নগর আ’লীগ ও এমপি আয়েনের সংবাদ সম্মেলন আব্বাসকে দ্রুত গ্রেফতার ও দল থেকে আজীবন বহিস্কার দাবি

আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১, ১০:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীকে গ্রেফতার ও দল থেকে বহিস্কারের দাবিতে নগরীতে পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার।

লিখিত বক্তব্যে ডাবলু সরকার বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কাটাখালি পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আব্বাস আলীর ধৃষ্টতাপূর্ণ অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অনুভূতি ও আবেগের জায়গা। তাকে নিয়ে কটূক্তি ও অশোভন মন্তব্য করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আব্বাসের এহেন কটূক্তি অবমাননাকর মন্তব্যে সারাদেশের মানুষের ন্যায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ চরমভাবে মর্মাহত। তাকে সংগঠনের পদ ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের পাশাপাশি তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টামূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

লিখিত বক্তব্যে ডাবলু সরকার আরও বলেন, জাতীয় নেতা বরেন্দ্র ভূমির শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী মহানগরীকে আধুনিক তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে রাজশাহী মহানগরের মূল প্রবেশ দ্বারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপনের পাশাপাশি সৌন্দর্য বর্ধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এর প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালকে নিয়ে আব্বাসের ঔদ্ধত্যপূর্ণ অবমাননার মন্তব্য জাতি সমর্থন করে না। তার এহেন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য দেশের সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে ইন্ধন যোগাবে।

আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম যখন জাতি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী “মুজিববর্ষ” এবং স্বাধীনতা ও বিজয়ের সূবর্ণজয়ন্তী পালন করছে। যখন জাতিসংঘের ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ওর্য়াল্ড হেরিটেজ “বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল” হিসেবে স্বীকৃতির পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর নামে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে। যখন সারাবিশ্ব বঙ্গবন্ধুর দর্শণ নিয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা পরিচালনা করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের ভিতরে ঘাপটি মেরে থাকা খুনী মোসতাক এর প্রেতাত্মা আব্বাসের এ ধরনের ঘৃণ্য মন্তব্য দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ, রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করাসহ দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও আওয়ামী লীগের ঐক্য বিনষ্ট করার অপচেষ্টার অংশ। রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ খুনী মোসতাকের প্রেতাত্মা আব্বাসের মত কুচক্রী ব্যক্তি ও গোষ্ঠির অশুভ তৎপরতা থেকে সতর্ক থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। এই সংবাদ সম্মেলনে মহানগর আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অপরদিকে, মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আয়েন উদ্দিন। এদিন দুপুরে একটি রেস্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংসদ আয়েন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অনুভূতি ও আবেগের জায়গা। তাকে নিয়ে কটূক্তি ও অশোভন মন্তব্য করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আব্বাসের এমন কটূক্তি ও অবমাননাকর মন্তব্যে সারাদেশের মানুষ চরমভাবে মর্মাহত। তার ধৃষ্টতাপূর্ণ অশালীন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবনের জন্য শুধু বহিষ্কারও নয়- দ্রুত গ্রেফতার করে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

মেয়র আব্বাস আলীকে গ্রেফতারে বিলম্ব প্রসঙ্গে সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, জনপ্রতিনিধিদের গ্রেফতার করতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রক্রিয়া চলমান আছে। দ্রুতই সে আইনের আওতায় আসবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য সাংসদ আয়েন বলেন, ‘কাটাখালী মেয়র আব্বাস একজন কুলাঙ্গার’। এই ধরনের কুলাঙ্গাররা বাঙালি জাতিকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য জাতির পিতাকে নিয়ে বার বার কথা বলে। জাতীয় চার নেতার অন্যতম এএইচএম কামরুজ্জামান এঁর সুযোগ্য পুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ভাই আমার রাজনৈতিক গুরু। তাঁর সম্পর্কেও কটূক্তি করেছে এই কুলাঙ্গার আব্বাস। জাতির পিতাকে নিয়ে যে কটূক্তি আব্বাস করেছে তার জন্য আমি সাংগঠনিকভাবে শাস্তির পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনের মধ্য দিয়েও শাস্তি দাবি করছি।

তারপরও তাঁকে দুইবার নৌকা দিয়ে মেয়র করা এবং সুসম্পর্ক থাকার বিষয়ে সাংসদ আয়েনের কাছে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। এই প্রসঙ্গে এমপি আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না। যদি বুঝতেই পারতাম তাহলে বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারী খন্দকার মোশতাককেও চিনতে পারতাম। আমরা কিন্তু বুঝিনি খন্দকার মোশতাকের হৃদয়ে এতবড় নিষ্ঠুরতা লুকিয়ে আছে।’

সাংসদ আয়েন আরো বলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন আব্বাস আলী নগর যুবলীগের সহ-সভাপতি। তারপর ২০১৫ সালে নৌকা পেয়েছে। এ রকম হয় যে দুই ভাই দুই দল করে। পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে সে নৌকা পেয়েছে। এখন কেউ যদি নৌকা পায়, তখন তাঁর জন্য কাজ করতে হয়। আমার কাছে নৌকা প্রতীকটাই বড়, ব্যক্তি নয়।’
অডিওটির বিষয়ে সাংসদ আয়েন উদ্দিন বলেন, ‘আমি অডিওটি শুনেছি। সেটা আব্বাসেরই।’ আব্বাস আলী পৌর এলাকায় গেট নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণ করবেন না বলে ওই অডিও রেকর্ডে শোনা গেলেও সাংসদ আয়েন উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে কাটাখালীতে গেট নির্মাণ করবেন এবং সেখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থাকবে।

এমপি আয়েন আরও বলেন, রাজশাহীর প্রবেশ মুখে যে গেট এবং সেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণে প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছে মেয়র আব্বাস সেই গেট এবং বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল আমি নির্মাণ করার ব্যবস্থা নিব। ইতোমধ্যে এর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেহেতু সেটি করপোরেশনের তিন দিকই আমার নির্বাচনী এলাকা সেহেতু বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ তিনিটি প্রবেশ গেটই করার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ