বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিবাদ || হঠাৎ করেই রাজশাহীতে বাস ধর্মঘট, দুর্ভোগে যাত্রীরা

আপডেট: November 19, 2019, 12:51 am

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঘোষিত কর্মসূচি ছাড়াই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি মুখে পড়ে যাত্রীরা-সোনার দেশ

নতুন পরিবহন আইনের ভয়ে রাজশাহীতে হঠাৎ করেই সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছেন শ্রমিকরা। ফলে সকাল থেকেই রাজশাহীর সাথে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, নতুন আইনে চালকদের জরিমানা ও শাস্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় সড়কে বাস চালাতে ভয় পাচ্ছেন তারা। তারা নতুন আইন বাতিলের দাবি জানান।
গতকাল সোমবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই রাজশাহী থেকে ঢাকাসহ আভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছিলো। কিন্তু হঠাৎ করেই পূর্ব ঘোষণা ছাড়া সকাল ১০টার পর থেকে বাস চালানো বন্ধ করে দেয় কিছু শ্রমিক। পরে তারাই আবার অন্য চালকদেরও বাধ্য করেন বাস চালানো বন্ধ করতে। এমনকি যেসব গাড়িতে যাত্রী উঠানো হয়েছিলো তাদের বাস থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দেয় তারা। তবে শুরুতে আন্তঃউপজেলা বাস চলাচল বন্ধ হয়। এরপর আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে লোকাল কোচগুলো ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে না গেলেও বিলাসবহুল কোচগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। এছাড়া আভ্যন্তরীণ রুটে বিআরটিসির বাসগুলো চলাচল করতে দেখা গেছে।
গতকাল দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শিরোইল বাস টার্মিনালে আন্তঃউপজেলার বাসগুলো আটকা রয়েছে। সেখান থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। দুপুর ১২টার দিকে শিরোইল বাস টার্মিনালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন চালক এই প্রতিবেদককে জানান, তারা সবাই আমনুরা, ভবানীগঞ্জ, তাহেরপুর, বাঘা ও চারঘাট রুটে বাস চালান। সব বাস সকাল থেকেই চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকার নতুন যে পরিবহন আইন করেছে তার প্রতিবাদে এই ধর্মঘট। জরিমানা ও শাস্তির মেয়াদ বাড়াতে তারা ভয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
নগরীর ভদ্রা মোড় থেকে রংপুর, পাবনা ও কুষ্টিয়া রুটের বাস ছেড়ে যায়। সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে যায়, একটি বাস পাবনায় ও একটি নাটোরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। বাসের এক হেলপার বলেন, সব বাস চলাচলই বন্ধ রয়েছে। আমরা যারা রাজশাহীর বাইরে থেকে ট্রিপ নিয়ে এসেছি তাদের ২টার মধ্যে বাস নিয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এরপর আর বাস চলাচলের সুযোগ নেই। নিজ শহরে ফিরে গিয়ে আমরাও বাস চলাচল বন্ধ করে দিবো।
রেলগেট মোড় থেকে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চলাচল করে। সেখানে গিয়ে কোনো বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি। এইসব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটের বাস চালক মো. খলিল বলেন, এক ট্রিপ বাস নিয়ে গেলে ৫০০ টাকা ভাড়া পাই। অথচ জরিমানা করবে ২৫ হাজার টাকা। এই টাকা কোথা থেকে দিবো। সংসার চালাবো কীভাবে? আর জেল দিলে তো উপার্জনের পথই বন্ধ হয়ে যাবে।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলী বলেন, বাস চালকরা নিজে থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের সাথে আলোচনাও করেনি। শ্রমিকদের সাথে কথা বলে যেটুকু মনে হয়েছে, তারা নতুন পরিবহন আইনের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও পাঁচ বছরের শাস্তির ভয়েই বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে কিছু কিছু বাস চলাচলও করছে।
রাজশাহী পরিহন মালিক সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাফকাত মঞ্জুর বিপ্লব বলেন, নতুন আইনে নিয়ে চালকরা আতঙ্কিত। এইজন্য তারা সড়কে বাস চলাচল করতে চাচ্ছেন না। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট নিয়েও নানা ধরনের জটিলতা আছে। বাসের রুট পারমিট ও ফিটনেসও নিয়ে ব্যাপক জটিলতা রয়েছে। এক জেলার রুট পারমিট থাকলে তো অন্য জেলার বাস চলাচলের রুট পারমিট পাওয়া যায় না।
এদিকে হঠাৎ করেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অনেক যাত্রীকে বাধ্য হয়েই যাত্রা বাতিল করতে হয়। বিআরটিসি বাস ও ট্রেনে গাদাগািিদ করে যাত্রীদের চলাচল করতে দেখা গেছে। আর অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুণে ইজিবাইকে চলাচল করতে হয়েছে। রেলগেট সিএনজি স্টেশনে দেখা গেছে, সিএনজি স্টেশনের বাইরেও অনেক ইজিবাইক চালক যাত্রী নিয়ে মান্দা ও নওগাঁয় যাচ্ছেন। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরেও যাত্রীদের ইজিবাইক ও ভটভটিতে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।
তৌফিক আলী নামের এক যাত্রী বলেন, আমার নাটোরে যাওয়া খুবই জরুরি। কিন্তু বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আমাকে ইজিবাইকে যেতে হবে। এছাড়া কোনো উপায় দেখছি না। এখন দরকার হলে ‘কাটা ভাবেও’ যেতে হবে।
আমেনা বেগম নামের এক মধ্যবয়সি নারী তার দুই নাতিকে নিয়ে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বাস না থাকায় তিনি গোদাগাড়ীর ইজিবাইকে উঠেছেন। তিনি বলেন, গোদাগাড়ী পর্যন্ত এই অটোরিকশায় যাব, এরপর গোদাগাড়ী থেকে অন্য কোনো যানবাহনে যাব।
এদিকে নতুন সড়ক পরিবহন আইন মেনে চলার জন্য গতকাল নগরীতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে মাইকিং করা হয়েছে।