ননিকা হত্যা : কথিত প্রেমিকসহ চারজনকে গ্রেফতার

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২১, ১:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


ননিকা হত্যা : কথিত প্রেমিকসহ চারজনকে গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ননিকা হত্যার সাথে জড়িত কথিত প্রেমিকসহ পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে। রোববার (১৮ এপ্রিল) ভোরে নাটোরের লালপুর এলাকার বোনের বাড়ি থেকে রাজশাহীর পিবিআই পুলিশ মূল আসামি নিমাইচন্দ্র সরকার (৪৩) কে গ্রেফতার করে। আসামি পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার চরাডাঙ্গা এলাকার মৃত হেমান্ত সরকারের ছেলে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে দশটায় নগরীর শাহমখদুম থানাধীন সিটিহাট এলাকার পশ্চিমে ইউনাইটেড কলেজের সামনে উত্তর পার্শ্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী বাইপাস মহাসড়কে কালভার্টের নীচে চালের ড্রামের মধ্যে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
কথিত প্রেমিক নিমাই চন্দ্র সরকারের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত অপর তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এরা হলো- রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার আদারীপাড়ার কবির আহম্মেদ (৩০), রাজপাড়া থানার শ্রীরামপুর এলাকার সুমন আলী (৩৪) এবং মাইক্রোবাস চালক বিলশিমলা এলাকার আব্দুর রহমান (২৫)। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজশাহী পিবিআই-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধারকৃত লাশ শনাক্তের জন্য রাজশাহী পিবিআই এর একটি চৌকশ পুলিশ টিম ঘটনাস্থল হতে লাশের আঙ্গুলের ছাপের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। ভিকটিম ঠাকুরগাঁ সদর থানার মিলনপুর গ্রামের নিপেন চন্দ্র বর্মণের মেয়ে শ্রীমতি ননিকা রানী রায় (২৪)। ভিকটিমের মোবাইল ও ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ এর মাধ্যমে অভিযুক্ত কনস্টেবল নিতাইকে শনাক্ত করা হয়।
তিনি জানান, ভিকটিমের পরিচয় শনাক্তের পর পিবিআই টিম পাবনা ও নাটোর জেলায় অভিযান পরিচালনা করে নিমাই চন্দ্র সরকার (৪৩) কে গ্রেফতার করে। সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয় স্বীকার করেছে।
আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিমাই চন্দ্র ১৯৯৭ সালে রাজশাহী রেলওয়ে থানার জিআরপি পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে যোগদান করে। তার স্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নার্সের কাজ করেন এবং তার একটা সন্তান আছে।
পিবিআই জিজ্ঞাসাবাদে আরোও জানা যায়, ভিকটিম ননিকা রানীর সাথে তার আনুমানিক ৬-৭ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বসবাস করতেন। সেই কারণে ননিকা রানী আসামি নিমাইকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। পরে ওই বাড়িতে আসামি সুমন ও কবির এর সহযোগিতায় ভিকটিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ড্রামে ভরে ঘটনাস্থলে ফেলে আসে। আসামিদের প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানান রাজশাহী পিবিআই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আযাদ।