নগরীর ঐতিহ্য ঢোপকল রক্ষা করুন

আপডেট: September 12, 2020, 12:02 am

ফিকসন ইসলাম:


রাজশাহীবাসীর কাছে ‘বাঘঘর’ নামে খ্যাত এখন যা শাহ মখদুম কলেজ তার ঠিক উল্টো দিকে রাস্তার ধার ঘেষে একটা ঐতিহ্য বাহী ঢোপকল এখনো আছে। কল্পনা সিনেমার মোড় থেকে তালাইমারী পর্যন্ত সড়কটি এখন প্রসস্তকরণের কাজ চলছে বেশ জোরেসোরে। রাস্তার উত্তর দিকের জমি অধিগ্রহণ করায় সেসব জমির উপরে থাকা ভবন ও স্থাপনা ভাঙ্গা হচ্ছে এখন। সেই ছেলেবেলায় যে রানীনগর এলাকায় আমাদের বেড়ে ওঠা, তখন থেকেই মানে ১৯৭৬ সাল থেকে আমরা শুনে আসছি যে ঢাকা নাটোর সড়কটি অনেক প্রশস্ত হবে আর এজন্য রাস্তার দুপাশের বাড়ি-ঘর ভাঙ্গা হবে। এরমাঝে প্রায় পয়তাল্লিশ বছর কেটে গেছে রাস্তা আর প্রশস্ত করার কাজ বা অধিগ্রহণ হয় না কিন্তু এই সময়ের মধ্যে নগরের অনেক নতুন নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে, রাস্তা চওড়া হয়েছে। কিন্তু আলোচ্য রাস্তার ভাগ্যে শিকে ছিড়েনি বলা যায়।
শেষমেশ জাতীয় চার নেতার অন্যতম রাজশাহীর কৃতি সন্তান শহিদ এএইচএম কামারজ্জামান এর সুযোগ্য পুত্র রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সফল মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এর ব্যক্তিগত আগ্রহ আর উদ্যোগে পয়তাল্লিশ বছর আগে নেয়া ভাবনার বাস্তবায়ন হচ্ছে। এজন্য প্রিয় বন্ধুবরেষু মেয়র লিটন অবশ্যই কৃতিত্বের দাবিদার, তার প্রতি ধন্যবাদ।
কল্পনা সিনেমা থেকে পঞ্চবটি পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে নগরের ঐতিহ্য আর ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে মহারানী হেমন্ত কুমারীর নিজ উদ্যোগে গড়া ঢোপকল রয়েছে। শহরবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে তিনি এই ঢোপকলগুলি নিজস্ব ব্যয়ে তৈরি করে দিয়েছিলেন। রাজশাহী নগরের উন্নয়নের জন্য আজ সেইসব ঢোপকল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। হয়তো বা আগামী ৬/৭ দিনের মধ্যেই ‘বাঘঘর’ বা শাহ মখদুম কলেজের সামনের স্থাপনা বা ঢোপকলটি ভেঙ্গে তার জায়গা হবে কোনো এক স্থাপনা কিন্তু মেয়র মহোদয় একটু উদ্যোগ নিলেই এই ঐতিহ্যের প্রতীক ঢোপকল টি কল্পনা সিনেমার সামনে যে গোলচত্বর করা হবে সেখানে স্থাপন করতে পারেন। আরেকটি তালাইমারীর গোলচত্বরে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য রেখে দিতে পারেন। তাতে করে এই ঐতিহ্যের সংরক্ষণ করা হবে- পাশাপাশি মহারানী হেমন্ত কুমারীর অবদানের কথা স্মরণ করা হবে। যেভাবে রানীবাজার মোড়ে একটা ঢোপকল সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আমাদের বিশ্বাস মাননীয় মেয়র একজন সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ, নগরবাসীর স্বার্থে তিনি এই ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
‘বাঘঘর’ নামে যে ভবনটিকে রাজশাহীবাসী দীর্ঘদিন থেকে চিনে আসছে সেখানে আসলে কোনো বাঘের মূর্তি নেই- আছে সিংহ। একসময় এই ভবনটি ছিলো পাচানী জমিদার বা রাজার আমলে কাছারি বাড়ি। এখানেই খাজনা বা ট্যাক্স আদায় করা হতো। সেখানে বড় একটা সিংহের মূর্তি ছিলো কিন্তু রাজশাহীর জনগণের কাছে সেই ‘সিংহ’টা কেমন করে যেন ‘বাঘ’ হয়ে গেছে। শাহ মখদুম কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই সিংহের মূর্তিটা কলেজের মূল ফটকে লাগিয়ে রেখেছেন।
লেখক: প্রকৌশলী