নগর আ’লীগের উদ্যোগে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অনেকের সহ্য হচ্ছে না : লিটন

আপডেট: জুন ৫, ২০২২, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিএনপি কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে শনিবার (০৪ জুন) বিকাল ৫টায় কুমারপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এসে শেষ হয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মো. ডাবলু সরকার।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, একাত্তর সালের পরাজয়ের পর থেকে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি কখনো পশ্চিমাদের আশ্রয়ে-প্রশয়ে মদদে, কখনো এদেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে নানা রকম অপপ্রচার, অপকর্ম এবং হত্যাযজ্ঞ করেছে।

এই সমস্ত অপকর্ম যারা করেছে, কখনো মুসলীম লীগ, কখনো জামায়াতে ইসলামী, কখনো ইসলামী ছাত্রশিবির, কখনো ছাত্রদল, যুবদল, জাতীয়তাবাদী দল, আবার নানা নামে নানা বর্ণে তারা আওয়ামী লীগ তথা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে উৎখাত করতে চায়। গ্রীষ্ম ও শীতকালে কিছু কিছু মানুষের মাথায় যেমন বিগাড় ওঠে, তারা উল্টাপাল্টা বলে। সেই রকম বিগাড় উঠেছে আজকে বিএনপি, ছাত্রদল ও তাদের সহযোগীদের, মির্জা ফখরুলরা আজকে ভুল বকা শুরু করেছে। তারা বিগত এতোগুলো বছর ধরে বলে আসছে, কখনো ইদের পরে, কখনো রোজা আগে, কখনো পূজার পরে আওয়ামী লীগকে উৎখাত করা হবে। আমরা শুনতে শুনতে টায়ার্ড হয়ে গেলাম।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমাদের নেত্রীকে নিয়ে ছাত্রদলের নেতারা কটূক্তি করেছে এবং তারা বলেছে, ‘পঁচাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার।’ পঁচাত্তর একবারই হয়েছে। এই বাংলার মাঠিতে পঁচাত্তর আর কোনো দিন হবে না। পঁচাত্তরের যারা খুনী ছিল, কুশিলব ছিল, তাদের অনেককেই ইতোমধ্যে দুনিয়া থেকে লজ্জাজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছে। তাদের নামও মানুষ মনে রাখেনি, মনে রাখতে চায় না।

পঁত্তাচরের ঘটনার নেপথ্যের নায়ক জিয়াউর রহমান ও খন্দকার মোশতাক। তাদের একজনকে তারই লোকজন গুলি করে হত্যা করেছে। আর খন্দকার মোশতাক ঢাকায় তার জানাযা করা, দাফন করা সম্ভব হয়নি। কুমিল্লার দাউকান্দিতে তার মৃতদেহ নিয়ে গেছে, মানুষ ঘৃণায় সেখানে তার জানাযা করতে দেয়নি। লুকিয়ে তার আত্মীয়-স্বজন তাকে দাফন করেছে। এই হলো পাপের শাস্তি। পাপীর বিচার আল্লাহ নিজেই করেন, বাংলার জনগণ তো করবেই।

রাসিক মেয়র লিটন আরও বলেন, আজকে নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন, অনেকের সহ্য হচ্ছে না। গায়ে জ্বালা ধরেছে। বিএনপি ও তার সঙ্গে যারা আছে, তারা স্বপ্ন দেখছেন, জোট করেছেন। জোট করতেই পারেন আপত্তি নাই। তবে জোট করে আন্দোলন করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামাবেন, সেই স্বপ্ন কখনো বাস্তবায়ন হবে না। আপনাদের এতো চক্রান্তের পরেও আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উপহার দিয়ে ফেললেন এবং আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করে সেতু দিয়ে পার হবেন তিনি।

খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, শকুনের দোয়ায় গরু মরে না। বিএনপি-জামায়াত নামের শকুন, যারা জাতির পতাকা খামচে ধরেছে, তাদের বলতে চাই, এখনো সময় আছে ভদ্র হয়ে যান, ভালো হয়ে যান। কারণ কথায় বলে ভালো হতে পয়সা লাগে না। আপনারা যার আশায় আছেন, লন্ডন থেকে যুবরাজ আসবে, বাংলার মানুষ রাজপথ কাঁপিয়ে বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে নিয়ে আসবে, এই দুঃস্বপ্ন আপনাদের দেখা উচিত নয়। কারণ এই দুঃস্বপ্ন কখনো বাস্তবায়িত হবে না।

তারেক জিয়া যদি এদেশে ফিরে আসে বাংলাদেশ বলে কিছু থাকবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে সবকিছু। যারা তারেক জিয়া ও বিএনপির রাজনীতি করছেন তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, ছাত্রদলকে সাবধান করুন। আমাদের নেত্রী এখনো কিছু বলেন নাই। আমাদের দল থেকে বলা হয় নাই যে ধরে ধরে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরকে পেটাও।

আমাদের নেতাকর্মীরা র্ধৈয্য ধরে আছে। ঢাকা থেকে একটি যদি আওয়াজ আসে, একটি যদি সিগনাল আসে, তাহলে আপনাদের বাড়ি বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসব। পুলিশ লাগবে না, র‌্যাব লাগবে না, বিজিবি লাগবে না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্ব্চ্ছোসেবক লীগ এখনো রাজপথে আছে, তার একটি ছোট প্রমাণ আমরা এখানে দিলাম।

মেয়র লিটন আরো বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। আরো অনেক প্রকল্প মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের জন্য নিয়েছেন। গৃহহীন মানুষের জন্য গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া সারা পৃথিবীতে কোথাও এই দৃষ্টান্ত নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার মতো ধনী দেশেও গরীবের জন্য বাড়ি করে দেওয়া হয় না। বাংলাদেশে সেখানে শেখ হাসিনা গৃহহীনদের গৃহ বানিয়ে দিচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে ১০ লাখ মানুষকে গৃহ দেবেন তিনি।

রাজশাহীবাসীর উদ্দেশে রাসিক মেয়র বলেন, রাজশাহীর উন্নয়ন আপনারা দেখছেন, সারাদেশের উন্নয়ন আপনারা দেখছেন। উন্নয়নের সঙ্গে আপনার ভাগ্য জড়িত, আপনার সন্তানদের ভাগ্য জড়িত, ভালো শিক্ষা, ভালো চাকরি, বিদেশে উন্নত ব্যবস্থা সবকিছুই সম্ভব এবং হচ্ছে আওয়ামী লীগের কল্যানে। আওয়ামী লীগ আছে বলেই দেশ সম্মানের জায়গায় পৌছে গেছে। ভারতের লোকেরা এখন আমাদের হিংসা করে।

পাকিস্তানের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলছেন, ‘পাকিস্তান ভেঙে তিন টুকরা হবে।’ আরো তিন টুকরা হবে। এই রকম অবস্থায় শ্রীলংকা ধুকছে। বাংলাদেশ কিন্তু মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এইটায় কারো কারো সহ্য হচ্ছে না। কারণ কেউ চায় আমরা হাত পেতে ভিক্ষা নিয়ে আসি, সেই ভিক্ষার চাল, সেই ভিক্ষার গম লুটপাট করে খাব। এ রকম মানসিকতা যাদের আছে, তারা মানুষ না। তারা বাংলাদেশের ভালো চায় না, কল্যান চায় না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চেয়ে রাসিক মেয়র বলেন, আজকে আমরা সর্বক্ষেত্রে সবল হচ্ছি। সেই সবলতা ধরে রাখতে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা আবারো যেন আপনাদের দোয়ায়, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইশরায় আরেকবার যেন ক্ষমতায় আসতে পারেন, সেই দোয়া আমরা সবাই করি।

দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধিতে সমালোচনাকারীদের জবাবে রাসিক মেয়র বলেন, দ্রব্য মূল্যের দাম নিয়ে কেউ কেউ কথা বলছে। আমি তাদের বলতে চাই দ্রব্য মূল্য এমন একটা জিনিস তার দাম কখনো সমান থাকে না। কখনো একটু উঠে, কখনো নামে। আবার উঠে, আবার নামে। পাকিস্তানে যে চালের দাম, ভারতে যে চালের দাম, তার চেয়ে আমাদের চালের দাম কম।

দ্রব্যের দাম সাময়িক বৃদ্ধি হতেই পারে। সেটা নিয়ন্ত্রণে সরকারের সদিচ্ছা আছে, সরকার কাজ করছে, ইনশাল্লাহ সবই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

খালেদা জিয়ার উদ্দেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করবেন না। ভালো হবে না। খালেদা জিয়া আপনি শেখ হাসিনার কারণেই আজকে কিন্তু আপনি বাড়িতে আছেন, আপনার বাড়িতে থাকার কথা না, আপনার জেলখানায় থাকার কথা। আপনি জামিন পেয়েছেন, ভালো আছেন, ভালো থাকেন। কিন্তু আপনার ওই সন্তানকে এখান থেকে বলে দিয়েন, বাপ তোকে আর রাজনীতি করতে হবে না। অনেক করেছিস, আর বাংলাদেশের মানুষের ভালো করতে হবে না। এইটা বলে দেন, তাহলে দেশ ও জাতি ভালো থাকবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, রেজাউল ইসলাম বাবুল, ডাঃ তবিবুর রহমান শেখ, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আসাদুজ্জামান আজাদ, আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আসলাম সরকার, আজিজুল আলম বেন্টু, মীর ইসতিয়াক আহমেদ লিমন, দপ্তর সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম বুলবুল, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মীর তৌফিক আলী ভাদু, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ কবির সেন্টু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম রবি, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক পংকজ দে, উপ-প্রচার সম্পাদক সিদ্দিক আলম, সদস্য জহির উদ্দিন তেতু, শাহাব উদ্দিন, আশরাফ উদ্দিন খান, এ্যাড. শামসুন্নাহার মুক্তি, নজরুল ইসলাম তোতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মান্নান, আতিকুর রহমান কালু, হাফিজুর রহমান বাবু, বাদশা শেখ, মজিবুর রহমান, আলিমুল হাসান সজল, জয়নাল আবেদীন চাঁদ, ইউনুস আলী, মোখলেশুর রহমান কচি, এ্যাড. রাশেদ-উন-নবী আহসান, কে এম জুয়েল জামান, থানা আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজপাড়া থানার সাধারণ সম্পাদক শেখ আনসারুল হক খিচ্চু, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানার সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ, বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানার সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান রতন, মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, শাহ্মখদুম থানার সাধারণ সম্পাদক শাহাদত আলী শাহু, নগর শ্রমিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওয়ালী খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শরীফ আলী মুনমুন, নগর কৃষক লীগ সভাপতি রহমতউল্লাহ সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সাকের হোসেন বাবু, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আব্দুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, নগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সালমা রেজা, সাধারণ সম্পাদক কানিজ ফাতেমা মিতু, নগর যুব মহিলা লীগ সভাপতি এ্যাড. ইসমত আরা, সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন নিলু, নগর ছাত্রলীগ সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক ডাঃ সিরাজুম মুবিন সবুজ প্রমুখ।