নগরীর তালাইমারী পদ্মার তীরে অবৈধভাবে আবারো বালু উত্তোলন

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১, ১০:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীর তালাইমারী এলাকা দিয়ে আবারো অবৈধভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কয়েক মাস বালু তোলা বন্ধ থাকলেও গত কয়েক দিন থেকে আবারো বালুকারবারিরা সেখানে অবৈধভাবে বালু তুলছেন। পদ্মাপাড়ের এই এলাকায় একাধিকবার প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে ঘাটটি বন্ধ করেছিল জেলা প্রশাসন। সর্বশেষ গত ১১ সেপ্টেম্বর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে তালাইমারি পয়েন্টে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করে। এরপর সেখানে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়া হয়। কিন্তু মাস যেতে না যেতে সেখানে ফের শুরু হয়েছে অবৈধ বালুকারবার। জানা গেছে, তালাইমারী ঘাট দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে একাধিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসকের দপ্তরে। অভিযোগগুলিতে বলা হয়েছে, তালাইমারী পয়েন্টে কোনো বৈধ বালুঘাট বা বালুমহল নেই। এরপরও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালুদস্যুরা সেখানে অবাধে বালু উত্তোলন করছে।

রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১ টায় সরেজমিন তালাইমারি ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ড্রেজিং করে পাইপের মাধ্যমে সেখানে অবৈধভাবে বালু তোলা করা হচ্ছে। কয়েকদিন থেকে চলছে এই বালু তোলার মহোৎসব। নদীর ৬ কিলোমিটার ভাটিতে একটি বালুমহালের ইজারাদার নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন তার নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে তিনি এভাবে বালু তুলছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বালু তোলার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কৌশলে ছবি তুলতে গেলে এক যুবক প্রতিবেদকে ছবি তোলার বিষয়ে জানতে চায় ? কেন ছবি তুলছেন ? কে আপনি? এখানে কিসের জন্য এসেছেন? প্রতিবেদক পদ্মাপাড়ে বেড়ানোর কথা বলে কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ওই এলাকার স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, এর আগে প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট এসে বালু তোলা বন্ধ করে দেন। কয়েকদিন পর রাতে আবারো বালু উত্তোলন শুরু হয়। এরপর থেকে গত কয়েকদিন থেকে দিন-রাত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে এখান থেকে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা আনার আলী জানান, তালাইমারী নগরীর মধ্যে ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে পদ্মার বাঁধ কেটে নিজেরা সড়ক বানিয়ে একদল বালুকারবারি কয়েক মাস আগে বালু উত্তোলন শুরু করেন। অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তা বন্ধ করা হয়। জেলা প্রশাসনের তরফে নোটিশ লাগিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়। কিন্তু কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার বালু তোলা শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শুস্ক মৌসুমে পদ্মায় রাস্তা করে ট্রাক নামিয়ে বালু তোলা হত। এখন পদ্মায় অনেক পানি থাকায় পাড়ে বালু মজুদ করা হচ্ছে। এলাকাবাসী বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। বালুকারবারিরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী তাদের এখন বাঁধা দিতে সাহস পাচ্ছে না।

তালাইমারী ঘাট এলাকার আরেক বাসিন্দা রমজান আলী অভিযোগে বরে বলেন, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর বুক থেকে বালু তুলে জমা করা হচ্ছে পাড়ে। ভেকু দিয়ে ওই বালু ট্রাকে ভরছে। এসব বালু নগরীর বিভিন্ন সড়ক হয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছে। এভাবে কোটি কোটি টাকার বালু লুট করা হলেও কেহ কিছু বলছেনা। এ কারণে এলাকাবাসী ও অন্য বালুমহালের ইজারাদাররা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসক ও পুলিশের কাছে একাধিক অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর তালাইমারী এলাকা দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে ইতোপূর্বে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল। বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন এই রিট করেছিলেন। উচ্চ আদালত তালাইমারীতে কোনো বালুঘাট না থাকায় তা বন্ধের আদেশ জারি করেন। কিন্তু সেই আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত লোক উচ্চ আদালত ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করেই পদ্মা থেকে অবাধে বালু তুলছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল জানান, তালাইমারী বালুঘাট কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবুও নির্দেশ অমান্য করে বালু তোলা হচ্ছে অভিযোগ পেয়েছি। বিভিন্ন অনলাইন ও পত্রিকায় নিউজ হয়েছে। বিষয়টি আমিও জেনেছি। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্টেটকে বলেছি। দ্রুত নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ