–বিজ্ঞানের ইতিহাস আছে। এটা কাজে লাগাতে হবে।

সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে করণীয় বিষয়ে বক্তারা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি বাড়াতে পরিবার অবশ্যই বড় ভূমিকা পালন করে। পরিবার আমাদের সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। পরিবার থেকেই সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধ শুরু করতে হবে। মা-বাবার মুখের কথাই অনেক গুরুত্ব বহন করে। সহিংসতা ও উগ্রবাদের ভয়াবহতা নিয়ে সন্তানদের সঙ্গে কথা বলা উচিত। আমাদের সহনশীল হতে হবে। অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। উদার মনের মানুষ হতে হবে। তাহলে সম্প্রীতির মাধ্যমে সহিংসতা রোধে আমরা সফল হব।
উল্লেখ্য যে সভায় আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করার জন্যে সকলের অংশ গ্রহণে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ