নগরীর অবৈধ ব্যানার, ফেস্টু ও বিলবোর্ড উচ্ছেদ ।। স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ চাই

আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০১৭, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

বুধবার নগরীর বিভিন্ন সড়ক থেকে অবৈধভাবে টাঙানো ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) উদ্যোগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সড়কের পাশের বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনাও দখলমুক্ত করা হয়। আগামীতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে রাসিক। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশে প্রকাশিত হয়েছে বৃহস্পতিবার।
এ ধরনের অভিযান মাঝেমধ্যেই পরিচালিত হয়ে থাকে। তবে সেটি কতটুকু কার্যকর হয় সে প্রশ্ন নগরবাসীর আছে। তবে এটা বোঝা কঠিন নয় যে, এই ব্যবস্থাটি খুবই সাময়িকÑ কিছুদিনের মধ্যে তা আবার পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে। শুধুতো ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড অপসারণের ব্যাপার নয়Ñ ফুটপাথ দখল, রাস্তার পার্শ্বের সরকারি বা রাসিক এর জমি দখল, এমনকি ড্রেনের অংশবিশেষ দখলের প্রচুর ঘটনা আছে। রাসিক কর্তৃপক্ষ কোনটা ছেড়ে কোনটা ধরে। তবে মাঝে মধ্যে একেটিকে টার্গেট করে অভিযান চালান হয় বটে তবে তা খুব একটা কাজে আসে না। এটা অনেকটা ইঁদুর বেড়ালের খেলার মত। সাধারণ মানুষ এগুলো দেখে অভ্যস্ত। তাদের অভিজ্ঞতায় বলে এসবে কিচ্ছু হয় না, লোক দেখানো ছাড়া।
ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড টানানোকে অবৈধ বলছেন রাসিক কর্তৃপক্ষ কিন্তু এগুলোর কোনটি বৈধ আর কোনটি অবৈধÑ এটা নির্ধারণের দৃশ্যমান একটা সুযোগ রাখা দরকার। যদি এমন হয়Ñ যে দৃশ্যে সিটি করপোরেশনের ব্যানর এবং একই দৃশ্যে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যানার থাকে তা হলে কি দুটোই অবৈধ হবে নাকি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যানারটিই অবৈধ হবে। দৃষ্টান্ত সবার জন্য এক হওয়ায় বাঞ্ছনীয়। না হলে এগুলো এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে।
ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড কিংবা ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্তের সাথে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ভূমিকাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় আছে বলে মনে হয় নাÑ যা রাজশাহী শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশসম্মত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ছাড়ার নাগরিকদের সচেতন করার জন্য তেমন কর্মসূচিও লক্ষ্য করা যায় না, বিশেষ দিনগুলো ব্যতিত।
অবৈধ দখল প্রক্রিয়াকে নিরুৎসাহিত করতে হলে অভিযানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা দরকার। কোনো দখল প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হলে দখলবাজরা নিরুৎসাহিত হবে। কিন্তু দেখা যায়, দখলকারী সময়ের বিবেচনায় এক সময় তার দখলদারিত্বে পক্ষে মানবিক আবেদন তৈরি করে যে, উচ্ছেদ করলে তার জীবনজীবিকার ওপর চাপ পড়বে, তাকে বা তাদেরকে পুনর্বাসন করা দরকার ইত্যাদি মানবিক বিষয়গুলি সামনে চলে আসে। প্রথম থেকেই যদি এসব অবৈধ দখলকে নিরুৎসাহিত করা যেত, তা হলে এতো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারতো না। নগরীর এমন কোন্ ফুটপাথ আছে তা দিয়ে নিবিঘেœ পথচআরীরা চলাচল করতে পারে? দোকানের পণ্য সামগ্রি সাজান থেকে, আসবাববপত্র তৈরি, চা-সিঙ্গারা বিক্রি, মোটর মেরামতি, সেলুন, লেপ- তোষক তৈরি কী হচ্ছে না? কিন্তু এর কোনো প্রতিকার নেই। পথচারীর জন্য ফুটপাথ কিন্তু পথচারীদের অধিকার নেই ফুটপাথ দিয়ে নির্বিঘেœ চলার।
এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে, নিজ শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশসম্মত রাখার। কিন্তু নাগিরিকদের সম্পৃক্ত করতে রাসিক এর ভূমিকাই অগ্রগন্য। কর্তৃপক্ষ হিসেবে তারা একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে নাগরিক সম্পৃক্ততায় সমস্যাটি সুরাহা করতে পারেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ