নগরীর ৮০ শতাংশ মানুষ মাস্ক পরছে না ১১ দফা বিধিনিষেধ মানাতে হবে

আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

সরকারের দেয়া ১১ দফার বিধিনিেিষধ কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে? প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। অবশ্য বিধিনিষেধের সূচনায় অনেকটা নমনীয়ভাবে দেখা হচ্ছে। চলতে পথে কিংবা বিপণি-বিতানে, যানবাহনে কিংবা রেস্ট্ররেন্টে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সতর্ক করছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা মাস্ক পরিধানের কথা বলছেন এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন। তবে সাধারণ মানুষ যেভাবে বেপরোয়া চলাচল করছে তাতে শক্ত না হলে তাদের লাগাম টেনে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। অথচ করেনাভাইরাস বা ওমিক্রন ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপি অধিক কার্যকর পন্থা হল মাস্ক পরিধান করা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেই প্রাধান্য দেয়া।
দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় শুক্রবার শীর্ষ শিরোনামে করোনা বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সোনার দেশ কৃত ওই তাৎক্ষণিক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- নির্দেশনার প্রথম দিনে রাজশাহী নগরীতে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষকে মাস্ক ছাড়াই চলাচল করতে দেখা গেছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে রিপোর্টারের পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র উঠে আসে।
অন্যান্য দিনের মতোই বিকেলের পর নগরীর চায়ের দোকান, ফাস্ট ফুডের দোকান, খাবার হোটেল ও পর্যটন স্পটগুলোতে জনসমাগম দেখা গেছে। জটলা বেঁধে জমছে আড্ডা। সেখানেও বাধ্যতামূলক মাস্ক ব্যবহারে তেমন তাগিদ লক্ষ্য করা যায় নি। তবে ব্যবসা-সংশ্লিষ্টরা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, তারা শুক্রবার থেকে সরকারের দেয়া বিধি নিষেধ মেনেই বেচাকেনা করবেন।
তবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া না গেলে করোনা সংক্রমণের গতি আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে- তা বলার অপেক্ষা রাখে না। নমনীয় মনোভাব যে সাধারণ্যে গুরুত্ব লাভ করে না- তা এর আগের বিধিনিষেধকালে পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রশাসনকে কঠোর হতেই হয়েছে। বাড়ির বাইরে যে-ই আসুক না কেন তাকে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। অন্যদিকে যানবাহন, বাজার-শপিংমলে কিংবা রেস্ট্ররেন্টে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে। এর অন্যতা হলেই আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমান আদালত সবসময় কার্যকর ভূমিকা রেখেছে- নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় কাল বিলম্ব করা যথার্থ হবে না। রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোরও পূর্বের মত ভূমিকা পালনের সময় এসেছে। চলমান করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্মিলিতভাবেই ঠেকাতে হবে। জীবন-জীবিকা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। সরকারের দেয়া ১১ দফার বিধিনিষেধ প্রতিপালিত হলে করোনার চলমান সংক্রমণের ধারাকে রুখে দেয়া সম্ভব হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ