নতুন কমিটিতে স্থান হয়নি হেফাজতের যেসব জাদরেল নেতার

আপডেট: জুন ১০, ২০২১, ৬:২৬ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক:


হেফাজতে ইসলামের ৩৩ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে গত সোমবার (৭ জুন)।
এর আগে ধরপাকড়ের মুখে গত ২৬ এপ্রিল সংগঠনের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি বিলুপ্ত করেন।
একই দিন পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। গত সোমবার ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট যে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে ওই কমিটিতে কারাগারে থাকা কোনো নেতাকে রাখা হয়নি। এমনকি হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি হত্যা মামলার যারা আসামি, তাদেরও রাখা হয়নি।
এ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে নবগঠিত কমিটির মহাসচিব আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, কাউকে বাদ দেওয়া না দেওয়ার কোনো বিষয় নেই। আগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। নতুন করে কমিটি করা হয়েছে। এতে বাদ পড়ার কোনো বিষয় নেই।
জানা গেছে, নবগঠিত কমিটি ঘোষণার পরপরই তারা এক সভায় বসেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের জানান, নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়েছে। অবশ্য এর পক্ষে তাদের জোড়ালো কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার (৭ জুন) খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদরাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে আরও লোক যোগ করা হবে। তবে নবগঠিত কমিটিতে রাখা হয়নি দলটির বিলুপ্ত কমিটির আলোচিত নেতা কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে। এছাড়া ঢাকা মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকেও নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি। তিনিও কারাগারে আছেন। এ দু’জন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির বড় পদে না থাকলেও তাদের প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।
অন্য যে প্রভাবশালী নেতা বাদ পড়েছেন তার মধ্যে মুফতি আমিনীর জামাতা হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির সহকারী মহাসচিব বিশিষ্ট ওয়ায়েজিন হিসেবে পরিচিত মুফতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন রাজী এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী রয়েছেন। বাদ পড়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, হাসান জামিল, মুফতি হারুন ইজহার, নাছির উদ্দিন মুনির, মুফতি মুনির হোসাইন কাসেমী, সহকারী অর্থ সম্পাদক- মাওলানা হাফেজ মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা লোকমান মাজহারী, মাওলানা মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ, মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস হামেদী।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফী মারা যান। এরপর থেকেই সংগঠনটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। গত বছরের ১৫ নভেম্বর ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কমিটি ঘোষণা করেন সাবেক মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী। সেখানে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীসহ শফী অনুসারী কাউকে রাখা হয়নি। বাবুনগরীকে আমির ও প্রয়াত মুফতি নূর হোসাইন কাসেমীকে মহাসচিব করে ওই কমিটি করা হয়। এক মাসের মাথায় ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর নূর হোসাইন কাসেমী মারা যান। এর পর খিলগাঁও মাদরাসার অধ্যক্ষ আল্লামা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছিল। নবগঠিত কমিটিতেও তিনিই আবার মহাসচিব হয়েছেন।
জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর কমিটির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মাওলানা জুনায়েদ গোলজার বাংলানিউজকে বলেন, যাদের মধ্যে নূন্যতম নীতি নৈতিকতা নেই, তাদের সঙ্গে সংগঠন করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। আমি মূলত ২০১৩ সাল থেকে এসব সংগঠন থেকে দূরে আছি।
তিনি বলেন, একটা দল তার একজন কর্মীর জন্য সব বিসর্জন দেয়, যুগ যুগ কষ্ট করে। আর তারা এতগুলো লোককে ভাসিয়ে দিয়ে কমিটি করে। এটা কোনো নীতি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।
মাওলানা গোলজার বলেন, এটা অনেক বড় কথা হয়ে যায়, কিন্তু তাদের সম্পর্কে কি আর বলব, তারা বড় বড় আলেম বুজুর্গ হতে পারেন। কিন্তু সমসাময়িক রাজনৈতিক সচেতনতা তাদের মধ্যে শূন্য।
তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ