নগরীর ক্লিনিক-ফার্মেসি-ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিশ্চিত হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২২, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী অঞ্চলে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। চোখ রাঙাচ্ছে ওমিক্রন। এ অবস্থায় সংক্রমণ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে বিধি-নিষেধ জারি করেছে সরকার। কিন্তু করোনা সংক্রমণের অন্যতম হটস্পট ক্লিনিক-ফার্মেসি-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিশ্চিত হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। এতে সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় অবস্থিত ক্লিনিক-ফার্মেসি-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘুরে দেখা যায়, ক্লিনিকগুলোতে কর্মরত কর্তকর্তা-কর্মচারীরা অধিকাংশের মাস্ক থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরছেন না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের রিসিপশনে কর্মরতদের নাকের নিচে মাস্ক ঝুঁলিয়েই রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে। আর প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই সামাজিক দূরত্বের কোনো বালাই নেই। রোগীরা গাদাগাদি করে বসে থেকে ডাক্তারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

পরিদর্শনে নগরীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সবচেয়ে বেশি রোগী সমাগম দেখা গেছে। আগত রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশের মুখে মাস্ক ছিলো না। সামাজিক দূরত্বেরও কোনো বালাই ছিলো না। একই চিত্র দেখা গেছে, ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দি অ্যাপলো ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সিডিএম হাসপাতাল, লেজার হাসপাতাল, জমজম ইসলামি হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও।

দি অ্যাপলো ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টারের এমডি ইমাম হোসেন জানান, তারা বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতে রোগীদের উদ্বুদ্ধ করছেন। যেসব রোগী বা তাদের স্বজন মাস্ক ছাড়াই আসছেন তাদেরকে তারা মাস্ক সরবরাহ করছেন। এছাড়া সরকারি বিধি-নিষেধ প্রতিষ্ঠানের সামনেই টাঙানো আছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলেও জানান ইমাম হোসেন। অথচ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তার এবং তার প্রতিষ্ঠানের রিসিপশনে কর্মরতদের মুখে মাস্ক ছিলো না।

ইসলামি ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাসিসটেন্ট অফিসার মো. শাহিন জানান, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে স্পেস সমস্যার কারণে কিছু কিছু সময় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হচেছ না। তবে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ মাস্ক ব্যবহারে হাসপাতালে আগতদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এবং সিংহভাগ মানুষ তা মানছেন।

তিনি আরও জানান, এই হাসপাতালে সাড়ে ৩০০ জন কর্মরত আছেন। এদের ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় এসেছেন- এমন তথ্য প্রতিটি বিভাগ থেকে এসেছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশদের তথ্য এখনো আসে নি। তবে দ্রুতই এটা এসে যাবে। কেউ ভ্যাক্সিনেশনের বাইরে থাকলে তাকে দ্রুতই ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনা হবে।
এছাড়া এ বিষয়ে কথা বলতে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায় নি। পরে ম্যানেজার ফরিদ মো. শামিম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

নগরীর প্রায় সকল ফার্মেসির সামনেই ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিস ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন’ এমন সতর্কীকরণ বার্তা ঝুঁলানো থাকলেও নিজেরাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। ফার্মেসিতে কর্মরতদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক ছিলো না। মাস্ক না পরেই একের পর রোগী ও তাদের স্বজনদেরকে মেডিসিন সরবরাহ করছেন তারা। অনেক ক্রেতাও মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এতে নিজে সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি অন্যান্য সাধারণ রোগী ও স্বজনদের সংক্রমিত করার ঝুঁকি বাড়ছে। অথচ নিজেরা মাস্ক ব্যবহার না করলেও অন্যদের মাস্ক ব্যবহারে সতর্ক করা হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তারা।

পলাশ ফার্মেসীর মালিক ফজলুর রহমান জানান, তার ফার্মেসিতে চারজন কর্মরত আছেন। সবাই করোনার ভ্যাক্সিন নিয়েছেন। আর সবাই বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার করছেন। তবে কখনো কখনো মাস্ক খুলে রাখছে।
মহারাজ ফার্মেসির ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, মাস্ক এখন সবাই ব্যবহার করছি। তবে সব সময় মাস্ক পরে থাকা যায় না। তাই যখন ক্রেতা সমাগম থাকে না সেসময় মাস্ক নাকের নিচে অথবা খুলে রাখি। আর এখানে মোট ৪ জন কর্মচারী আছে। সবাই ভ্যাক্সিন নিয়েছে।

এদিকে, শুধু হাসপাতাল নয়- সংক্রমণের হটস্পট লক্ষ্মীপুর এলাকায় রোগীর সেবা সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স সেবা, খাবারের দোকান, অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই থাকছে না। কাছে মাস্ক থাকলেও তা থাকছে নাকের নিচে অথবা থুতনিতে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা জানান, হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে রাজশাহী সিভিল সার্জনের প্রতিনিধিরা কাজ করছেন। ফার্মেসিগুলোতে ভোক্তার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতেও অভিযান চলছে। এখন অভিযান পরিচালনা করার সময় আমরা যখনই যায়- ফার্মেসিতে বিক্রেতাদের মুখে মাস্ক দেখতে পাই। এখন আমরা চলে আসার পর অনেকেই হয়তো মাস্ক পরছেন না। আসলে সব সময় ওইভাবে মনিটরিং করাও সম্ভব না। তাই তাদের মাস্ক ব্যবহারে আইনানুগ ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রমকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।