নগরীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ একনেক’র সভায় প্রকল্প অনুমোদন

আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০১৭, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজশাহী মহানগরীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকার প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে একনেকে চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভায় ৮টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পটি অনুমোদনের ফলে রাজশাহী নগরীতে মানসম্মত ভৌত অবকাঠামোর মধ্যে সড়ক, নর্দমা ও কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে টেকসই ও নাগরিক-বান্ধব আবাসস্থল হিসেবে রাস্তা ও নর্দমার উন্নয়ন হবে।
রাসিকের তথ্য মতে, রাজশাহীর উন্নয়নে সিটি করপোরেশন এলাকায় সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পটি। রাজশাহীর মানুষের উন্নয়ন ও বিশেষ ভালবাসার উপহার স্বরূপ এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে সৌভাগ্য বলে মনে করেন রাসিক কর্তৃপক্ষ।
গতকাল একনেকের সভায় মোট তিন হাজার ২৮৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে পাওয়া যাবে ২ হাজার ৪১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেবে ৩৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮৪২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।

এবিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, এ প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। ২০১৭ সালের জুলাই হতে ২০১৯ সালে ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, ১৩২ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ,  সড়ক উন্নয়ন ও বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণ, ৪৯ দশমিক ২১ কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন এবং ক্রস ড্রেন নির্মাণ, ১৯ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ, বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাস্তার পাশে ২ দশমিক ৩০ কিলোমিটার রক্ষণামূলক দেয়াল নির্মাণ কাজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেল স্টেশনের ৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পূর্ব-পশ্চিম এবং সিটি হাটের চারদিকের সড়কে মাটি ভরাটকরণ, বহরমপুর মোড় থেকে কাশিয়াডাঙা মোড় পর্যন্ত ও ৪ দশমিক ২৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত, উভয় দিকে ফুটপাত বাইসাইকেল লেন হবে ও অন্ধদের জন্য টেকটাইল নির্মাণ করা হবে।
রাজশাহী বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম মহানগরী। মোট ৯৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট নগরীতে ৩০টি ওয়ার্ড রয়েছে, যা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ। এছাড়া পাশের উপজেলা থেকে অভিবাসনের ফলে মূল নগরীর জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিবাসনকৃত জনগণ নগরীর অপেক্ষাকৃত অনুন্নত ওয়ার্ডগুলোতে বাস করেন। যেখানে নতুন রাস্তা ও নর্দমা নির্মাণের প্রয়োজন।
বিদ্যমান রাস্তাগুলো অত্যন্ত সরু এবং নর্দমাগুলো অগভীর হওয়ার কারণে যানজট ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে এসব এলাকার ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। এরফলে নাগরিক সেবাগুলো জনগণের নিকট নির্বিঘ্নে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে নগরবাসীর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন হবে।
এছাড়া একনেকের সভায় শেষে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় বলা হয়, পুলিশের সব সদস্যদের জন্য পরিপূর্ণ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি দেশের যেসব এলাকায় এখনও পুলিশের প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা নেই, সেসব এলাকার জন্য আলাদা করে প্রকল্প না নিয়ে সব এলাকার জন্য একসাথে একবারে বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে বলেছেন।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাতে ঝুুঁকিপ্রবণ উপকূলীয় এলাকায় সরকারিভাবে যেসব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, এই ভবনের ছাদের পানি ধরে রাখার জন্য ভবনের সাথে জলাধার নির্মাণ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যাতে জলাধারে বৃষ্টির পানি ধরে ব্যবহার করা যায়।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে-উপকূলীয় শহর পরিবেশগত অবকাঠামো প্রকল্প (সংশোধিত), এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা।
কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট- মিঠামইন সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। বরিশাল মেট্রোপলিটন ও খুলনা জেলা পুলিশ লাইন নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ দুটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ১০ কিলোওয়াট এফ.এম বেতার কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৮ লাখ টাকা।
এদিকে গতকাল রাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, রাজশাহীর সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে ১৭৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়েছেন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।