নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণে গাছ কাটার প্রতিবাদ

আপডেট: মে ২২, ২০২৪, ১০:২২ অপরাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কিছু সংখ্যক গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বুধবার (২২ মে) বিকালে নগরীর সোনাদীঘি এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জন্য নির্ধারিত স্থানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির আয়োজন করে পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদ।

কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল, ‘শহীদ মিনারের শতবর্ষী গাছ বাঁচাও, প্রাঙ্গণে বাণিজ্যিক দোকানদারি চলবে না’। সেখানে ‘আমি ঝড় আসলে পারি নাৃ’, ‘সন্ধ্যা হইতে আইসো মানুষৃ’ ও ‘উন্নয়নের নামে দেখো দেয়াল তুলেৃ’ গান পরিবেশিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের গানের দল ‘অনেস্বর’ মাদুর পেতে বসে গান পরিবেশন করে। এর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা।

পরিবেশ আন্দোলন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাহবুব টুংকু বলেন, একটি গাছ চার জন মানুষকে অক্সিজেন দেয়। ভারতে একজন মানুষের অক্সিজেনের জন্য ২৮টি করে গাছ আছে। আমরা কেউ জানি না আমাদের জন্য কয়টি গাছ আছে। আমরা এই গাছ কাটতে দেব না। যারা গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা দু’-এক জায়গায় বলেছেন— সব গাছ না, অল্প কয়েকটা কাটা হবে। এখানে ২২-২৩টা গাছ আছে। আমরা দেখছি, সব গাছই কাটার জন্য নম্বর বসিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজশাহী পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বলেন, শহীদ মিনার হোক, গাছগুলোও বাঁচুক। শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলতে দেওয়া হবে না। গাছগুলো রক্ষায় যেন ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়।

প্রকৌশলী নিয়ন আতিক শামস বলেন, শহীদ মিনার হবে, এটা নিয়ে আমাদের দ্বিমত নেই। উন্নত বিশ্বে গাছ রক্ষা করেই সব পরিকল্পনা হয়। রাজশাহীর মেয়রও বিদেশে দেখে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। সেই শহরে গাছ কেটে শহীদ মিনার নির্মাণের পক্ষে আমরা নয়।

সাবেক ছাত্রনেতা নাদিম সিনা রাজশাহী মহানগরীর সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু গাছ কেটে ফেলে কংক্রিটের দালান নয়। পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষা করে যে উন্নয়ন হয়, সেটাই আসল উন্নয়ন। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করেই উন্নয়ন হতে হবে।

কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান ও উন্নয়নকর্মী সামিউল আলীম শাওন। এ সময় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) রাজশাহীর সমন্বয়কারী তন্ময় স্যানালসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জন্য নির্ধারিত এ স্থানে আগে রাজশাহী ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সার্ভে ইনস্টিটিউট ছিল। প্রতিষ্ঠানটি আগে পরিচালনা করত জেলা পরিষদ। সার্ভে ইনস্টিটিউট নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলে গেছে। আর পুরনো ক্যাম্পাসের জায়গা জেলা পরিষদের আছে। এ জায়গায় এখন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ১৮ মে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল কাজের উদ্বোধন করেছেন।