নতুন বছরে সরকারি ছুটি ২২ দিন

আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০১৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
আসছে নতুন বছরে মোট ২২ দিন সরকারি ছুটি ভোগ করবে বাংলাদেশ; যার মধ্যে ১০ দিনই পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৭ সালের ছুটির তালিকা অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৭ সালের জন্য ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে আট দিন সরকারি ছুটি মিলিয়ে মোট ২২ দিন ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ১০ দিনই শুক্র-শনিবার।
জাতীয় দিবস ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান মিলিয়ে এবার সাধারণ ছুটি ১৪ দিন, এসব ছুটির মধ্যে ছয় দিন পড়েছে শুক্র-শনিবার। বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে আট দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে চারটি ছুটির দিন হবে শুক্রবার। বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত কর্মচারীদের ধর্মীয় পর্ব উপলক্ষে এবারও তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি বলেন, “পার্বত্য এলাকা বা এর বাইরে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি উপলক্ষে দুই দিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে একদিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি।” সাপ্তাহিক ছুটি বাদে ২০১৬ সালেও ২২ দিন সরকারি ছুটি ছিল, যার চার দিনের ছুটি পড়েছিল সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে।
বাংলা একাডেমি, ধর্ম মন্ত্রণালয়, আবহওয়া অধিদপ্তরের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভা ২০১৭ সালের সরকারি ছুটি নির্ধারণ করেছে বলে সচিব জানান।- বিডিনিউজ
বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে গত ৮ বছরে সরকার ৫ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে
ঢাকা, ২৪ নভেম্বর, ২০১৬ (বাসস): বিগত ৮ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে ৫ হাজার ৬৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।
সরকার ৮ বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, ইবতেদায়ী,দাখিল ও কারিগরি ট্রেড স্তরে প্রায় ২২৫ কোটি বই বিতরণে এ অর্থ ব্যয় করে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ন চন্দ্র সাহা বাসসকে জানান, দেশের উন্নয়নে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই, বর্তমান সরকার এ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সবার জন্য শিক্ষা বাধ্যমূলক করেছে। আর্থিক অসঙ্গতির কারণে কারো যেন শিক্ষালাভে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করে চলেছে।
বিশ্ব দরবারে বাঙালী জাতিকে মাথা উচুঁ করে দাঁড় করাতে শিক্ষায় এ অর্থ সরকারের ব্যয় নয় বরং বিনিয়োগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দূরর্শিতার ফল জাতি একদিন অবশ্যই ভোগ করবে।
চেয়ারম্যান বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষসহ ৮ বছরে (২০১০-১৭) সরকার এনসিটিবি’র মাধ্যমে ২২৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৪টি বই বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৬৫৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।
তিনি বলেন, আগামী ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই বিনামূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে প্রস্তুত করতে সরকার ৯৯১ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়ন করেছে।
নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে অর্থাৎ ২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৩ কোটি ৯১ লাখ ৯৪ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩৩ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৩৫টি বই বিতরণে সরকার ৮০৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সরকার ৪ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৪৩৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩২ কোটি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৪টি বই এবং ২০১৪ শিক্ষাবর্ষে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৩১ কোটি ৭৮ লাখ ১২ হাজার ৯৬৬টি বই প্রস্তুতে যথাক্রমে ৭৪২ কোটি ৯৫ লাখ ও ৭৬১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে।
চেয়ারম্যান বলেন, এভাবে সরকার ২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৬ হাজার ১৭২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬টি বই প্রস্তুতে ৬৭০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, ২০১২ শিক্ষাবর্ষে ৩ কোটি ১২ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ২২ কোটি ১০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৩৩টি বই বিতরণে ৬২৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা, ২০১১ শিক্ষাবর্ষে ৩ কোটি ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৩২১ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪টি বই তৈরিতে ৬০৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ২০১০ শিক্ষাবর্ষে ২ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ৫২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১টি বই বিনামূল্যে বিতরণে ৪৫০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় করে।
চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, সরকারের এ দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পরার হার কমে ১% ভাগেরও নিচে এসেছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছেলে-মেয়ের উপস্থিতিতে সমতা এবং আগামী ২/৩ বছরের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকেও ছেলেমেয়ের শিক্ষার হারে সমতা ফিরে আসবে।- বাসস