নগরীতে সাম্প্রদায়িক উস্কানি, মারামারি

আপডেট: জুন ১৮, ২০২১, ১১:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে মসজিদে মাইকিঙের মাধ্যমে স্থানীয়দের উত্তেজিত করে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) রাত ১০ টার দিকে নগরের হেতেম খাঁ এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে-বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। এলাকার পরিবেশ শান্ত আছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সিপাইপাড়ার সাব্বিরের সঙ্গে শিমুলের কোনো এক বিষয় নিয়ে বুধবার (১৭ জুন) সকালে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জেরে রাতে নগরীর হেতেম খাঁর লিচুবাগান ও সিপাহীপড়া এলাকার যুবকদের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। শাওনের ছোট ভাই শিমুল এবং তার লোকজনের সঙ্গে সিপাহীপাড়ার যুবকদের মারপিটের সময় হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
এর এক পর্যায়ে নগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকিকুমার ঘোষকে দোষারোপ করে মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে একত্র হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এনিয়ে রকি কুমার ঘোষ জানান, ‘এই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটির সঙ্গে আমি কোনোভাবে সম্পৃক্ত নই। পুরো বিষয়টা আমার বিরুদ্ধে, একটি পরিকল্পিত গভীর ষড়যন্ত্র। প্রশাসন তদন্ত করে অপরাধ পেলে শাস্তি দিক। কিন্তু যারা আমাকে নিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো। ঘটনার সময়ে আমার চেম্বারের সামনে বের হয়ে শিমুলকে দেখি। এতে তার বড়ভাই শাওনকে ফোন দেয়। বিস্তারিত বলি। জিজ্ঞাসা করি আপনি কোথায়, ভাইকে থামান। তার কিছুক্ষণ পরে শাওন এসে আমাকে ডাকে। আমি গিয়ে কথা বলি, সেখানে পুলিশও ছিলো। শাওন আমাকে যেতে বলে। আমি চেম্বারের কাছে আসলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা শুনতে পাই। মাইকে ঘোষণা দেন- মসজিদ কমিটির লোকজন।’
বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণচন্দ্র বর্মণ সোনার দেশকে জানান, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা দেয়া হয়Ñ‘মালুর বাচ্চা মালু- হিন্দু হয়ে রকিকুমার ঘোষ মসজিদে হামলা করেছে, এটা আমরা মেনে নিতে পারছি না। আপনারা সবাই এগিয়ে আসুন’।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (সদর) গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, ছোটদের (কিশোর) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারপিটের ঘটনায় বড়দের (যুবক) জড়ানো হয়। এনিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ