নগরীতে সার্জেন্টের ওপর হামলাকারী যুবক নাটোরে গ্রেফতার চাকরি জীবনে এমন নৃশংস ঘটনা দেখিনি : পুলিশ কমিশনার

আপডেট: জানুয়ারি ২১, ২০২১, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী নগরীতে ট্রাফিক সার্জেন্টের ওপর হামলাকারী যুবক বেলাল হোসেন (২৬) গ্রেফতার হয়েছে। বাসে চড়ে পালানোর সময় বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে নাটোর জেলা সদরের মাদরাসা মোড় থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) একটি দল এ অভিযান চালায়।
বেলালকে গ্রেফতারের পর বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আরএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, ‘আমি আমার ২২ বছরের চাকরি জীবনে একজন অফিসারকে এমন নৃশংসভাবে মারপিট করার ঘটনা দেখিনি। আমি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে চাকরি করেছি দীর্ঘদিন। এই ঘটনা ব্যতিক্রমধর্মী, অস্বাভাবিক ব্যাপার। সে (হামলাকারী) পলাতক অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা আরএমপির বোয়ালিয়া জোনের উপকমিশনারের নেতৃত্বে একটি টিম গঠন করেছি। সেই টিম রাত ১টার সময় বেলালকে গ্রেফতার করেছে।’
পুলিশ কমিশনার জানান, হামলাকারী বেলালের মোটরসাইকেলের কাগজপত্রের মেয়াদ ছিল না। বিআরটিএতে খোঁজ নিয়ে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তাছাড়া তার মাথায় হেলমেটও ছিল না। এ কারণে সার্জেন্ট আটকালে তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং চেলাকাঠ নিয়ে এসে বেধম মারপিট করেন। সার্জেন্টের মাথায় মেরে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং তাকে মেরে ফেলার চেষ্টার জন্য হত্যাচেষ্টাসহ অন্যান্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। আমাদের অফিসার খুব খারাপ অবস্থায় ছিল। যেসব ধারা কাভার করে আমরা সেসব ধারায় মামলা করেছি। এখন আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করবো, তার উত্তেজিত হওয়ার পেছনের কারণটা কী। সে মাদকাসক্ত ছিল কিনা। তার অতীতে কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আছে কিনা সেটা দেখববো আমরা তার সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখবো।’
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীকে আবারও নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘সিসি টিভির কারণে বেলাল আমাদের হাতে ধরা পড়েছে। যারা তাকে শেল্টার দিয়েছে, তাদেরও আমরা আইনের আওতায় আনবো। রাজশাহী নগরীর প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা শহরে ২০০টি সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছি। আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের আগে মোট ৫০০ সিসি ক্যামেরা লাগাতে চাই। এই শহরে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরএমপির বোয়ালিয়া জোনের উপকমিশনার (ডিসি) সাজদ হোসেন, শাহমখদুম জোনের ডিসি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপকমিশনার ও মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুসসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলার বাদী আহত ট্রাফিক সার্জেন্ট বিপুল ভট্টাচার্য নিজেই। মামলার একমাত্র আসামি হামলাকারী বেলাল হোসেন। নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকায় তার বাড়ি। বাবার নাম শামসুল হক। বেলাল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সার্জেন্ট বিপুল এখন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখান থেকেই তিনি মামলার এজাহারে স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছেন রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার নগরীর বিলশিমলা ঐতিহ্য চত্বরে বিপুল ভট্টাচার্য নামে ওই ট্রাফিক সার্জেন্ট দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলাকারী বেলাল সে সময় হেলমেট ছাড়া একটি মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছিলেন। সার্জেন্ট বিপুল তার মোটরসাইকেলের কাগজ দেখতে চান। একই সঙ্গে হেলমেট ও কাগজপত্র না থাকার কারণে তিনি মামলা লিখতে শুরু করেন। এতে করে তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে আঘাত করে একটি হাত ও কলার বোন ভেঙে ফেলেন বেলাল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ