নন্দনগাছীতে সুগারক্রপের আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি বিষয়ক চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

আপডেট: জুলাই ১, ২০১৭, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


সুগারক্রপের আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি বিষয়ক চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধান অতিথি ড. সমজিৎ কুমার পাল-সোনার দেশ

চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের নন্দনগাছী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে সুগারক্রপের আধুনিক চাষাবাদ প্রযুক্তি ও কলাকৌশল বিষয়ক চাষি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) এর ‘সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ (এসআইআরএফ)’ প্রকল্পের অর্থায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, এসআইআরএফ প্রকল্প পরিচালক ড. সমজিৎ কুমার পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন, নিমপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন বিএসআরআই এর উপশহরস্থ রাজশাহী উপকেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচএম আল আমিন। এছাড়াও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইয়ুম হোসেন ও মো. রাশেদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ১০০ জন আখ চাষি অংশ নেয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, মানব মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রতি বছর জনপ্রতি ১৩ কেজি চিনি/গুড়ের প্রয়োজন। অতএব ১৬ কোটি মানুষের প্রতি বছর চিনি/গুড়ের চাহিদা প্রায় ২১ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত হয় গড়ে এক লাখ টন চিনি এবং পাঁচ লাখ টন গুড়। বাকি প্রায় ১৫ লাখ টন চিনি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য অবশ্যই রূগ্ন চিনি শিল্পকে পুনর্জীবিত করতে হবে। সেজন্যে বিএসআরআই উদ্ভাবিত অধিক চিনিধারণক্ষম আধুনিক আখের জাত চাষ করতে হবে এবং অন্যান্য প্রযুক্তিসমূহ যথাসময়ে সার্থকভাবে জমিতে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া স্বল্পসময়ে চাষযোগ্য সুগারবিটের চাষাবাদ বাড়াতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এইচএম আল আমিন বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে উঁচু জমিতে চিবিয়ে খাওয়া আখ চাষ করলে বছরে বিঘাপ্রতি কমপক্ষে এক লাখ টাকা লাভ পাওয়া যায় এছাড়া সাথী ফসল হিসেবে আলু, পোঁয়াজ, রসুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি প্রভৃতি ফসলের চাষ এনে দিতে পারে অর্ধ লক্ষ টাকার বাড়তি লাভ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় হাইড্রোজমুক্ত স্বাস্থ্যসম্মত দানাদার গুড় উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রযুক্তি, আখ চাষ যান্ত্রিকীকরণ, সমন্বিত পদ্ধতিতে আখের রোগ-পোকা দমন, খেজুর গাছ হতে নিপা ভাইরাসমুক্ত রস আহরণ কৌশল, সুগারবিট, তাল, খেজুর, গোলপাতা, স্টেভিয়া ফসলের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ এবং যষ্টি মধু, মধু বিষয়ক বর্তমান গবেষণা অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিষদভাবে প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিজ্ঞানীগণ চাষিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। সমাপনী বক্তব্যে নিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান নন্দনগাছীতে এধরনের একটি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। নিঃসন্দেহে এ আয়োজন আখ চাষিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং এ প্রযুক্তিসমূহ মাঠে প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করবে। ফলত চাষিরা আরও লাভবান হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ