নগরীর অধিকাংশ বহুতল ভবনে নেই গাড়ি পার্কিঙের স্থান ।। বাড়ছে যানজট, ভোগান্তিতে নগরবাসী

আপডেট: মার্চ ৬, ২০১৭, ১১:৪০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



রাজশাহী নগরীর অধিকাংশ বহুতল ভবনে নেই গাড়ি পার্কিঙের স্থান। আবাসিক এলাকার কিছু বহুতল ভবনে গাড়ি পার্কিঙের স্থান থাকলেও বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত বহুতল ভবনে গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই বললেই চলে। এর ফলে নগরীর ব্যস্ততম সড়কে যানজট লেগেই থাকে। ভোগান্তিতে পড়ে জনসাধারণ।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) আইনেও বলা আছে, বাণিজ্যিক বা আবাসিক যেখানেই হোক না কেন, বহুতল ভবনে অবশ্যই গাড়ি পার্কিঙের স্থান রাখতে হবে। আরডিএর কর্মকর্তারা বলছেন, নকশায় গাড়িং পাকিঙের স্থান দেখেই অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু রাজশাহীর মানুষরা ভবন নির্মাণের সময় তা মানেন না।
গতকাল সোমবার সারাদিন ঘুরে দেখা যায়, নগরীর ব্যস্ততম এলাকার সাহেববাজার, নিউমার্কেট ও লক্ষ্মীপুর এলাকায় অবস্থিত কোনো ভবনেই গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই। পুরাতন ভবনে তো নেই, নতুনভাবে নির্মিত ভবনেও নেই। নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট মোড়েই অবস্থিত এগারো তলা বিশিষ্ট এস এস টাওয়ারে গাড়ি পার্কিঙের স্থান থাকলেও তা ব্যবহার অনুপযোগী। প্রতিদিন শত শত মানুষ ওই ভবনে যাতায়াত করে। ফলে ভিড় লেগেই থাকে ভবনের সামনে। ফলে পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে সহজভাবে চলতে পারে না।
গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু করে মনিচত্বর মোড় পর্যন্ত কোনো বহুতল ভবনে। খোদ রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পরিচালিত মার্কেটেই নেই গাড়িং পার্কিঙের কোনো স্থান। ওই মার্কেটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই সাহেববাজার মুড়িপট্টিতে নির্মানাধীন ১০ তলা বিশিষ্ট বহুতল ভবনে। জিরোপয়েন্ট থেকে মনিচত্বর মোড় নগরীর মূল প্রাণকেন্দ্র। অথচ এই রাস্তার দুই ধারে গড়ে উঠা কোনো ভবনেই নেই গাড়ি পার্কিঙের স্থান।
সাহেববাজার কাপড়পট্টিতে নির্মানাধীন ছয়তলাবিশিষ্ট করিম অ্যান্ড সন্স বহুতল ভবনে নেই গাড়ি পার্কিঙের কোনো স্থান। অথচ এই ভবন ২০১০ সালে নির্মাণাধীন। ওই ভবনের নিচতলায় রয়েছে অসংখ্য কাপড়ের দোকান। অন্যান্য ফ্লোরেও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিপণিবিতান। করিম অ্যান্ড সন্সের এক কর্ণধার জানান, এই জায়গাটা হচ্ছে শহরের মূল প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে কেউ গাড়ি পার্কিঙের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে চায় না। এই জায়গার দাম অনেক। তবে তিনি প্রশ্ন করে বলেন, গাড়ি পার্কিঙের জায়গা না থাকার জন্য কোনো যানজট হয় না। যানজট হয় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার জন্য।
নগরীর রাণীবাজার এলাকায় পাশাপাশি গড়ে উঠেছে ছয় তলা বিশিষ্ট শহীদুল্লাহ টাওয়ার ও এম কে টাওয়ার এবং সাত তলা বিশিষ্ট এআরসি বিজয় টাওয়ার। অথচ তিনটি ভবনের কোনোটিতেই নেই গাড়ি পার্কিঙের কোনো স্থান। তিনটি ভবনেই দোকানপাট রয়েছে। রয়েছে রেস্তোরাঁ। এদের মধ্যে এআরসি বিজয় টাওয়ারের নিচতলায় দোকানপাট ও ব্যাংক থাকলেও উপরের দিকের তলাগুলো আবাসিক।
নগরীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হচ্ছে লক্ষ্মীপুর। যা চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে বিবেচিত। অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার গড়ে উঠেছে এই মোড়কে কেন্দ্র করে। অথচ এই মোড়ের আশেপাশে রাস্তার ধারে গড়ে উঠা কোনো ভবনে নেই গাড়ি পার্কিঙের স্থান। লক্ষ্মীপুর মোড়েই অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে যান ওই হাসপাতালে। অথচ এই হাসপাতালে নেই কোনো গাড়ি পার্কিঙের স্থান। বরং ফুটপাত দখল করে তৈরি করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি পার্কিঙের স্থান। এর ফলে ওইখানে যানজট লেগেই থাকে। পথচারীরাও স্বাভাবিকভাবে চলতে পারেন না। গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই পাশেই অবস্থিত বারিন্দ হাসপাতালেও। গাড়ি পার্কিঙের স্থান নেই পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালে।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, নকশায় গাড়ি পার্কিঙের স্থান রেখে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেয়া হলে বাস্তবে বহুতল ভবন নির্মাণের সময় কেউ তা মানে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ