নগরীতে স্ত্রীর গলা কেটে মাদকাসক্ত স্বামীর নিষ্ঠুরতা

আপডেট: অক্টোবর ১৬, ২০১৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের গতকাল রোববার বিকেলে গলায় এবং গালে ব্যান্ডেজ নিয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বেডে শুয়ে আছেন সাথী ইসলাম। তার বেডে বসে আছেন মা নার্গিস খাতুন। আর একটি প্লাস্টিকের টুল নিয়ে বেডের পাশে বসে আছেন সাথীর আট বছর বয়সী ছেলে মাহিনুর হাসান। কিন্তু সাথীর পাশে নেই স্বামী হাসিবুর রহমান। কারণ এই মাদকাসক্ত স্বামী গতকাল সকালে নগরীর কলাবাগান এলাকায় স্ত্রী সাথীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল। সাথীর ঘটনার পর বাড়ি থেকে পালিয়েছেন হাসিবুর।
রামেক হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. কুমার সুব্রত রঞ্জন জানান, ধারালো চাকুর আাঘাতে সাথীর গলায় গভীর জখম হয়েছে। অল্পের জন্য শ্বাসনালি কেটে যায়নি। তার অবস্থা গুরুতর।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলাবাগান এলাকায় নিজের বাড়িতে কাজ করছিলেন। মেয়ের বাড়ি থেকে তার বাড়ি ৫০ গজের মতো দূরত্বে। সাথীর মা নার্গিস খাতুন বলেন, ‘পাশের বাড়ির এক বৌ এসে বললো, তোমার মেয়েকে তো কেটে ফেললো। কোনোমতে মেয়ের বাড়িতে গিয়ে দেখি মেয়ে আমার ঘাসের ওপর পরে আছে। চারিদিকে রক্ত। গলা দিয়ে অঝোরে রক্ত পড়ছে। আশেপাশের সবাই দাঁড়িয়ে থেকে দেখছে কেউ ধরছে না। পরে পাশের মেসের ছেলেদের ডেকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
স্বামীর ঘটনার ব্যাপারে সাথী ইসলাম বলেন, ‘ঘরে তালা দিয়ে আমি বের হচ্ছিলাম। এ সময় সে এসে আমার কাছে থেকে চাবি চায়। চাবি না দিতে চাইলে সে চুল ধরে আমাকে দেয়ালের সাথে ধাক্কা দেয়। এরপর মাজা থেকে চাকু বের করে গালে ফ্যাস দেয়। তারপর আমার পেটে ঢুকানোর চেষ্টা করে। না পেরে গলার মধ্যে চাকু ঢুকাতে যায়। এ সময় বাড়ির ভাড়াটিয়া ও অন্যরা আসলে সে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।’ এর আগে ঘরের চাবি নিয়ে জিনিসপত্র বিক্রি করে সে নেশা করেছে। ঘোষপাড়া মোড়ের এক দোকানে জিনিসপত্র দিয়ে সে নেশার দ্রব্য নেয়। তাই সাথী চাবি দিতে রাজি হয় নি।
নার্গিস খাতুন জানান, কলাবাগান এলাকার মৃত আশরাফের ছেলে হাসিবুর রহমান ওরফে মুন্নার সঙ্গে ২০০৫ সালে বিয়ে হয় সাথীর। তাদের একমাত্র ছেলে মাহিনুর। আগে ট্রাকের হেলপারি করতো হাসিবুর। কিছুদিন থেকে কোন কাজ করে না। বাড়ি ভাড়ার কিছু টাকা আর সাথী সেলাই মেশিনে কাজ করে কিছু টাকা আয় করে সংসার চালাতো। কিন্তু হাসিবুর বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে নেশা করতো। নেশার টাকার জন্য সাথীর ওপর নির্যাতন করতো। রোববারও নেশার টাকা না পেয়ে প্রথমে সাথীর গালে ছুরি চালায়। এরপর ছুরিটি গলার ভেতর ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। সাথীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে পালিয়ে যায় হাসিবুর।
এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসিবুর কোনো মোবাইল ব্যবহার করে না। তাই হাসিবুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাদত হোসেন খান জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। তবে কোন অভিযোগ বা মামলা দায়ের হয় নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ