নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো নজরদারি না থাকায় বেড়েছে অপরাধ

আপডেট: মে ২৬, ২০১৭, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ছবি: প্রতীকী

নিরাপদ শহর ও জনসাধারণের সুরক্ষায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন নগরীর ১৭টি পয়েন্টে ৬৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলো। এতে ব্যয় হয় ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। এর আগে মহানগর পুলিশের উদ্যোগেও ৮টি পয়েন্টে ১৬টি সিসিক্যামেরা বসানো হয়। নগরীর মোট ২৫টি পয়েন্ট ৮১ সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়। যার ফলে মহানগর পুলিশের নজরদারিও বাড়ে। কিন্তু সম্প্রতি সিসিক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়লেও পুলিশের ভ্রুক্ষেপ নেই। প্রায় এক মাস আগে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সদর দফতরের সিসিটিভি ক্যামেরার মনেটরিং ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সুযোগে অপরাধীদের দাপট বেড়েছে। বেড়েছে চুরি ছিনতাই।
সুত্রমতে, গেলো ২ ফেব্রুয়ারি সিসিটিভি ক্যামেরা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম ও সিটি করপোরেশনের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযাম উল আযীম। আরএমপির কমিশনার সেদিন বলেছিলেন, রাসিকের এই উদ্যোগে অপরাধ কমে আসবে, অপরাধী ধরা পড়বে এবং নগরীর ট্রাফিক জ্যামও নিয়ন্ত্রিত হবে। কিন্তু ক্যামেরাগুলো বর্তমানে সবই অচল।
ক্যামেরাগুলো সচল না থাকার কারণে নগরীতে বেড়েছে অপরাধ। প্রায় প্রতিনিয়ত ঘটছে চুরি ছিনতাই। এসব ঘটনা প্রতিরোধে সিসিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারতো বলে মনে করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। গত শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভিতর থেকে মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসলাম-উদ-দৌলার মোটরসাইকেল চুরি হয়। ওই সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ওই সিঁড়ি বারান্দায় পাহারায় ছিলেন নগরীর উপকণ্ঠ কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার নজরুল ইসলাম। এর আগেও ওই একই স্থান থেকে কয়েকবার সাইকেল ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত সিসিক্যামেরায় চোর পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়ে। কিন্তু ওই সময় সিটি করপোরেশনের ক্যামেরা অচল থাকায় সেই দৃশ্য ধরা পড়ে নি।
গত ২৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক একেএম মাহমুদুল হকের মোটরসাইকেল সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন থেকে চুরি করে দুজন দুর্বৃত্ত। এই ঘটনায় বিভাগের সিসিটিভি ফুটেজসহ মামলা করেছেন তিনি। ওই ঘটনাটিও সিটি করপোরেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা এড়িয়ে গেছে। এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ঝড়ের কারণে ক্যামেরাগুলো ভেঙে গেছে। সংযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে গেছে। ক্যামেরাগুলো পুনঃস্থাপনের কাজ চলছে। খুব দ্রুতই এগুলো মেরামত করা হবে।
সুজন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, শান্তির নগরী রাজশাহীতে মানুষ যেন সুস্থভাবে জীবনধারণ করতে পারেন তা নিশ্চিত করতে কোটি টাকা ব্যয়ে সিসিক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিলো। আশা করেছিলাম, সিসিক্যামেরা বসানোর ফলে অপরাধ করে সহজেই কেউ পার পাবে না। অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে। কিন্তু এখন দেখছি, সিসিক্যামেরা শুধু শোভাবর্ধন করছে। কোনো কাজে আসছে না। অবিলম্বে জনগণের করের টাকায় কেনা সিসিটিভি ক্যামেরা সচল করার উদ্যোগ নেয়ার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় অপরাধ বাড়ছে। রমজান মাসকে সামনে রেখে এই অপরাধপ্রবণতা চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের মাত্রা বহুগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে। পাশাপাশি সিসিক্যামেরাগুলো সচল করে নজরদারি বাড়ানো দরকার।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতে খায়ের আলম জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে সিসি ক্যামেরাগুলোর লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। অনেকগুলো ক্যামেরা ভেঙে গেছে। বিষয়টি সিটি করপোরেশনকে জানানো হয়েছে। তাদের আইটি বিভাগ বলেছে, তারা শিগগিরই এসব ক্যামেরা সচল করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবে।