নতুন বছরের ১ম মাসে ২৭ নারী-শিশু নির্যাতনের শিকার

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২০, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


রাজশাহীতে নতুন বছরের প্রথম মাসে ২৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫টি নারী ও ১২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। গত জানুয়ারি মাসের স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদপত্রসমূহ এবং এসিডি’র নিজস্ব প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে রাজশাহীর বেসরকারি উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট এসিডি জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। তবে উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার লফস এর তথ্য মতে গত মাসে রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার ২৩ জন।
যারমধ্যে হত্যার ঘটনা ৩টি, আত্মহত্যা ৪টি, আত্মহত্যা চেষ্টা ২টি, ধর্ষণ-যৌন নির্যাতন ও নির্যাতন ১০টি, পর্নোগ্রাফি ১টি এবং নিখোঁজ ৩ জন নারী ও শিশু।
এডিসির তথ্য মতে, জানুয়ারি মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে গত ৩ জানুয়ারি বাগমারায় গাছে বেঁধে নির্যাতনের বঞ্চনা সহ্য করতে না পের নারীর আত্মহত্যা, ৫ জানুয়ারি দূর্গাপুর ও বাঘায় দুই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬ জানুয়ারি গোদাগাড়ীতে নারীর কান ছিড়ে নেয়ার অভিযোগ, ৭ জানুয়ারি গোদাগাড়ীতে মাদকাসক্ত ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু, ৮ জানুয়ারি গোদাগাড়ীতে কাউন্সিলরের বাড়িতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার, ১২ জানুয়ারি তানোরে গলায় ফাঁস দিয়ে নববধুর আত্মহত্যা, ১৩ জানুয়ারি বাঘায় গলায় ফাঁস স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা, ১৫ জানুয়ারি শোবার ঘর থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার, একই দিন বাঘায় উত্যেক্তের প্রতিবাদ করায় মামাকে কুপিয়ে হত্যা, ১৯ জানুয়ারি চারঘাটে কলেজছাত্রীকে উত্যক্তের জেরে এক ছাত্রের ৬ মাসের কারাদণ্ড, ২০ জানুয়ারি নগরীতে শ্যাম্পু পান করে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা, ২৩ জানুয়ারি বাগমারায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ, ২৪ জানুয়ারি মোহনপুরে প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের দৃশ্য ইন্টারনেটে প্রকাশ, ২৮ জানুয়ারি একই উপজেলায় গৃহবধুকে ধর্ষণের পর নগ্ন ছবি ভাইরালের অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার, একই দিন চারঘাটে স্কুলছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এক ছাত্রলীগ নেতা এবং ২৯ জানুয়ারি এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার এবং ৩০ জানুয়ারি নগরীতে জামায়াত নেতার হাতে এক নারী মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার ।
জেলায় জানুয়ারি মাসে ১৫টি নারী নির্যাতনের ঘটনার মধ্যে নগরীর থানাগুলোতে ১টি নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জেলার বাগমারায় ২টি, বাঘায় ১টি, মোহনপুরে ২টি, চারঘাটে ২টি, গোদাগাড়ীতে ৩টি, পবায় ১টি, দূর্গাপুরে ১টি, তানোরে ২টি ঘটনা ঘটে। তবে জানুয়ারিতে জেলার পুঠিয়া উপজেলায় কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি।
জেলায় গত মাসে শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে ১২টি। এসব ঘটনার মধ্যে নগরীর থানাগুলোতে সংঘটিত হয়েছে ২টি এবং নগরীর বাইরের থানাসমূহে সংঘটিত হয়েছে ১০টি নির্যাতনের ঘটনা। এরমধ্যে বাগমারায় ২টি, বাঘায় ২টি, মোহনপুরে ১টি, চারঘাটে ২টি, গোদাগাড়ীতে ২টি এবং দূর্গাপুরে ১টি ঘটনা ঘটে। তবে জেলার পুঠিয়া, পবা ও তানোরে কোনো শিশু নির্যাতনের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার লফস এর তথ্যমতে, আলোচিত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো হলো, গোদাগাড়ীর খারিজাগাতি মোল্লা পাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষরা ইতি বেগমের কান ছিরে নিয়ে যায়, একই উপজেলার পৌর এলাকায় শ্রীমন্তপুর গ্রামে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা শঙ্করা রানী খুন, বাঘায় হিজল পল্লী গ্রামে ফাল্গুনি খাতুনকে হত্যার অভিযোগ, মোহনপুরের গোছা খন্দকার পাড়া গ্রামে স্ত্রী কামরুন্নাহার তাজরীনকে শ^াসরোধ করে স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনা।
এ বিষয়ে লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, সংবাদ পত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অনেক ঘটনা ঘটে যা প্রকাশিত হয় না বা কোন তথ্য জানা যায় না। এমন বাস্তবতায় রাজশাহীতে নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রকাশিত তথ্য হতাশাজনক। রাজশাহী অঞ্চলে নারী-শিশু নির্যাতনসহ সার্বিক ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।
তিনি আরো বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রমশই অপরাধীরা উৎসাহিত হবে এবং অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। লফস সকল নারী-শিশু নির্যাতন ঘটনাগুলোর সুষ্ঠ তদন্ত স্বাপেক্ষে অপরাধীর কঠোর শাস্তির দাবী জানায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ