নগরীর ৯৫২টি পুকুর সংরক্ষণ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়িত হোক

আপডেট: আগস্ট ১১, ২০২২, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহী মহানগরের রেকর্ড অনুসারে বিদ্যমান ৯৫২টি পুকুর সংরক্ষণসহ কয়েকদফা নির্দেশনা সংবলিত রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। পুকুর ভরাট বন্ধে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে ৮ আগস্ট হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রিটকারীদের আইনজীবী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
রাজশাহী শহরের ৯৫২ পুকুর সংরক্ষণসহ আরও কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, রাজশাহী শহরে আর যেন কোনো পুকুর ভরাট বা দখল না হয়, তা বিবাদিদের নিশ্চিত করতে বলেছেন হাইকোর্ট। সিটি মেয়র, পরিবেশ, র‌্যাব ও জেলা প্রশাসনকে বিদ্যমান পুকুরগুলো সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে পুকুরগুলো যাতে অক্ষত (অরিজিনাল) অবস্থায় থাকে তা বিবাদীদের নিশ্চিত করতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এ মামলা চলমান থাকবে এবং রাজশাহীর অনেক পুরাতন দিঘীর দখল করা অংশ পুনরুদ্ধার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সংরক্ষণ করতে হবে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। দেশের উচ্চ আদালতের এই নির্দেশনা মহানগরবাসীর আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন। সন্দেহ নেই আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নগরীর পরিবেশ সমুন্নত রাখা যাবে।
একটা সময় ছিল- রাজশাহী শহরকে পুকুরের শহর হিসেবে অভিহিত করা হতো। পাড়া-মহল্লায় ছোট-বড় অসংখ্য পুকুর ছিল। পরিবেশ উপেক্ষা করে বৃহৎ আকারের অনেক পুকুর ভরাট করে সেগুলোতে সরকারি- বেসরকারি উদ্যোগে নানাবিধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এসব পুকুর রাজশাহী শহরের আবহাওয়া শীতল রাখতে সহায়ক হত। এ ছাড়া শহরবাসীর দৈনন্দিন জীবনের পানির চাহিদা পূরণ করতে।
পুকুর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যও। পুকুরপাড় মানুষের প্রশান্তি ও বিনোদনের স্থান। সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী মহানগরীর সৌন্দর্য সৃষ্টিতে এক অন্যন্য মাত্রা যোগ করেছেন, যা সারা দেশে একটি উদাহরণও বটে। বাইরের যে ক্হেই রাজশাহী মহানগরীতে আসছেন তারা এই শহরের পরিস্কার-পারিচ্ছন্ন এবং সবুজ-নানাবর্ণশোভিতফুল সৌন্দর্যের প্রশংসা না করেই পারছেন না। দেশের উচ্চ আদালতের রায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে পরিবেশ রক্ষার তাগিদ দিয়েছে। নগরীর ৯৫২টি পুকুর সিটি করপোরেশনকে উপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশনা সিটি মেয়রের নগরসৌন্দর্য সম্প্রসারণের আইনি ভিত্তি আরো মজবুত হল। নিঃসন্দেহে মাননীয় মেয়রের জন্য এটি উৎসাহব্যঞ্জক।
প্রত্যাশা এই যে, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা মেনে ৯৫২ টি পুকুর সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এবং একই সাথে এসব পুকুর নগর-সৌন্দর্যের সম্পূরক করে গড়ে তুলতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ