নগরীর হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানা হচ্ছে না নির্দেশনা

আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২২, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনার সংক্রমণে এরইমধ্যে রাজশাহীকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস রুমে পাঠদান কার্যক্রম। কিন্তু রাজশাহীর হোটেল-রেস্তোরা, শপিংমল ও দোকানে নির্দেশনা ঝুঁলানো ছাড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ লক্ষ করা যাচ্ছে না। যাচ্ছে না। খাবার হোটেলে সামাজিক দূরত্ব ও টিকা কার্ড প্রদর্শন করে বসে খাবার খাওয়ার যে নির্দেশনা তা তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ফুটপাতেও স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফাস্ট ফুডের দোকান ও চায়ের দোকানে জমছে আড্ডা। এমন কী বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহারও নিশ্চিত হচ্ছে না। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসনিক কোনো উদ্যোগও নেই।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সনদ থাকলে ভালো হয়। না থাকলেও চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে। সনদ দেখানোর বিষয়ে ক্রেতাদের বলতে গেলে তারা চলে যাচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াও দেখাচ্ছেন। একারণে টিকা সনদের নির্দেশনা দোকানের সামনে ঝুঁলানো আছে। সামাজিক দূরত্ব সব সময় নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চেষ্টা করছি। আর বসে খাওয়ার সময় তো আর মাস্ক পরে থাকতে বলা যায় না। তবে ক্রেতাদের সচেতনতার জন্য সরকারি নির্দেশনা সংবলিত প্লে-কার্ড টাঙানো হয়েছে।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) নগরীর বিন্দু হোটেল, রহমানিয়া হোটেল, কোলকাতা কাচ্চি অ্যান্ড তেহেরী ঘর, নবাব কিচেন, চিলিস, টিএফসি, সুলতানা কিচেনসহ অন্যান্য রেস্টুরেন্টসহ ছোট ছোট খাবার হোটেলগুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রেস্টুরেন্টে ও খাবার হোটেলে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। কিছু জায়গায় যেসকল গ্রাহক পার্সেল নিচ্ছেন তাদের মাস্ক ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। তবে বসে খাবার খেতে টিকা সনদ প্রদর্শনে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

নগরীর টিএফসি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সাইদুল ইসলাম রানা বলেন, নির্দেশনা মেনে রেস্তোরাঁ চালাতে গেলেও প্রতিটা পদক্ষেপেই নানাভাবে বাঁধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে ভোক্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ানোসহ বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখিন হচ্ছেন মালিক-কর্মচারীরা।

নবাব কিচেন রেস্তোরাঁর অর্ণব জানান, এখানে অনেকে আসছেন। তাদেরকে করোনা টিকার সনদের কথা বললে বলছেন, আমরা ভ্যাকসিন সনদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করার কে? আবার গ্রাহক একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে চলে যাচ্ছে। জানতে চাইলে কিছু গ্রাহক উল্টো আমাদেরকেই জিজ্ঞেস করেছে? এমন পরিস্থিতিতে আমরা আসলে কী করবো; তা জানা নেই। তাই বিকল্প হিসেবে আমরা রেস্তোরাঁর চারপাশে সরকারের নির্দেশনার বিষয়ে জানিয়ে দিয়েছি।

চিলিজ রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার সুজন বলেন, আমাদের সকল স্টাফদের করোনা টিকার সনদ আছে। অনেক সময় ভিড় তৈরি হচ্ছে। আসলে ফিরিয়ে দেয়া খুব একটা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করছি। যাতে করে তারা করোনা টিকার সনদ দেখায় এবং পরবর্তী সময়ে আসার সময় নিয়ে আসেন। বেশ কিছু গ্রাহক ১ম ডোজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন এমন কথা বলছেন। কেউ কেউ এসএমএস বা কাগজ দেখাচ্ছেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠান খোলা রাখাই হবে। এগুলো দেখতে গেলে ব্যবসা হবে না। এ কারণে টিকা সনদ নিয়ে আমরা গ্রাহকদের সঙ্গে তেমন জোর করতে পারছি না।

সুলতানা কিচেনের ম্যানেজার মুরশিদ-উল্যাহ বলেন, রেস্তোরায় খেতে হলে ভ্যাকসিন কার্ড দেখাতে হবে। এটা সরকারের খুবই ভালো একটা সিদ্ধান্ত যা বাস্তবতার প্রেক্ষিতে অবাস্তব। এমন নির্দেশনা দেওয়ার আগে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায়ের কারোর সঙ্গেই এখন পর্যন্ত বসেন নি। এ নির্দেশনা কিভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে তা নিয়েও আলোচনা করে নি। আমরা যে অন্যদের সুরক্ষা দেবো। তারা তো নিজেরাও সুরক্ষিত না। রেস্তোরার যে শ্রমিকরা কাজ করছে তাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়টিও তো নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই আমাদের রেস্তোঁরায় আসছেন। তারা ভ্যাকসিন নেয়ার কার্ড দেখাচ্ছেন। আসলে বুঝব কিভাবে যে সেই কার্ড নকল না আসল। সবাই তো বার কোড বোঝে না। এছাড়া ভ্যাকসিন নেয়ার কার্ড আছে কি না? এটা জিজ্ঞেস করতেই খারাপ লাগছে। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের অবস্থা অনেক খারাপ। অনেকেই দেখা গেছে তার মূলধন হারিয়ে ফেলে শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। অনেকেই দেখা গেছে পারিবারিক সমর্থন নিয়ে জায়গা জমি বা গয়নাগাটি বিক্রি করে এই ব্যবসা করতে আসছে। রেস্টুরেন্ট খাত লাভজনক ছিলো। এখন পথে বসার পর্যায়ে। একেক সময় একেক ঝড় যা নিয়ম ভাঙতে বাধ্য করছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সাবিহা সুলতানা বলেন, আমাদের ডিসি স্যার এখন করোনায় আক্রান্ত। এখন স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। তবে রেস্টুরেন্টগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে ডিসি স্যার বললে আমরা করবো। এ বিষয়ে স্যারের সঙ্গে কথা হচ্ছে।